শহরের পুরাতন কোর্ট দৃষ্টিনন্দন করার দাবি বিশিষ্টজনদের

পুলক রাজ
প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো এক সময়ের কালেক্টরেট ভবনের আসাম প্যাটার্নের একটি অংশ পরিত্যক্ত হয়ে রয়েছে। সুনামগঞ্জ শহরের ডিএস রোডের এসডিও কোর্টের (পুরনো কালেক্টরেট ভবন) এজলাসই ছিল আসাম প্যাটার্নের ঘরের সবচেয়ে বিলাসবহুল ঘর। কাঠের পাটাতনের ওপর নির্মিত এই প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং একইসঙ্গে এই ঘরের মূল প্যাটার্ন ঠিক রেখে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং ভেতরে আরও নান্দনিক করে তোলা প্রয়োজন। প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য দ্রুত এর সংস্কার করার দাবি স্থানীয় বিশিষ্টজনদের।
জানা যায়, পুরাতন কোর্টের বামপাশের পুরাতন কালেক্টরেট অফিসে ঘরগুলোতে জেলার প্রাচীন ঐতিহ্য, পরিবেশ, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হয়েছে। জেলার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও হাওরাঞ্চলের ঐতিহ্যগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। প্রাচীন এই স্থাপনাটি রক্ষা এবং হাওরাঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি, পরিবেশ-প্রকৃতি এবং জীবন-জীবিকা নতুন প্রজন্মে কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। এরপর কাঠের পাটাতনের উপর নির্মিত পুরনো ভবনটি সংস্কার করে ২০১৬ সালের ৩০ জানুয়ারি ঐতিহ্য
জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়। ২০১৭ সালের ২৬ এপ্রিল জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের ১৭৬তম সভায় সুনামগঞ্জের ঐতিহ্য জাদুঘরকে জাতীয় জাদুঘরের শাখা হিসেবে অনুমোদন দেয়া হয়। বর্তমানে জাদুঘরের সামনে একটি মুক্তমঞ্চও নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে, পুরাতন কালেক্টরেট অংশের মতো পাশের পুরাতন কোর্ট অংশও সংস্কারের দাবি উঠেছে। ঐতিহ্য যাদুঘরের মতো এই অংশকেও দেখতে চান স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরাতন কোর্টের স্থাপনাগুলোর বেহাল দশা। সংশ্লিষ্টদের নজরদারিও নেই, তাই সৌন্দর্য্য হারিয়েছে। ভুতুড়ে অবস্থা হয়েছে পুরাতন কোর্ট’র ভিতরের অংশের।
স্থানীয়রা জানান, পুরাতন কোর্ট এলাকায় সর্বরোগের ওষুধ বিক্রি করে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকেরা। রয়েছে রিকশা মেরামত করার ভাসমান দোকান। খাট, টেবিল চেয়ারের ব্যবসা। ময়লায় চারপাশে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। ব্যস্ততম পুরাতন কোর্ট এলাকার ফুটপাত জুড়ে রয়েছে আরো বিভিন্ন ধরনের ভাসমান দোকানপাঠ।
শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে বলেন, শহরের প্রাণকন্দ্র পুরাতন কোর্ট এলাকা। পুরাতন কোর্টেও অন্য অংশেরর মতো শ্রীবৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পুরাতন কোর্টেও এই অংশও ঐতিহ্য যাদুঘরে রূপান্তরিত করা যায়। পুরাতন কোর্ট সংস্কার করা অবশ্যই জরুরী। ঐতিহ্য যাদুঘরের মতো যদি পুরাতন কোর্ট এলাকাকেও দৃষ্টিনন্দন করা যায়, তাহলে শহরের সৌন্দর্য্য বাড়বে। এ ব্যপারে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
সনাক সুনামগঞ্জের সভাপতি ধূর্যটি কুমার বসু বলেন, পুরাতন কোর্ট প্রাচীণ ঐতিহ্য। ঐতিহ্য যাদুঘরের মতো না হলেও, এটাকে সংরক্ষণ করা জরুরী। পুরাতন কোর্ট প্রাঙ্গণের সাথে অনেক ইতিহাস জড়িয়ে আছে।
মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান বলেন, পুরাতন কোর্ট’এর যে অংশ সংস্কার করা হয় নাই, সেই অংশকে দ্রুত সংস্কার করা জরুরী। একাংশ উন্নত, আরেকাংশ বেহাল দশা হলেতো শহরের সৌন্দয্য বাড়বে না। সুতরাং সমভাবে সংস্কার করা হোক। সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ করছি, যে পুরাতন কোর্ট যেন বেহাতে দখলে না যায়।