লকডাউনে কর্মহীন শ্রমিক

স্টাফ রিপোর্টার
লকডাউনে নির্মাণ, হোটেল, মাটিকাটা শ্রমিক ও দোকান কর্মচারীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বেশীরভাগ শ্রমিকদের সাময়িক ছুটিতে পাঠিয়েছেন মালিকরা। কাজে যেতে না পারায় স্থানীয় দোকান মালিকেরাও নগদ টাকা ছাড়া মালামাল দিচ্ছেন না তাদের। দিন মজুরেরা ঋণগ্রস্ত হয়ে এখন সংসার চালাচ্ছেন।
একাধিক শ্রমিক জানান, গত বছর লকডাউনে তারা যে ঋণগ্রস্ত হয়েছিলেন, এখনও সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি না। এবার নতুন করে লকডাউন দেয়ায় পড়েছেন মহাবিপদে।
জানা যায়, লকডাউনে ব্যবসা বন্ধ থাকায় বিত্তশালীরা পড়েছেন হিসাবে। মাটি শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর ইচ্ছে থাকলেও এখন করাচ্ছেন না তাঁরা। যদি লকডাউন বাড়ানো হয় তখন নিজেই পড়বেন বিপাকে। দোকানপাট বন্ধ থাকায় রড সিমেন্ট ক্রয় করতে পাচ্ছেন না বিত্তশালীরা। নির্মাণ কাজ না হওয়ায় নির্মাণ শ্রমিকেরা হয়ে পড়েছেন বেকার।
একই অবস্থায় হোটেল রেস্তোরায় বসে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। জরিমানা বা শাস্তির আতংকে হোটেল রেস্তোরার দরজা বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। লকডাউনে শ্রমিকদের বিনা বেতনে সাময়িক ছুটি দিয়েছেন একাধিক হোটেল ব্যবসায়ী। এসব শ্রমিক এখন সংসার নিয়ে পড়েছেন মহাবিপদে।
নিজের প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে লকডাউনে দোকান মালিকেরা কর্মচারীদের বিনা বেতনে সাময়িক ছুটি দিয়েছেন। ছুটিতে থাকা কর্মচারীরাও পড়েছেন নানা দুশ্চিন্তায়। কোনো কোনো অসাধু মালিকেরা গত মার্চ মাসের অর্ধেক বেতন চলতি মাসে পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে সাময়িক ছুটি দিয়েছেন বলেও একাধিক বেকার কর্মচারী জানিয়েছেন।
এই লকডাউনে ধানকাটা শ্রমিকও এখন বেকার। যানবাহন না চলায় দূরপাল্লার হাওরে যেতে পারছেন না তারা। তাদের জীবন জীবীকায় এখন দুর্বিষহ চলছে।
কাইমতর গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক রিপাত আলী বলেন, আমার পরিবারে ২ ছেলে, ১ মেয়ে রয়েছে। আমি দিনে আনি, দিনে খাই, এমন অবস্থা আমার। এখন লকডাউনে বেকার হয়ে পড়েছি। গত বছরের লকডাউনের ঋণ এবারও শেষ হয়নি। নতুনভাবে ঋণগ্রস্ত হচ্ছি।
অপর নির্মাণ শ্রমিক ছায়াতুন নেছা বলেন, আমার এক মেয়ে নিয়ে সংসার। লকডাউনে আমি বেকার হয়ে পড়েছি। এখন আমার মেয়েকে কি খাওয়াবো, এ নিয়ে চিন্তায় আছি।
বিধবা রহিমা খাতুন বলেন, আমার পরিবারে ৩ সন্তান। আমি প্রতিদিন মাটির কাজ করে সংসার চালাই। লকডাউনে এখন কাজ করাচ্ছে না কেউ। আমি বেকার। হাওলাতি ঋণ করে সংসার চালাচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে বসতভিটা বিক্রি করতে হবে।
শহরের হোটেল শ্রমিক রনজিত পাল বলেন, লকডাউনে হোটেল বন্ধ। তাই সাময়িক ছুটিতে আছি। দীর্ঘ মেয়াদি লকডাউন হলে পথে বসতে হবে। এমন কথা জানালেন হোটেল শ্রমিক নিখিল রায়।
জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল আহমদ বলেন, লকডাউন হলে শ্রমিকেরা পড়েন বিপাকে। এই লকডাউন দীর্ঘ হলে সাংসারিক খরচ যোগান দেয়ার সমস্যা বাড়বে শ্রমিকদের।