শক্তিয়ারখলা বাজার ব্যবসায়ীদের মধ্যে উচ্ছেদ আতংক

বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি
সম্প্রতি শক্তিয়ারখলা বাজারে ১৩টি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। মরা যাদুকাটা নদীর পাড়ে নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদ ও আরো অবৈধ দোকানদের তালিকা প্রস্তুত করায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বাদাঘাট (দঃ) ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শক্তিয়ারখলা বাজার। প্রাচীন আমলে এই বাজারে জমিদারের কাচারী (কার্যালয়) ছিল। মূল বাজারটি সম্পূর্ণ সরকারি খাস খতিয়ানের ভূমি। স্থানীয় লোকজন বাজারের সরকারি ভূমিতে নিজস্ব উদ্যোগে দোকান ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা বাণিজ্য করে পরিবার পরিজন নিয়ে প্রায় ২০০টি পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। ৯-১০ বছর পূর্বে হাতেগুনা কয়েকটি কাঁচাঘর ও ভাসমান ব্যবসায়ীরা সপ্তাহের বুধবারের দোকান বসাতেন। বর্তমানে সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে শক্তিয়ারখলা বাজারের উপর দিয়ে তাহিরপুর উপজেলার একমাত্র সড়ক যোগাযোগের পাকা রাস্তা নির্মিত হওয়ায় বাজারটি উন্নতি লাভ করে। এলাকার অনেক ব্যবসায়ী নিজ দখলীয় ভূমিতে বৈধভাবে ব্যবসা করার জন্য সরকারি ভূমি   লাইসেন্স ভিত্তিক বন্দোবস্ত পাওয়ার লক্ষ্যে সহকারি কমিশনার ভূমি বিশ্বম্ভরপুর বরাবরে আবেদন করেন। স্থানীয় প্রশাসন অনেকবার বাজার এলাকার ভূমি জরিপ ও পেরীফেরীর তালিকা অনুমোদনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করলে ০৯/০৩/২০১১ইং তারিখে কিছু অনুমোদন ও ২৩/০৮/২০১২ইং তারিখে আরো কিছু বর্ধিত পেরীফেরীর অনুমোদন দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীগণ সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী দখলীয় ভূমি (দোকান ভিটা) লাইসেন্সভিত্তিক বন্দোবস্তের জন্য কয়েক দফা আবেদন করেন। ফলে বিগত ১৬/০৩/২০১৫ইং তারিখে ১৬০নং স্মারকে সহকারি কমিশনার (ভূমি) খন্দকার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বর্ণিত আবেদন সমূহের প্রেক্ষিতে বিধি মোতাবেক প্রস্তাব দাখিলের জন্য ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি কর্মকর্তাকে চিঠি দেন। প্রায় ৩বছর চলে গেলেও বন্দোবস্ত বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। গত ২ জুলাই এই বাজারের পুকুরপাড়ে অবৈধভাবে দখলকারীদের ১৩টি দোকান ঘর সরকারি ভাবে উচ্ছেদ করা হয়। এর এক সপ্তাহ আগে বাজার পার্শ্ববর্তী মরা যাদু কাটা নদীর পাড়ে দোকান ঘর নির্মাণকালে আরেকটি ঘর উচ্ছেদ করা হয়ে। স্থানীয় তহশীলদার উক্ত বাজারে অবৈধ ভিট মালিকদের তালিকা প্রস্তুত করছেন। তা দেখে ব্যবসায়ীরা আরো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
ভিট দখলকার ব্যবসায়ী সাহাজ উদ্দিন বলেন,‘আমরা গরীব মানুষ সরকারি ভূমি ব্যবসা করে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। বৈধভাবে দোকান ভিট পাওয়ার জন্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী কয়েক বার দরখাস্ত করেছি। কি কারণে হয় না অফিসের লোক জনেই ভাল জানেন।’
বাজারের অপর ব্যবসায়ী হরলাল দাশ জানান ২-৩বছর আগে বৈধভাবে লাইসেন্স বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবরে আমরা অনেকেই আবেদন করেছিলাম। অনেক বার মাপজোক হয়েছে। কি কারণে যে বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে জানি না। স্থানীয় অফিসেই ভাল জানে। আমরা বৈধভাবে সরকারের রাজস্ব দিয়ে ব্যবসা করতে চাই। এই ব্যাপারে উপজেলা ভূমি অফিসের সাইফুল ইসলাম জানান, শক্তিয়ারখলা বাজারে পেরী ফেরী তালিকা বহু পূর্বেই অনুমোদন হয়ে এসেছে। বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য অনেকগুলি দরখাস্ত জমা পরেছে। বিধি মোতাবেক প্রস্তাব দাখিলের জন্য তহশীলদারের কাছে নথি বিগত ১৬/০৩/২০১৫তারিখে প্রেরণ করা হয়েছে। এপর্যন্ত কোন প্রস্তাব তহশীল অফিস থেকে ভূমি অফিসে দাখিল করা হয়নি।
ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি কর্মকর্তা রঞ্জন দাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন অনেকগুলো দরখাস্ত আমার কাছে জমা আছে।  বিভিন্ন কারণে কাজ হয়নি। তবে অচিরেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’