জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার কৃষকরা শতভাগ যন্ত্রের ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো বোরোধান উত্তোলন করতে পেরে খুশি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার নলুয়ার হাওরের খাগাউড়া এলাকায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার যন্ত্রের মাধ্যমে ধান কাটা হয়। শতভাগ যন্ত্রের ব্যবহার করে ৫০ জন কৃষক ৬১ হেক্টর রোপনকৃত জমিতে ভালো ফলন পেয়ে খুশি। এর আগে যন্ত্রের সাহায্যে বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণ করা হয়।
কৃষি কার্যালয়ের উদ্যোগে বুধবার বিকালে এ উপলক্ষে বোরোধান কর্তন ও কৃষক সমাবেশের আয়োজন করে ধান কাটা কার্যক্রমের শুরু করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম’র সভাপতিত্বে ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ’র পরিচালনায় খাগাউড়া গ্রামের মাঠে সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদ অস্থায়ী চেয়ারম্যান আবুল হোসেন লালন, জেলা কৃষি কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপ পরিচালক শওকত ওসমান মজুমদার, চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
কৃষক ও উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলায় ২১ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে এবার বোরো আবাদ করা হয়। তারমধ্যে প্রথমবারের মতো শতভাগ আধুনিক কৃষি যন্ত্র ব্যবহার করে ৬১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। শুরুতে সিডলিং প্ল্যান্টার যন্ত্রের মাধ্যমে ট্রেতে বীজতলা তৈরি করা হয়। এরপর রাইস ট্র্যান্সলাজার যন্ত্র দিয়ে চারা রোপণ করা হয়। ধান পাকার পর কম্বাইন্ড হারভেস্টার যন্ত্র দিয়ে ধান কাটা মাড়াই ও বস্তাবন্দি করা হয়েছে।
এসব কার্যক্রমে সম্পৃক্ত খাগাউড়া গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, শতভাগ যন্ত্রের ব্যবহার করে বোরোধান চাষাবাদের শুরুতে ভয়ে ছিলাম। ভালো ফলন হওয়ার খুব ভালো লাগছে। তিনি বলেন, বাপ দাদার বুনিয়াদি পদ্ধতি বাদ দিয়ে আধুনিক কৃষি যন্ত্র দিয়ে আমরা ৫০ জন কৃষক মিলে যন্ত্রের মাধ্যমে বীজতলা তৈরি, চারা রোপণ ও ধান কাটতে পেরে খুশি। আমাদের কার্যক্রম দেখে আশপাশ এলাকার কৃষকরাও খুশি।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, শতভাগ যন্ত্রের ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো ৬১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করে আমরা সফল হয়েছি। কৃষকরা ভালো ফলন পেয়ে খুব খুশি মনে ধান কাটছেন। তিনি বলেন, কেদার প্রতি গড়ে ২০ মন ধান পেয়েছেন কৃষকরা।
সুনামগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, আধুনিক কৃষি যন্ত্র ব্যবহার করে বোরোধান আবাদকে আমরা সমলয় পদ্ধতিতে চাষাবাদ বলে থাকি। জগন্নাথপুরে এ পদ্ধতির চাষাবাদ সফল হয়েছে। আগামীতে এ ধরণের চাষাবাদ আরও বাড়ানো হবে।


