শব্দ দূষণে অতিষ্ট উপজেলাবাসী, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

গোলাম সরোয়ার লিটন
শব্দ দূষণকে বলা হয় নীরব ঘাতক। শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যকর ভূমিকা পালনের কথা। কিন্তু তাহিরপুর উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীরা শব্দ দূষণকে আমলেই নিচ্ছেন না। বাজারের ব্যবসায়ী ও গ্রামের বাসিন্দারা ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যপ্রার্থীদের কানফাটা প্রচারণায় অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন। ৭ ফেব্রয়ারি তাহিরপুর উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। দিন যত ঘনিয়ে আসছে উচ্চ শব্দে প্রচারণা আরো বেড়ে চলেছে।
শব্দদূষণ বন্ধে রবিবার সন্ধ্যা থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযান শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজেস্ট্রিট ও তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন।
বিধিমালা অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় রাত নটা থেকে ভোর ছটা পর্যন্ত শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবল এবং দিনের অন্য সময়ে ৫৫ ডেসিবল অতিক্রম করতে পারবে না। বাণিজ্যিক এলাকায় যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ ডেসিবল।
তাহিরপুর বাজারের ব্যবসায়ী সমীরণ কান্তি রায় লিটন বলেন, শব্দের কারণে বাজারে থাকা দায়। ভোট পেতে শব্দের প্রতিযোগীতা চলছে। বাজারের কোয়ার্টার কিলোমিটার এলাকায় এক সাথে উচ্চ শব্দে ২০টি মাইকে প্রচারণা চলে। যদিও অতিরিক্ত শব্দের কারণে কারো কথা কেউ শুনে না। তবুও শুনাতে আপ্রাণ চেষ্টা প্রার্থীদের।
তাহিরপুর উপজেলা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের শাখা ব্যবস্থাপক বিধি ম্রং বলেন, উচ্চ শব্দের প্রচারণায় শরীর কেঁপে ওঠে। এ সকল শব্দ সহ্য করা কঠিন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখর রায় ও নীহার তালুকদার বলেন, যত শব্দ ততভোট এভাবেই চলছে প্রচারণা। শব্দের মাত্রা বা দূষণ নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই। প্রার্থীরা আইনটি আদৌও জানেন কি না সন্দেহ আছে।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সদস্যপ্রার্থী সোহাগ তালুকদার বলেন, শব্দের যন্ত্রণায় আমরাও ভুগছি। লোকে বলে শব্দের জোরেই বুঝি গণজোয়ার সৃষ্টি হয়। তবে আমাদের ওয়ার্ডের ৭ জন প্রার্থীর কেউই এখনো মাইক প্রচারণা করিনি।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মির্জা রিয়াদ হাসান বলেন, উপজেলায় যে সকল মাইক বা সাউন্ডবক্স দিয়ে শব্দসৃষ্টি হয় তা সাধারণত ৯০ থেকে ১১০ ডেসিবল শব্দ উৎপাদন করে। যা মানব দেহের জন্য চরম ক্ষতিকারক। উচ্চ শব্দ শিশু, বয়স্ক মানুষ, রোগী ও স্বাভাবিক মানুষের দেহে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের বাসিন্দা তাহিরপুর জয়নাল আবেদীন কলেজের অফিস সহকারী সিদ্ধার্থ রায় বলেন, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের গ্রামের বিভিন্ন ঘরে প্রার্থীদের প্রচারণায় দেওয়া সাউন্ড বক্সের শব্দে অতিষ্ট হয়ে পড়ছে গ্রামবাসী।
আইনানুযায়ী-শব্দ দূষণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শব্দের উৎস যন্ত্রপাতি জব্দ করতে পারবেন। শব্দ দূষণে দোষী প্রমাণিত হলে প্রথম অপরাধের জন্য এক মাসের কারাদন্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভর দ- দেওয়ার কথা বলা রয়েছে। কেউ শব্দ দূষণের শিকার হলে টেলিফোন, লিখিত বা মৌখিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রতিকার চাওয়া যাবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির বলেন, আজ (গতকাল রবিবার) সন্ধ্যা থেকেই শব্দদূষণ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একজন প্রার্থী একটি মাইক ব্যবহার করতে পারবে। তবে গান প্রচার করতে পারবে না। এবং শব্দদূষণ বিধিমালা ভঙ্গ করলে আইনানুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ চলবে।