শান্তিগঞ্জে আবারো বন্যার পদধ্বনি

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
গতমাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে আকস্মিকভাবে পানি ঢুকতে থাকে। মাসের মাঝামাঝি সময়ে পাহাড়ি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে অকালে সৃষ্ট বন্যায় ব্যপক দুর্ভোগে পড়েন জেলার লক্ষাধিক মানুষ। দুর্ভোগে পড়েন শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষও। নানান কষ্টে সৃষ্টে, রোগ-শোকে ভোগে প্রথমবারের মতো কষ্টেরকাল অতিক্রম করেছিলেন কৃষি, মৎস্য ও পেশাজীবী মানুষজন।
গত তিন ধরে শান্তিগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় কমবেশি বৃষ্টি হলেও সোমবার বৃষ্টি ছিলো চোখে পড়ার মতো। মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে সারাদিন। কমবেশি বৃষ্টির ধারাবাহিকতা চলমান থাকতে পারে আরো কিছুদিন। ইতোমধ্যে বিপদসীমার ১১ সে.মি. উপর দিয়ে বয়ে চলছে জেলার প্রধান নদী সুরমার পানি। মহাসিং, লাউয়া ও নাইন্দা নদীর পানিও হু হু করে বাড়ছে এ উপজেলায়। এতে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে আরেকবার হয় তো বন্যার আক্রমণের শিকার হতে যাচ্ছেন এ জেলার মানুষ। এ নিয়ে কিছুটা শঙ্কিতও তাঁরা।
উপজেলাবাসী বলছেন, মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো বার বার শান্তিগঞ্জ উপজেলার মানুষেরা দুর্ভোগে পড়ছেন। প্রথমে ধান নিয়ে একটা শঙ্কা দেখা দিলেও উপরওয়ালার অশেষকৃপায় ধান ঘরে তুলেছিলেন সাধারণ কৃষকেরা। পরে অতিবৃষ্টির কারণে নষ্ট হতে বসেছিলো তাঁদের কষ্টের ফসল। অনেকের নষ্ট হয়েছেও। এখন যদি আবারো মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয় তাহলে যাবে কোথায়?
কথা হয় উপজেলার কাদিপুর গ্রামের জানে আলম, ইনাতনগর গ্রামের মনর আলী, বীরগাঁওয়ের জাহেদ নূর, শিমুলবাকের রফিক আহমদ ও চিকারকান্দি গ্রামের হাফিজ সবুজ আহমদের সাথে। তাঁরা জানান, নদীর পানি বাড়ছে। হাওরের পানিও বাড়ছে। তবে সে পানি প্রথম পানির তুলনায় একেবারে ধীরে ধীরে বাড়ছে। আমরা কিছুটা শঙ্কিত তবে ভয় পাচ্ছি না। আল্লাহ যা করেন তার জন্যই আমরা প্রস্তুত। সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রাস্তাঘাটগুলো যেনো দ্রুত মেরামত করে দেওয়া হয়। আমাদের আর চাওয়ার কিছু নেই।