বিশেষ প্রতিনিধি
স্বল্প আয়ের মানুষদের ওএমএস কার্ড দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ৭ থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত ওএমএস কেন্দ্রে যারাই দাঁড়াবে, তারাই ওএমএস কার্ড প্রাপ্তির তালিকাভুক্ত হবে। যারা দাঁড়াবে না তারাই ঠকবে। প্রথম দফায় পরীক্ষামূলক ভাবে দেশের চারশ কেন্দ্রে দাঁড়ানো সুবিধাবঞ্চিতদের এর আওতায় নেওয়া হবে। এরমধ্যে সুনামগঞ্জের পাঁচটি কেন্দ্রে এই তালিকা করা হবে। তবে এই কার্যক্রম সফল করার জন্য জেলা খাদ্য বিভাগের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন পৌর কমিশনাররা।
সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য বিভাগের দায়িত্বশীলরা জানান, দেশের চারশ ওএমএস কেন্দ্রের মধ্যে সুনামগঞ্জ শহরের উকিলপাড়া, পুরাতন বাসস্টেশন, সরকারি পুকুরপাড় এবং নতুনপাড়া ওএমএস কেন্দ্রে ৭ জুন থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত খোলা বাজারে চাল আটা ক্রয়ধারীদের তালিকা করা হবে। ৭ জুন বুধবার সকাল নয়টায় ভোটার আইডির ফটোকপি ও স্টাম্প সাইজের ছবি নিয়ে লাইনে দাঁড়ালে খাদ্য বিভাগের পক্ষে থাকা একজন ইন্সপেক্টর ও একজন সহযোগী সকলকে ক্রমিক নম্বর দেবেন। পরে ক্রম অনুসারে ডেকে এনে রেজিস্টারে নাম তালিকাভুক্ত করা হবে। ওখান থেকে ২৪ টাকা কেজিতে পাঁচ কেজি আটাও কিনে নিতে পারবেন ওইদিন দরিদ্র মানুষেরা।
খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, একেকটি কেন্দ্রে একেকদিনে ২৫০ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হবে। অতিরিক্ত যারা থাকবেন তাদেরকে পরদিন আসতে বলা হবে। যাদের নাম তালিকাভুক্ত হবে তাদেরকে ১৩ জুন পর্যন্ত আসতে নিষেধ করা হবে। সেই হিসাবে সাত জুন থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত (শুক্র ও শনিবার বন্ধ থাকবে) ছয় হাজার ২৫০ জন স্বল্প আয়ের মানুষ ওএমএস কার্ড পেতে তালিকাভুক্ত হবেন। যারা এই সময়কালে ওএমএস কেন্দ্রে এসে নাম তালিকাভুক্ত করে ওএমএস কার্ড নেবেন না, তারা খোলা বাজারের ওএমএস কেন্দ্র থেকে পরবর্তীতে আর চাল আটা কিনতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
ওএমএস’ কার্ড’এর এই কার্যক্রমে স্বল্প আয়ের মানুষের ব্যাপক অংশ গ্রহণ নিশ্চিতের জন্য ৩১ মে থেকে শহরে মাইকে প্রচার করা হচ্ছে। মাইকের এই প্রচার ছয় মে পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে খাদ্য বিভাগ।
অন্যদিকে, শহরের ওয়ার্ড কাউন্সিলর বলছেন, তাদের সঙ্গে বড় এই কার্যক্রম নিয়ে খাদ্য বিভাগের কোন আলোচনা হয় নি।
পৌরসভার প্যানেল চেয়ারম্যান আহমেদ নূর বললেন, এতো বড় একটি কার্যক্রমের সঙ্গে কাউন্সিলরদের যুক্ত করা হয় নি। কোন সমন্বয়ও নেই আমাদের সঙ্গে। একই ধরণের মন্তব্য করেছেন, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হোসেন।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম ভুঞা অবশ্য দাবি করেছেন, এটি একটি বড় কার্যক্রম। এর আগে লাইনে দাঁড়ালেই মিলেছে ওএমএস’র চাল আটা। এখন থেকে এটি আর হবে না। দেশে এই প্রথম খোলা বাজারের চাল আটা বিক্রয়ের ওএমএস কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। পরীক্ষামূলক ভাবে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম সফল করার জন্য পৌরসভার মেয়র সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে ছয় জুন পর্যন্ত মাইকে প্রচার করা হবে।


