লকডাউনে মৌসুমি ফলের ব্যবসায়ীরা বিপাকে

আকরাম উদ্দিন
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দেশব্যাপী লকডাউনের কারণে এবার ফল ব্যবসায়ীরা পড়েছেন মারাত্মক বিপাকে। যানবাহনে করে বাইরের জেলার ফল আনতে পড়েছেন নানা সমস্যায়। এই কারণে ফল আনার পর বিক্রি করে তেমন লাভবান হতে পারছেন না বলে জানান একাধিক ফল ব্যবসায়ী।
বৃহস্পতিবার শহরের কালীবাড়ি পয়েন্ট এলাকায়, মুক্তারপাড়া রোডের সামনে, আলফাত স্কয়ার এলাকায়, পৌরমার্কেট এলাকায় এবং ফলের বাজারে মৌসুমি ফল লিচু ও আম বিক্রি হতে দেখা গেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মৌসুমি ফল বাজারে কম।
ব্যবসায়ীরা জানান, দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে যে লকডাউন দেয়া হয়েছে, তাতে ব্যবসায়ীরা যাত্রীবাহী বাসে করে ফল আনতে পারছেন না। এই কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় বাজারে ফলের পরিমাণ কম।
স্থানীয় জাতের লিচুর আঁটির মূল্য গতবারের দরের প্রায় সমান বিক্রি হলেও আঁটিতে ৫০টি লিচুর বদলে ৪-৫ টি করে কম দেয়া আছে। অপরদিকে যানবাহন চলাচলে রয়েছে সড়কের একাধিক স্থানে টাকা (বখরা) দিতে হচ্ছে। রাজশাহী জেলা থেকে লিচু আনতে সময় লাগে বেশি। একারণেও ফল বিক্রেতারা বিপাকে।
এছাড়া বৃষ্টি বাদলের কারণেও ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে আসা লিচু ও আম পঁচে যাওয়ার ভয়ে দ্রুত বিক্রি করতে হয়। এতে লাভের পরিমাণ খুবই কমে গেছে।
বাজারে আসা ক্রেতা বিপ্লব সেন ও রণধীর দাস বলেন, এবার প্রতি আঁটিতে ৫০টি করে লিচু হয় না। আঁটি বেছে নিলেও ৪-৫টি করে কম পাওয়া যায় লিচু। দাম অবশ্য গত বছরের সমান। এই মওসুমে ফল না খেলে এই ফল আর পাওয়া যাবে না। তাই সন্তানদের খাওয়ানোর জন্য নিতে হয়।
শহরের মুক্তারপাড়া রোডের সামনে লিচু বিক্রেতা দীলিপ দাস ও সেন্টু দাস বলেন, এবার রাজশাহী থেকে আমরা লিচু এনেছি। কিন্তু প্রতি আঁটিতে লিচু কম। দামও প্রায় গত বছরের সমান। লিচু দ্রুত বিক্রি না করলে পচে যায়। তাই যেমন দাম হোক লিচু বিক্রি করতেই হয়।
কালীবাড়ি পয়েন্ট এলাকার ব্যবসায়ী বাপ্পি সরকার ও দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রতি আঁটি লিচু বিক্রি করতে হয় ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা করে। তাড়াতাড়ি বিক্রি না করলে লিচু নষ্ট হয়ে যাবে।
আলফাত স্কয়ার এলাকার ব্যবসায়ী কবির ইসলাম, আমির হোসেন ও রমজান আলী বলেন, এবার লকডাউন থাকার কারণে ফলের ব্যবসায় লোকসান বেশি।
আমের ব্যবসায়ী আফজাল মিয়া, হাবিব মিয়া, রাকিব আলী ও রাজা মিয়া বলেন, আম বিক্রি করতে হচ্ছে ১২০, ৮০ টাকা ও ৭০ টাকা কেজি দরে। যানবাহন করে দেরিতে পৌঁছায়। অনেক আম পচে নষ্ট হয়ে যায়। এবার মৌসুমি ফলে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। অনেকে আবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।