স্টাফ রিপোর্টার
লাল লাল টসটসে লিচুতে এখন ভরপুর বাজার। দামও আকাশছোঁয়া। প্রতি ৪৫ পিস লিচু বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। এ কারণে নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ লিচু কিনতে পারছেন না। বিক্রেতারা বলছেন, বাগান থেকে গাড়ি করে লিচু আনতে প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, সেই জন্য বাজারে লিচুর দাম বেশি।
সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত স্কায়ার, ফল বাজার, কালীবাড়ি পয়েন্ট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, নতুন কোর্ট পয়েন্ট, ডিএস রোড, ওয়েজখালী ঘুরে দেখা যায়, লাল লাল টসটসে লিচু কেউ ফলের টঙ্গিতে ঝুলিয়ে, কেউ ভ্যান গাড়ির সামনে ঝুলিয়ে আবার কেউ বা বড় ঝুড়িতে (টুকরি) সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছেন। ক্রেতারা লিচু দাম দর করে লিচু কিনছেন। তবে দাম বেশি থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষজন কিনতে পারছেন না।
জানা যায়, বাজারে রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর সহ বিভিন্ন জেলার লিচু উঠেছে। তবে সুনামগঞ্জের বাজারে রাজশাহীর লিচু জনপ্রিয়।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ফল বিক্রেতা আলী হাসান বললেন, আপনারা তো পত্রিকায় লিখবেন সুনামগঞ্জে লিচু দ্বিগুণ দাম। কিন্তু আমরা লিচুর বাগানে গিয়ে লিচু পাচ্ছি না। যে সামান্য লিচু পাওয়া যাচ্ছে, দাম বেশি দিয়ে কিনে আনতে হচ্ছে এবং যাতাযাত ভাড়াও দ্বিগুণ দিতে হচ্ছে, বাধ্য হয়ে বেশি দাম দিয়েই লিচু বিক্রি করছি।
শহরের কালীবাড়ি পয়েন্টের ফল বিক্রেতা হুসেন মিয়া বললেন, সুনামগঞ্জে চাষ তেমন হয় না। বাইরের জেলা থেকে বেশি দামে লিচু কিনে আনতে হয়, একারণে দাম একটু বেশি। লাভ খুব বেশি হয় না।
ক্রেতা তানিয়া আক্তার বললেন, লাল টসটসে লিচুতে ভরপুর বাজার। কিন্তু দাম বেশি। ৪০ থেকে ৪৫ টা লিচুর দাম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা।
রিক্সা চালক হারুন মিয়া বললেন, বাজারে লিচুর অভাব নেই, কিন্তু দাম দেশি। এত দামে লিচু কিনে খাওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। দাম কমলে লিচু কিনে পরিবারের সবাইকে খাওয়াবো।
শহরের ডিএস রোডে লিচু কিনতে আসা বিপ্লব মিয়া বলেন, বাজারে বিভিন্ন জাতের লিচু ওঠেছে। তবে সবচেয়ে সুস্বাদু লিচু হচ্ছে রাজশাহী জেলার।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, সুনামগঞ্জ হাওর এলাকা। এখানে লিচুর তেমন একটা চাষাবাদ হয় না। তবে সুনামগঞ্জের ছাতক, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার উঁচু এলাকায় কিছু লিচু চাষ করা হয়। আগামীতে উঁচু স্থানে যাতে চাষীরা লিচু চাষ করেন, সেই জন্য পরামর্শ দেওয়া হবে।


