দিরাই প্রতিনিধি
গরুটির গায়ের রং লাল ও কালো। লম্বায় যেমন, উচ্চতাও তেমন। শরীরেও স্বাস্থ্যবান। গরুটির নাম রাখা হয়েছে লাল মানিক। তাই গরুটি দেখতে ক্রেতারা ভিড় করছেন। দর্শণার্থীরাও গরুটি দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। বিক্রেতা গরুটির দাম হাঁকিয়েছেন ৬ লাখ টাকা। গরুটি তোলা হয়েছে দিরাই উপজেলার হেলিপেড মাঠের হাটে। উপজেলার অন্যতম বড় পশুর হাট এটি। বিশাল মাঠ জুড়ে পশুর হাটের বিস্তার।
৬ লাখ টাকার দাম হাঁকা গরুটির মালিকানা প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী বিপুল দাস বলেন, পৌরসভার রাধানগর এলাকায় তাঁদের গরুর খামার। গরুটি সেখানে লালনপালন করা হয়েছে। আমরা গরুটির দাম চেয়েছি ৬ লাখ টাকা। আশা করি, এ দামেই গরুটি বিক্রি হবে।
তিনি জানান, গরুটির নাম লাল মানিক। বয়স ৩ বছর। গরুটি বাছুর থাকাকালীন ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে মালিক ক্রয় করেছিলেন। এত দাম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, গরুটির তলে অনেক খাটুনি ও প্রচুর টাকা ব্যয় হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হাটে র রোদ থাকায় রাস্তার পাশে গাছতলায় এনে রেখেছি লাল মানিককে। এই গরুটি ছাড়াও এই ফামেুর আরও ৯টি গরু হাটে তোলা হয়েছে। তাঁদের ফার্মের কোনো গরুর দাম ২ লাখ টাকার নিচে নয়।
হেলিপেড মাঠের হাট ঘুরে দেখা গেছে, ৬ লাখ টাকা দাম চাওয়া গরুটি ছাড়াও হাটে অনেক বড় বড় গরু আনা হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন এগ্রো ফার্ম প্রতিষ্ঠান এসব গরু হাটে তুলেছে। সামি এগ্রো ফার্ম প্রিজিয়াম এর সাইর উদ্দি বলেন, আমার এই হাটে ৯ টা গরু এনেছি তার মধ্যে সবচেয়ে বড়টার দাম সাড়ে ৫ লাখ টাকা। অন্যগুলোর দাম ৪ লাখ, ৩ লাখ, ২লাখ টাকা।
এদিকে শুক্রবার সকাল থেকে হাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু আসতে শুরু করে। দুপুরের পরই কোরবানির পশু দিয়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় হাট। মোটামুটি কেনাবেচা হয়েছে বলে ক্রেতা-বিক্রেতারা জানিয়েছেন। তবে হাটে দেশীয় মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি ছিল। তাই এ জাতের গরুর দাম তুলনামূলক বেশি ছিল। হাটে বড়, মাঝারি ও ছোট সাইজের প্রচুর গরু উঠলেও দাম চড়া থাকায় স্থানীয় ক্রেতারা পছন্দমতো গরু কিনতে পারেননি।
জানা গেছে, সপ্তাহে সোমবার হাটবার হলেও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে শুক্রবার ও সোমবার দুই দিন হাটে গরু, ছাগল, ভেড়া কেনাবেচা চলছে।
হাটের ইজারাদার কামরুল মিয়া, আফজাল হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত হাজার খানেক গরু এসেছে। ২৫/৩০ টি গরু বিক্রি হয়েছে। গরু কম হওয়ার কারণে ব্যাপারীরা এখন পর্যন্ত বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন। বাজারে ভারতীয় গরু আসেনি তেমন। অন্যবারের তুলনায় হাটে গরু কম এসেছে। নিরাপত্তার ব্যাপারে তারা বলেন, ক্রেতা ও বিক্রেতারা যাতে প্রতারিত না হন সে জন্য মাইকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।


