আকরাম উদ্দিন
শীত ও বর্ষায় কৃষি জমিতে শসা চাষ করে বড় অংকের লাভবান হচ্ছেন কৃষক শাহ আলম। তিনি এই শীত মওসুমেও ৮ একর জমিতে শসা’র চাষ করেছেন। দীর্ঘ ১ মাস আগে থেকে এই শসা’র জমিতে কাজ করছেন মাসিক বেতনের ২৪ জন শ্রমিক। এবারের শীত মওসুমে শসা’র উৎপাদন থেকে অন্তত ২৫ লাখ টাকা উপার্জনের আশা কৃষক শাহ আলমের।
কৃষক শাহ আলমের বাড়ি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নের মাঝাইর গ্রামে। তিনি জানান, প্রায় ৮ বছর আগে মাত্র ১৫ শতাংশ জমিতে শসা চাষ করে বেশি লাভবান হওয়ায় তখন থেকে আগ্রহ বাড়তে থাকে তাঁর। এভাবে প্রতি বছর শীত মওসুমে শসা’র চাষ করতেন তিনি। পরবর্তীতে শীত ও বর্ষায় শসা’র চাষ শুরু করেন। এতেও ফলন ভাল হয়। এবার তিনি করেছেন ৮ একর জমিতে শসা’র চাষ। জমিতে হাইব্রিড শসা রয়েছে তিন প্রকারের। নয়ন তারা, থাইগ্রীণ ও ইস্পাহানী সীড। এই তিন জাতের শসা জমিতে ভাল উৎপাদন হয়।
শাহ আলম জানান, এক কেয়ার জমিতে শসা চাষ করতে খরচ হয় ৪০-৫০ হাজার টাকা। প্রতি কেয়ারের শসা বিক্রি হয় ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সারা দেশে শসা’র চাহিদা থাকায় জেলার বাইরের পাইকারী ব্যবসায়ীরা গাড়ি নিয়ে এসে জমি থেকে কিনে নেন শসা।
শসা’র জমিতে কর্মরত একাধিক শ্রমিক জানান, বীজ বপনসহ ফল আসা পর্যন্ত ৩৫ দিন সময় লাগে। এখন শসা’র ফুল এসেছে। আরও ১০ দিনের মধ্যে ফল আসবে, বড় হবে, বিক্রি করার উপযোগি হবে। এই সময়ে পোকায় ধরার আশঙ্কা থাকে। এ সময় ওষুধ স্প্রে করে পোকা নিধন করতে হয়। কিন্তু কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তার সংকট আছে। এই কারণে মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ পেতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। প্রতিদিন গাছের পরিচর্যা করতে হয়। ফসলের প্রতি কড়া নজর রাখতে হয়।
শসা’র জমিতে কাজ করছেন সিলেট থেকে আসা ৬ জন শ্রমিক। স্থানীয় আছেন ১৮ জন। এদের মধ্যে সবুজ মিয়া, আলমগীর হোসেন, মরম আলী, রাশিদ আলী, আব্দুছ সাত্তার, তাহের আলী, তাহের মিয়া, জাহেদুল ইসলাম, খায়রুল ইসলাম ও শফিক মিয়া বলেন, শাহ আলমের শসা’র জমিতে কাজ করে আনন্দ পাই। ফসল ফলাতে কোনো অবহেলা নেই। যে সময় যা প্রয়োজন সবই সরবরাহ করেন তিনি। আবার নিজেও কাজে যুক্ত থাকেন। আন্তরিকতার কারণে প্রতি বছর শসা’র উৎপাদন ভাল হয়। এবারও শীতকালীন সময়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভাল হয়েছে। আগামী পনের দিনের মধ্যে শসা বিক্রির ধুম পড়বে।
কৃষক শাহ আলম জানান, সারা বছর শসা, টমেটো ও ফুল কপি’র চাষ করেন তিনি। উৎপাদনও ভাল হয়। মাঝে মধ্যে সমস্যায় পড়তে হয় টাকার। কৃষি ঋণ যদি সহজ পদ্ধতিতে পাওয়া যেতো তবে টাকার সংকট মেটানো যেতো। বেশি টাকা বেতন দিয়ে বাইরের জেলা থেকে শ্রমিক আনা যেতো। শসা’র উৎপাদনও বাড়ানো যেতো।
সদর উপজেলার সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কোনাগাঁও, বেরীগাঁও, ঝরঝরিয়া, গোদীগাঁও, কৃষ্ণনগর, নলুয়া, বাঘমারা, মঙ্গলকাটা প্রভৃতি এলাকায় এবার শীতকালীন সবজি ব্যাপক উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শসা ও করলা উৎপাদনে রয়েছে কৃষকদের বেশি আগ্রহ। কৃষক ইকবাল হোসেন ৩ কেয়ার জমিতে শসা চাষ করেছেন। নজরুল ইসলাম করেছেন ১ কেয়ারে, আবু সালাম ১ কেয়ারে, জামাল হোসেন ২ কেয়ারে, আলী জব্বার ৩ কেয়ারে শসা উৎপাদন করেছেন। নুর মিয়া, আব্দুল মতিন, রহিম উদ্দিন, খসরু মিয়া সহ বেশিভাগ কৃষকেরা বিভিন্ন রকমের সবজি চাষের পাশাপাশি শসা ও করলার উৎপাদন করেছেন। কারণ এসব সবজিতে লাভ বেশি বলে জানান তাঁরা।
শহরে আসা ক্রেতা সাজাউর রহমান বলেন, বর্ষাকালীন সবজির চেয়ে শীতকালীন সবজি মজাদার। পুষ্টিও বেশি। দামেও সস্তা। যে কোনো পরিবারে কিনে খেতে পারে।
সাখাওয়াত হোসেন পলাশ বলেন, সবজি খেলে শীতেই খাওয়া উচিৎ। প্রতিটি সবজির ঘ্রাণ থাকে ভাল। কনকনে শীতে সবজি দিয়ে ভাত বা রুটিও খাওয়া যায়।
শহরের খুচরা সবজি বিক্রেতা কন্টাই মিয়া বলেন, শীতকালীন সবজি বাজারে আসলে দামও কম হবে, খেতেও সুস্বাদু।
আব্দুল কাদির বলেন, শীতকালীন সবজির অপেক্ষা করছি। এখনো আসেনি। সবজি আসলে প্রথম কয়েকদিন দাম থাকে বেশি। পরেই কমে যায়।
ছমির আলী বলেন, স্থানীয় সবজির স্বাদ আলাদা। ক্রেতারা পছন্দ করেন। দামেই নিতে চান। আশা করি ২ সপ্তাহের মধ্যে সবজি বাজারে আসবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ফরিদুল হাসান বলেন, জেলায় শীতকালীন সবজির উৎপাদন ভাল হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৭ শত হেক্টর। এ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে। তম্মধ্যে সীম, শসা, লাউ, করলা রয়েছে। আগামীতে অন্যান্য সবজির আবাদ হবে। এতে সুনামগঞ্জ জেলায় সবজির চাহিদা মিটিয়ে বাইরের জেলায় রপ্তানী করা সম্ভব হবে।
- বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেছে তাহিরপুর ছাত্রলীগ
- শীতকালে করোনাভাইরাস পুনরায় দেখা দিতে পারে, সকলেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন : প্রধানমন্ত্রী


