শহরে ফুডপান্ডার কাজে শিক্ষা সংগ্রামীরা

আসাদ মনি
অনার্স ও মাস্টার্স পড়–য়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা টিউশনি করে নিজের খরচ চালিয়ে সংসারের চাকা ঘুরাতে ভূমিকা রাখতো। করোনায় তাদের অনেককেই বেকার করে দিয়েছিল। সুনামগঞ্জ শহরের এমন শতাধিক শিক্ষার্থী তরুণ এই সময়ে ফুডপান্ডায় কাজ করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। শহরের ভেতর ফুডপান্ডার খাবার ঘরে ঘরে পৌছে দিচ্ছেন এসব শিক্ষা সংগ্রামীরা। পার্টটাইম ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ করে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সহযোগিতা করছে এরা। তাদের সেবায় সন্তোষ্ট ক্রেতারাও।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খুললেও লকডাউনসহ বিধিনিষেধ কমে আসায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। শহরের শিক্ষার্থীদের মেসগুলোতেও ধীরে ধীরে প্রাণের সঞ্চার হচ্ছে। টিউশনি করে যারা চলতো, তাদের অনেকেরই এখন টিউশনি নেই। খরচ চালাতে বিকল্প পেশা খুঁজছে এরা, নানা কাজ করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন শিক্ষার্থীরা।
শহরের টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে আমরা মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌচ্ছে দিচ্ছি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে চান না অনেকেই, তাদেরকেই মূলত খাবার পৌঁছে দেবার কাজে যুক্ত হয়েছি। ৪ দিন হলো ফুডপান্ডার সঙ্গে যোগ দিয়েছি। প্রতি সপ্তাহে পেমেন্ট পাবো আমরা।’
শুধু আল আমিন নয়, শহরে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী ফুডপান্ডায় কাজ করছেন। টিকে থাকার লড়াই করছেন এরা।
শহরের বনানীপাড়ার বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, ‘আমি এইচ এমপি স্কুল এ- কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। কলেজ বন্ধ তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফুডপান্ডায় ডেলিভারি রাইডার
হিসেবে কাজ করছি। সাইকেল দিয়ে পার্টটাইম কাজ করে নিজের খরচ নিজেই বের করছি।
তিনি জানালেন, ফুডপান্ডায় বেইজ ওয়ান থেকে সিক্স পর্যন্ত ক্যাটাগরি রয়েছে। প্রথম অবস্থায় বেইজ সিক্স ক্যাটাগরিতে ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের ভেতর ডেলিভারি ও কাজের মান দেখে প্রমোশন হয়।
একই প্রতিষ্ঠানের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আকাশ আহমদ বলছিলেন ‘বেইজ ১- ২ ক্যাটাগরিতে প্রতি ডেলিভারি প্রতি ২৫-২৮ টাকা পাওয়া যায়। বেইজ ৩ ক্যাটাগরিতে পাওয়া যায় ২২- ২৩ টাকা। এবং বেইজ ৪- ৬ ক্যাটাগরিতে পাওয়া যায় ১৭- ১৮ টাকা। এছাড়াও প্রতি কিলোমিটার দূরত্বের জন্য আলাদা ৩- ৫ টাকা করে পাওয়া যায়।’ সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে কাজ করেছেন এই তরুণ। গেল মাসে প্রায় ৪০০০ টাকার মতো রোজগার করেছে সে।
শহরের হাসন নগরের একজন ক্রেতা মো. মোরাদ বলেন, ফুডপান্ডায় কাজ করা শিক্ষিত তরুণদের কাছে সেবা ভালো পাওয়া যায়।
ফুডপান্ডার কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা ২৫ আগস্ট থেকে সুনামগঞ্জে ফুডপান্ডার কার্যক্রম শুরু করেছি। বর্তমানে ১০০ ডেলিভারি রাইডার আমাদের সঙ্গে কাজ করছেন। এই সংখ্যাটা আরো বৃদ্ধি পাবে।