আকরাম উদ্দিন
সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আব্দুজ জহুর সেতু এলাকা থেকে লালপুর হয়ে চালবন্দ পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। আব্দুজ জহুর সেতু এলাকা থেকে চালবন্দ পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কের মেরামত কাজের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে সড়কের বিভিন্ন স্থান নষ্ট হয়ে গেছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, আব্দুজ জহুর সেতু এলাকা থেকে লালপুর ও রসুলপুর এবং সালামপুর হয়ে চালবন্দ পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। মেরামত কাজে হয়েছে ব্যাপক অনিয়ম। মেরামত কাজ চলাকালীন সময়ে সড়কের উপর একাধিক গর্ত ভরাট করে সমতল করা হয়নি। গর্তে বিটুমিনাস করা হয়েছে। সড়কে যানবাহন চলাচলের সময় ঢেউ খেলে চলতে হয়। বেশি স্পিডে যানবাহন চালালে জাম্পিং করে। সতর্ক না থাকলে দুর্ঘটনা ঘটে। একদিনের বৃষ্টির পানি জমে থাকে অন্তত তিন দিন। এই সড়কের শতাধিক স্থানে জমে থাকে এই পানি। সড়কের সাইটে গার্ড ওয়ালের বিভিন্ন স্থান ভেঙে পড়েছে। ঢালাই ভেঙে রড বেরিয়ে পড়েছে। এই সড়কের মেরামত কাজে অনিয়ম হয়েছে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
লালপুর গ্রামের আপ্তাব আলী ও শওকত আলী বলেন, আব্দুজ জহুর সেতু এলাকা থেকে রাধানগর, লালপুর, রসুলপুর ও সালামপুর হয়ে চালবন্দ পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। এই সড়কের কাজ আমাদের চোখের সামনে হয়েছে। কাজের মান ভাল হয়নি।
রসুলপুর গ্রামের সুমন মিয়া ও শাহজাহান মিয়া বলেন, লালপুর-চালবন্দ সড়কের মেরামত কাজের কোনো সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়নি। গর্তের মধ্যে বিটুমিনাস করা হয়েছে। এখন বৃষ্টি দিলে পানি জমে থাকে। সড়কের শতাধিক স্থানে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
সালামপুর গ্রামের বাসিন্দা তাজু মিয়া, সিতারা মিয়া ও রইছ মিয়া বলেন, লালপুর-চালবন্দ সড়কের মেরামত কাজে অনিয়ম হয়েছে। এই কারণে এক মাস যেতে না যেতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ও সাইটের গার্ড ওয়াল ভেঙে পড়ছে। সড়কের পুন: মেরামতের দাবি আমাদের।
সিএনজি চালক সহিদুজ্জামান বলেন, বিশ্বম্ভরপুর সদর উপজেলার অতি গুরুত্বপূর্ণ লালপুর চালবন্দ সড়ক। এই সড়ক প্রতি বছর বর্ষায় ভেঙে যায়। এই সড়কের মেরামত কাজ নিয়ে বছর বছর টাকা লুটপাট হয়।
লেগুনা চালক সাব্বির আহমদ বলেন, লালপুর-চালবন্দ সড়কে চলাচলে খুবই সর্তক থাকতে হয়। একটু অসতর্কতায় দুর্ঘটনায় পড়তে হয়। কয়েক কিলোমিটার সড়ক ঢেউ খেলে যেতে হয়। এখন বৃষ্টিতে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, আব্দুজ জহুর সেতু থেকে চালবন্দ পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কের মেরামত কাজ হয়েছে। এই মেরামত কাজের জন্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বর্ষার শুরুতেই সড়কের বিটুমিনাস ভেঙে পড়েছে। এই ভাঙন ঠিকাদারকে মেরামত করে দেবার জন্য বলে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কাজে অনিয়ম হয় নি। এই সড়ক উঁচু হলে বর্ষায় এতোটা ক্ষতি হতো না।


