বিশেষ প্রতিনিধি
তাহিরপুর উপজেলার লাউড় রাজ্যের রাজধানী’র দুর্গ এলাকায় দ্বিতীয় দফা খননকালে লাউড়ের রাজধানীর আবাসিক ভবনের ধংসাবশেষ পাওয়া গেছে। প্রতœতত্ত্ববিদরা আশা করছেন, আগামী দুই মাসে আরও অনেক প্রতœবস্তু ওখানে পাওয়া যাবে। যেগুলো এই অঞ্চল নিয়ে গবেষণা কাজে অনেক সহযোগিতা হবে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রাচীনকাল হতে শ্রীহট্ট (সিলেট) কয়েকটি খ- রাজ্যে বিভক্ত ছিল। ত্রৈপুর রাজ বংশের অধ্যুষিত স্থান ত্রিপুরা রাজ্য বলে সাধারণত কথিত হয়। এই রাজবংশের অধিকার এক সময় বরবক্রের সমস্ত বাম তীর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। শ্রীহট্টের তিন ভাগ তিন জন পৃথক নৃপতি দ্বারা শাসিত হত। গৌড়, লাউড় ও জয়ন্তিয়া এই তিন খ-ের নৃপতির অধীনস্ত ছিলেন আরও অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভূমি মালিক। লাউড় রাজ্য ছিল সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ জেলার কিয়দংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। লাউড় ছিল একটি স্বাধীন রাজ্য। তাহিরপুরের সীমান্ত এলাকায় লাউড়ের রাজধানী ছিল। এই রাজ্যের ধ্বংসাবশেষ হলহলিয়া গ্রামে এখনো বিদ্যমান। এই রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কেশব মিশ্র। এরা ছিলেন কাত্যান গোত্রীয় মিশ্র। তাদের উপাধি ছিল সিংহ। খ্রিস্টীয় দশম অথবা একাদশ শতকে তিনি কনৌজ থেকে এখানে আসেন। দ্বাদশ শতকে এখানে বিজয় মাণিক্য নামের নৃপতি রাজত্ব করতেন। কারো কারো মতে বঙ্গ বিজয়ের পর রাঢ় অঞ্চল মুসলমানদের হাতে চলে যাওয়ায় সেখানকার বিতারিত ও পরাজিত সভ্রান্তজনেরা প্রাণ ও মান বাঁচানোর জন্য চারদিকে ছড়িয়ে পড়িয়েছিলেন। এদেরই একজন এখানে এসে রাজত্ব গড়ে তোলেন। রাঢ় শব্দ হতেই লাউড় শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে বলে মনে করা হয়। লাউড় রাজ্যের রাজধানী লাউড় ছাড়াও জগন্নাথপুর ও বানিয়াচংয়ে আর দুটি উপ রাজধানী ছিল।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর এই প্রাচীণ ঐতিহাসিক স্থাপনাকে সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংরক্ষিত ঘোষণা করে।
প্রতœতত্ত্ববিদ ড. আতাউর রহমান মঙ্গলবার এ প্রতিবেদককে বলেন, সুনামগঞ্জের সন্তান বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক এর প্রচেষ্টায় ঐতিহাসিক এই স্থানটি সরকার সংরক্ষিত এলাকা হিসাবে ঘোষণা করেছেন। ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর প্রথম দফা খনন শুরু হয়েছিল। ওই সময় মাটির নীচে চারদিকে দেওয়াল বেরিয়েছে। এর একদিকে ৫০ ফুট এবং অন্যদিকে ৭৫০ ফুট রয়েছে। দ্বিতীয় দফায় খনন শুরু হয়েছে ৯ জানুয়ারি। এসময়ে প্রাচীন রাজধানীর আবাসিক ভবনের ধংসাবশেষ পাওয়া গেছে। আশা করা হচ্ছে আগামী দুই মাসে আরও অনেক প্রতœবস্তু পাওয়া যাবে, যা এই প্রাচীন সমৃদ্ধ অঞ্চল নিয়ে গবেষণায় কাজে লাগবে।
তিনি জানান, এখানে একটি জাদুঘর স্থাপনসহ অন্যান্য উন্নয়নের জন্য একটি ডিপিপি প্রণয়নের কাজ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পর্যটকদের থাকার জন্য আবাসিক ব্যবস্থাও হবে।
তিনি জানান, আগামী ১৩-১৪ মার্চে লাউড়ের দুর্গ পরিদর্শনে আসবেন বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি. প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হান্নান মিয়া, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান এনডিসি ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।
- অসুস্থ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীককে দেখতে গেলেন পরিকল্পনামন্ত্রী
- লন্ডনে গেলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী, ভাষণ দেবেন অক্সফোর্ডে


