লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক ধানও কেনা হলো না

বিশেষ প্রতিনিধি
সরকারের ধান চাল কেনার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। হাওরাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জে বাম্পার ফলন হলেও লক্ষ্যমাত্রা মোতাবেক ধান কিনতে পারলো না সরকার। ক্রয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে আসছেন না কৃষকরা।
সুনামগঞ্জে এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে ধানের চাষাবাদ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন।
এতো বিপুল পরিমানের ধানের মধ্যে সরকার এই জেলা থেকে ২৯ হাজার ৬৫৯ টন ধান এবং ১৩ হাজার ৮৩৭ টন সিদ্ধ চাল এবং ৯৯৭৭ টন আতব চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল।
পহেলা এপ্রিল থেকে ধান কেনা শুরু হয়ে প্রায় চার মাস চলে গেছে। আগামী ১৬ আগস্ট ধান-চাল ক্রয়ের মেয়াদ শেষ। সোমবার পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ধান কেনা হয়েছে ১১ হাজার ৯৭৬ টন। যা লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও কম। চাল সিদ্ধ কেনা হয়েছে ৬০০০ টন, আতব ৮২৮১ টন। আতব চালের মিলাররা চাল সরবরাহ করলেও সিদ্ধ চাল এখনো কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ।
জেলার শাল্লার আনন্দপুর নোয়াগাঁওয়ের বড় কৃষক মাখন লাল দাস বললেন, ধান ক্রয়ের জন্য প্রথম লটারীর আয়োজন হয়েছিল। লটারীতে অংশ নিতে যায় নি কৃষক। পরে মাইকিং করে বলা হয়েছে ‘আগে আসলে আগে ধান দিতে পারবেন, দ্রুত আপনার ধান সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে নিয়ে এসে ন্যায্যমূল্য গ্রহণ করুন।’ তাতেও কৃষকরা যাচ্চেন না খাদ্য গোদামে। এই কৃষক বললেন, সরকারি ক্রয়কেন্দ্রের দায়িত্বশীলদের উপর আস্থা কম মানুষের। এছাড়া বৈশাখের শুরুতেই সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান কিনতে হবে। হাওরাঞ্চলের কৃষকরা বার বার দাবি জানিয়ে আসছেন, গ্রাম কেন্দ্রীক ধান কেনা না গেলেও ইউনিয়নভিত্তিক ধান কিনতে সেটিও করছে না সরকার।
হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জেলা সিপিবির সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, সরকার ধান কিনতে পারছে না। অথচ. বৈশাখের ধান কাটার মৌসুমে ধান কাটা মাড়াইয়ের খরচ চালানোর জন্য ৫-৬শ’ টাকা মণেও ধান বিক্রি হয় সুনামগঞ্জে। আমরা দাবি করেছিলাম আড়ৎদাররা যেভাবে ধান কিনে, সরকার সেভাবে ফসল কাটার মৌসুমে অগ্রিম টাকায় ধান কিনবে। প্রতিমণে পরিবহন খরচের টাকা হিসাব করে কৃষককে দাম কম দেওয়া হবে। বর্ষায় যখন ধান বহন করার সুবিধা হবে, তখন কেনা ধান সরকারি গোদামে নিয়ে আসা হবে।
কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল বাশার ঠাকুর খান বললেন, ৮০’এর দশকে প্রতি ইউনিয়নে সরকারের স্থায়ী ও অস্থায়ী ধান ক্রয়কেন্দ্র ছিল। সরকারের নিজস্ব ভূমিতে কোন কোন ইউনিয়নে স্থায়ী গোদাম তৈরি করা হয়েছিল। কোথাও কোথাও ঘর ভাড়া করে ধান কেনা হতো। এগুলো কেন বন্ধ করা হলো, সেই ব্যাখ্যা জনগণ পায় নি। এই স্থাপনাগুলো নষ্ট হয়েছে। এগুলো থাকলে কৃষকরা ফড়িয়াদের হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পেতেন। সহজে সরকার ধান কিনতে পারতো, কৃষকরা দুরের উপজেলা সদরে না এসে ইউনিয়ন ক্রয় কেন্দ্রেই ধান বিক্রি করতে পারতেন।
সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য কর্মকর্তা নকিব সাদ সাইফুল ইসলাম বললেন, ধান কেনার জন্য আমরা প্রত্যেক উপজেলায় মাইকিং করেছি, সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছি, বাজারে ধান চালের দাম বাড়ায় কৃষকরা সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে আসছেন না। আতব চাল কেনা হয়েছে। সিদ্ধ চাল দেবার জন্য চুক্তিবদ্ধ মিলগুলোকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।