আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
টাঙ্গুয়া হাওর সংলগ্ন শহীদ সিরাজ লেক (নীলাদ্রী) পানিতে নেমে সাঁতার কাটা ও নৌকাতে চড়ায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মানছে না কেউ। টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ শেষে ভারতের মেঘালয় পাহাড় ঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর নয়নাভিরাম নীলাদ্রী লেক এলাকাতে রাত্রিযাপন করেন পর্যটকগণ। ২০১০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত নীলাদ্রী লেকের পানিতে ডুবে ৪ জন পর্যটক মারা গেছে। সর্বশেষ ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এমআইএসটি’র পরমাণু ও প্রকৌশল বিদ্যার ২য় বর্ষের ছাত্র রাজিব আহমেদ (২১) নীলাদ্রি লেকের পানিতে সাঁতার কাঁটতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান। এ ঘটনার পর থেকেই মন্ত্রী পরিষদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল পর্যটকরা নীলাদ্রী লেকের পানিতে না নামার জন্য।
সম্প্রতি নীলাদ্রী লেক এলাকাতে সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, লেকের আশপাশে ছোট ছোট প্লাস্টিক নৌকা অপেক্ষা করছে পর্যটকদের নিয়ে লেকের চারপাশ ঘুরানোর জন্য। কথা হয় নৌকার মাঝি খোকন মিয়ার সাথে। তিনি জানান, যদি একজন পর্যটক লেকের চারপাশ ঘুরেন তাহলে তাহাকে ১০০ টাকা দিতে হবে। আর যদি ৪/৫ জন পর্যটক লেকের চারপাশ ভ্রমণ করেন তখন তারা জনপ্রতি ৫০ টাকা করে নেন।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান নীলাদ্রী লেকটি ১৯৬৫ সাল থেকে ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের পাথর কোয়ারী হিসাবে পরিচিত ছিল। ২০০৫ সাল পর্যন্ত এটির কার্যক্রম সচল ছিল। টানা ৪০ বছর ওখান থেকে মাইনিং পদ্ধতিতে চুনাপাথর উত্তোলন করার পর বর্তমানে এটির গভীরতা ৫০০ ফুটেরও বেশী। এটির পানির রঙ স্বচ্ছ ও নীলাভ রঙের। এজন্য আগত পর্যটকদের কাছে লেকটি নীলাদ্রী লেক বলে পরিচিত। আবার স্থানীয় লোকজনের কাছে এটি শহীদ সিরাজ লেক বলেও পরিচিত।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবির বলেন, নীলাদ্রী লেকে (শহীদ সিরাজ লেক) মন্ত্রী পরিষদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশে পানিতে নেমে সাঁতার কাটা ও নৌকাতে চড়ায় উপজেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। কেউ যদি ওখানে পর্যটকদের নিয়ে নৌকায় ঘুরাফেরা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
- তাহিরপুরে সুদের ব্যবসা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
- বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ ও জাতীয় শিশু সপ্তাহ/ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার প্রদান


