স্টাফ রিপোর্টার
শহরতলির লালারচর গ্রামের পাশের গোচারণ ভূমি দখল এবং সরকারি জমিতে থাকা ৬ টি ছায়াবৃক্ষ (হিজল খরচ গাছ) কেটে পরিবেশের ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গ্রামবাসী এ ঘটনার বিচার চেয়ে লিখিত আবেদন দিয়েছেন সুনামগঞ্জ সদরের সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যা-), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসককে। এলাকাবাসী রোববার এসি ল্যা-ের সঙ্গে দেখা করে সরেজমিনে দখলকৃত ভূমি দেখে ব্যবস্থা নেবার দাবি জানান। এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগে ৯৬ জন স্বাক্ষর করেছেন। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সদর উপজেলার ১১৮ নম্বর কাইরঘাট মৌজার সরকারী খাস খতিয়ানের ২৮৪৪ নম্বর দাগের প্রায় ছয় একর ভূমি এলাকার মানুষের গরু ছাগলের ঘাষ খাওয়ার জন্য গোচরণ ভূমি হিসাবে রেকর্ডভুক্ত আছে। এলাকাবাসী ঐ ভূমিতে যুগ যুগ ধরে গরু-ছাগল ছড়িয়ে আসছেন। সুনামগঞ্জ শহরের মুক্তারপাড়া’র বাসিন্দা পার্থ সারথী পুরকায়স্থ এলাকার মানুষের বাধা নিষেধ অমান্য করে গোচারণ ভূমি থেকে ৫০ বছরের পুরাতন ৬ টি হিজল গাছ কেটে নিয়েছেন। পৌনে এক একর ভূমি থেকে প্রায় ২০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে পুকুর খনন করায় পানি নিস্কাশনের অসুবিধায় এলাকাবাসীর জমি করতে সমস্যা হচ্ছে।
লিখিত আবেদনে, তিন গ্রামের মানুষের স্বার্থে এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
পার্থ সারথী পুরকায়স্থ এই প্রসঙ্গে বলেন, আমার নিজস্ব ভূমিতে আমি পুকুর করেছি। কেবল পুকুরে যাওয়ার পথটুকু সরকারী খাস ভূমি। যারা অভিযোগ করেছে, তাদের মধ্যে ফণি ভূষন পালসহ অনেকের দখলে সরকারী খাস জমি রয়েছে। এই দাগেই প্রায় ৭ একর সরকারী খাস জমি আছে। সংশ্লিষ্টরা সরেজমিনে আসলেই এসব জমি কার কার দখলে আছে পাবেন। একটি মহল আমাকে ঐ এলাকা থেকে সরানোর জন্য ওঠেপড়ে লেগেছে।
সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ আদনান বললেন, এলাকার মানুষ রোববারও লালারচরের সরকারী গোচারণ ভূমি দখলের কথা জানাতে এসেছিলেন। আমি তাদের বলেছি, সরেজমিনে সার্ভেয়ার গিয়ে সরকারী খাস জমিতে লাল পতাকা টাঙাবেন এবং সরকারী খাস ভূমিতে পুকুর করা হলে ভরাট করেও দিতে হবে। না হয় মোবাইল কোর্ট করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


