লাউড় রাজ্যের দুর্গে ২য় দফা খনন শুরু

স্টাফ রিপোর্টার
তাহিরপুর উপজেলায় অবস্থিত সরকারের প্রতœতাত্তিক সংরক্ষিত পুরাকীর্তি প্রাচীন লাউড় রাজ্যের রাজধানীর হলহলিয়া রাজবাড়ি’র দুর্গে দ্বিতীয়দফা প্রতœতাত্ত্বিক খনন ও অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই খনন ও অনুসন্ধান কাজের উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ।
প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক মো. আতাউর রহমান জানান, বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এই এলাকাকে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর সংরক্ষিত প্রতœতাত্ত্বিক পুরার্কীতি হিসেবে ঘোষণা করেছে। সুনামগঞ্জের বাসিন্দা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান কবি ও গবেষক ড. মোহাম্মদ সাদিক ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে সংস্কৃতি মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এবং প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের চেয়ারম্যানের কাছে লাউড় রাজ্যের ধ্বংসাবশেষ রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেন। এরপর কয়েকদফা প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের গবেষকরা এই এলাকা পরিদর্শন করেন। শেষে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর সরকার লাউর রাজ্যকে প্রতœতাত্ত্বিক পুরাকীর্তি হিসাবে ঘোষণা করে।
আতাউর রহমান বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক স্থান। ২০০ বছর এই ঐতিহ্যের খোঁজ নেওয়া হয়নি। এখানে আমরা যে নিদর্শন পেয়েছি সেটি কয়েক যুগকে একসঙ্গে যুক্ত করবে। এখন খনন ও গবেষণার পাশাপাশি এখানে প্রতœ-পর্যটনের বিকাশে একটি বড় প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রস্তুতের কাজ চলছে।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেন, হাওর এলাকার প্রাচীন নিদর্শন লাউড়রাজ্যের রাজবাড়ি ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে সরকারের যেমন তেমনি জনগণেরও সম্পদ। এখন এই এলাকাকে ঘিরে অনুসন্ধান ও গবেষণার পাশাপাশি পুরো এলাকাকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলা হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখানে খনন ও গবেষণাসহ সব কাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
খননকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মো. হাফিজুর রহমান, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জি, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির হাসান, স্থানীয় উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজাহার আলী, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান প্রমুখ