শহরে মানুষের আগমন কম

স্টাফ রিপোর্টার
বিদেশ ফেরত ব্যক্তিরা স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় জেলায় করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক বেড়ে চলেছে। করোনা আক্রান্তের সন্দেহ ও হতাশায় ঘরে বসে সময় পার করছেন অনেক সচেতন মানুষ। এই কারণে শহরে মানুষের আগমন কমছে। আমদানী রপ্তানী বন্ধের সুযোগকে পুঁজি করে সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ীরা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
সুনামগঞ্জের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম ব্যবসায়ীরা গুজব ছড়িয়ে মুনাফা লাভের সুযোগ নিচ্ছেন বলে মন্তব্য অনেকের। এসব মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনকে তরিৎ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি সাধারণ মানুষের।
শনিবার শহরের বিভিন্ন স্থানে লোকসমাগম ছিল কম। হোটেল রেস্তোরায় কাস্টমারের আগমন অনেক কম, কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা কম। শহরের বিভিন্ন স্থানের সবজি বাজারে, সুরমা মার্কেটের গার্মেন্টেসে, পৌর মার্কেটে, দোজা মার্কেটে, পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে, ট্রাফিক পয়েন্টে মানুষের আনাগোনা কম লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকানপাট ছাড়া সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বেচাকেনা ভাটা পড়েছে।
মোদী দোকানদার নয়ন বনিক বলেন,‘কোনো কারণ ছাড়াই পেয়াজের দাম বেড়েছে। আমরাও কিছু বাড়িয়ে বিক্রি করছি। আগের মূল্যের চেয়ে প্রতি কেজি পেয়াজে ৫ টাকা করে বাড়িয়ে বিক্রি করছি।’
শহরের চৌরাস্তার মোড়ের কাপড়ের ব্যবসায়ী অজিত রায় বলেন,‘সপ্তাহখানেক ধরে কাপড় বেচাকেনা কম। করোনা ভাইরাসের আক্রমণ আতঙ্কে মানুষ শহরে আসছেন না।’
সবজি ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন,‘কিতা বিমার আইছে। অসুখ অইলে খালি ঘরও রাখা লাগে। কেউ বাঁচে আর কেউ মরে। ওষুধ ও নাই।’
মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের চাউল ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া বলেন,‘আমার এক হাজার বস্তা চাউল মজুদ আছে। কিন্তু আমি চাউলের দাম বৃদ্ধি করিনি। চাউল আগের দামে বিক্রি করছি। চাউলের দাম বাড়ানোর কোনো কারণ নেই।’
পত্রিকা বিক্রেতা নুর হোসেন বলেন,‘অসাধু ব্যবসায়ীরা চাউলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছেন। পেঁয়াজের দাম ও প্রতি কেজিতে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমাদের দিনমজুরী টাকায় এখন পুষিয়ে উঠা যাচ্ছে না।’
অ্যাড. মুজিবুর রহমান বলেন,‘করোনা ভাইস আতঙ্কে মানুষ শহরে আসছেন না। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক কোনো ওষুধ ্আবিস্কার না হওয়ায় মানুষ আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এই জন্য মানুষ বেশি করে পরিবেশগত পরিচ্ছন্ন এবং শারীরিকভাবে সচেতন থাকতে হবে।’