শক্তিয়ারখলা রাস্তায় নিম্নমানের বিটুমিন আটক জন-খবরদারিত্বের এক অনুপম দৃষ্টান্ত

জন-খবরদারিত্বের এক অনুপম দৃষ্টান্ত রাখলেন বিশ্বম্ভরপুর-শক্তিয়ারখলা রাস্তার নিকটবর্তী এলাকার জনসাধারণ। সম্প্রতি ওই রাস্তা সংস্কারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দেড় কোটি টাকার কাজ শুরু করেছিল। এলাকাবাসী দেখতে পান কাজে ঠিকাদার নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করছে। রাস্তার কাজের স্থায়িত্ব বহুলাংশে নির্ভর করে মূলত ব্যবহৃত বিটুমিনের যথাযথ মান ও পরিমাণে উপর। এলাকাবাসী নজর রাখছিলেন ওই কাজের উপর। একসময় তাঁরা দেখতে পান কাজের জন্য যে বিটুমিন ব্যবহার করা হয় তা এনে রাখা হয় এক জায়গায় আবার মিশ্রণের জন্য ছোট ছোট ট্রলিতে করে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। বিটুমিনের ড্রামগুলো যেখানে রাখা হয় সেই স্থানটি অপেক্ষাকৃত নির্জন এবং লোকচক্ষুর কিছুটা আড়ালে। এতেই এলাকাবাসীর মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। তারা পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পারেন এই বিটুমিনগুলো নিম্নমানের। বৃহস্পতিবার রাতে এলাকাবাসী বিটুমিনের ড্রাম আটক করে উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের খবর দেন। এসময় স্থানীয় লোকজনের সাথে ঠিকাদারের লোকজনের কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। খবর পেয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি, এলজিইডির প্রকৌশলী, উপজেলা চেয়ারম্যান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সরেজমিনে এসে তাঁরা বিটুমিনের মান নিয়ে জনগণের সন্দেহের যর্থার্থতা দেখতে পান। উপজেলা প্রকৌশলী তাৎক্ষণিকভাবে ওই বিটুমিন দিয়ে রাস্তার কাজ করা থেকে বিরত থাকতে এবং ভাল মানের বিটুমিন এনে কাজ শুরু করতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেন । এভাবেই একটি রাস্তার নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার বন্ধ হল। এই ঘটনাটি উন্নয়ন কাজে জন-খবরদারিত্বের এক চমৎকার উদাহরণ। জনগণ সজাগ থাকলে যে কেউ কখনও সরকারি বরাদ্দ লুপাট করার সুযোগ পাবে না সেটি প্রমাণ হলো বিশ্বম্ভরপুর-শক্তিয়ারখলা রাস্তায় স্থানীয় মানুষের সচেতনতার কারণে। আমরা এজন্য এলাকাবাসীকে অভিনন্দন জানাই।
বিশ্বম্ভরপুর-শক্তিয়ার খলা রাস্তাটি তাহিরপুর, বাদাঘাট, টেকেরঘাট প্রভৃতি স্থানে যাতায়াতের প্রধান সড়ক। জেলা সদরের আব্দুজ জহুর সেতু চালু হওয়ার পর এই রাস্তায় যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তাই রাস্তার উপযুক্ত সংস্কার সকলের নিকট কাম্য ছিল। সরকার ভাল বরাদ্দও প্রদান করেছেন। কিন্তু ঠিকাদারের অতিলোভের কারণে রাস্তার স্থায়িত্ব হুমকির মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। যদি এলাকার মানুষ নজরদারি না করতেন তাহলে ঠিকাদার এই মন্দ মানের বিটুমিন দিয়েই কাজ শেষ করে বিল তুলে ফেলতেন। কিছুদিন পরেই সংস্কারকৃত রাস্তাটি ভেঙে পড়া শুরু করত। এতে ঠিকাদার কিংবা প্রকৌশল অফিসের কোন ক্ষতি হতো না। দুর্ভোগ সহ্য করতে হত এই রাস্তা ব্যবহারকারী অজস্র সাধারণ মানুষকে। আমরা জানি নির্মাণ কাজ তদারকি করার একটি সিস্টেম রয়েছে। কাজ তদারকির জন্য একজন উপ সহকারী প্রকৌশলী কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত থাকেন, থাকেন কার্যসহকারি। তদুপরি রয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যানের তদারকি। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীও নিয়মিত উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন। আমাদের প্রশ্ন এত তদারকি ব্যবস্থা সচল থাকার পরেও ঠিকাদার নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ পায় কি ভাবে? নিশ্চয়ই এতে কর্তৃপক্ষীয় প্রচ্ছন্ন সমর্থন থাকে। এই সমর্থন আবার এমনি এমনি আসে না। এর জন্য দস্তুরমতো অর্থের ভাগবাটোয়ারা হয়ে থাকে। সরকারি কাজে এই যে দুর্নীতি এটিই আমাদের দেশের সবচাইতে বড় সমস্যা। সমাজের মাথা থেকে পা অব্ধি ছেয়ে আছে এই দুর্নীতি। তাই জনগণ চোখ কান খোলা না রাখলে প্রায় সর্বত্রই যথাযথ মানে কাজ না হওয়া এখন বাংলাদেশের নৈমিত্তিক চিত্র মাত্র। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে কবে?