সোহেল তালুকদার, শান্তিগঞ্জ
সারাদিন কায়িক পরিশ্রম শেষে বাঁশের চাঁটাইয়ে পলিথিন, কারো বা ভাঙা খুপড়ি ঘরে ফিরতেন। বৃষ্টি এলেও সন্তানদের নিয়ে ভাঙা ঘরে বা তাঁবুতে কাটতে হতো তাদের। গৃহহীন হতদরিদ্র এমন ৬টি পরিবার পেলো ইমতিয়াজ ফাউন্ডেশনের দেওয়া নতুন পাকা দালান ঘর। ঘরে ৪টি রুম ও বারান্দা রয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা গ্রামের মৃত. ইমতিয়াজ আলীর পরিবারের সদস্যরা ইমতিয়াজ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঘর হস্থান্তর করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আজিজ আহমদ বাপ্পু ও তার সহধর্মিনী কেবিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হুমায়রা আহমদ, আমেরিকা প্রবাসী কবি গীতিকার ও কলামিস্ট ইশতিয়াক রুপু, আস্তমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক নুরুল আমিন, আস্তমা গ্রামের মসুদ মিয়া, হাসান মাহমুদ তারেক, ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান, ইউপি সদস্য তহুরা বেগম প্রমুখ।

বাড়ি পাওয়ার আনন্দে শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা গ্রামের মৃত. মজনু মিয়ার স্ত্রী রাজিয়া বেগমের চোখে ডেকেছে আনন্দ অশ্রম্নর বান। ঘর পেয়ে কেমন লাগছে, জিজ্ঞেস করায় রাজিয়া বেগম বলেন, ‘আমি ছেলে, নাতি ও ছেলের বৌ নিয়ে মানুষের কুঁড়েঘর তুলে থাকি। স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি যে, আমি ইটের একখানা নতুন ঘর পাবো। ইমতিয়াজ ফাউন্ডেশন আমাকে সুন্দর একটি পাকা দালান ঘর দিবেন। এই বয়সে পাকা দালান ঘরে থাকতে পারবো। আমি ভীষণ খুশি হয়েছি ঘর পেয়ে। দোয়া করি আমাদের ইমতিয়াজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. এ এস আলী আহমদ সহ উনার পরিবারের সদস্যবৃন্দের জন্য ।’
একই ভাবে নিজেদের ঘর পাওয়ার আনন্দে উল্লাসিত হয়ে আস্তমা গ্রামের মৃত জহির মিয়ার স্ত্রী মরিয়ম বেগম, মৃত কদ্দুছ মিয়ার স্ত্রী জাহানার বেগম, মৃত মখলোছ মিয়ার ছেয়ে আনছার মিয়া, মৃত জয়নাল মিয়ার স্ত্রী সোনা মালা ও মৃত তোতা মিয়ার ছেলে আব্দুল গনি। তারা বলেন, আমাদের ভাঙা খুপড়ি ঘরে থাকতে হতো। সেখানে ঝড় বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে। এখন ইমতিয়াজ ফাউন্ডেশন আমাদের দালান ঘর তৈরি করে দেওয়ায় আর কষ্ট করে থাকতে হয় না। আমরা খুব খুশি।
জানা যায়, ইমতিয়াজ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৪টি রুম বিশিষ্ট বারান্দা সহ একেকটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত আস্তমা গ্রামে ৬টি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ৬টি ঘর হস্থান্তর করেছেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. এ এস আলী আহমদ। ইমতিয়াজ আহমদ ফাউন্ডেশন গত ২০১৬ সাল থেকে প্রতি বছর ১টি করে ঘর তৈরি করে দিয়ে আসছেন। এর আগে বিভিন্ন সময় গ্রামের দরিদ্র মানুষের মধ্যে নগদ অর্থ ও কাপড় বিতরণ করতেন। সেই সাথে আস্তমা গ্রামের বিভিন্ন দরিদ্র পরিবারের ছাত্র/ছাত্রীদের লেখা পড়ার খরচও চালিয়ে যাচ্ছেন।
ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. এ এস আলী আহমদ বলেন, আমাদের গ্রামের বাড়ির হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে প্রতি বছর ১টি করে ৪ রুম বিশিষ্ট একটি পাকা দালান ঘর তৈরি করে দিচ্ছি। এই ধারা অব্যাহত থাকবে। সেই সাথে আমার মায়ের নামে হালিমা খাতুন মুসলিম এডুকেশন ট্রাস্ট আছে। সেই ট্রাস্ট্রের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলাব্যাপী আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছেন। শিক্ষাবৃত্তি, মেধাবৃত্তি, স্কলারশীপসহ অনেক কার্যক্রম এই ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালনা করে আছি।

উল্লেখ্য, আস্তমা গ্রামের মৃত ইমতিয়াজ আলীর পরিবারের সদস্যরা কানাডা, আমেরিকা লন্ডন ও অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। পরিবারের অনেকেই ডাক্তার, পাইলট ও বিমানের ইঞ্জিনিয়ার। সেই সাথে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসাবে দেশে বিদেশে কর্মরত আছেন। তাদের সকলের প্রচেষ্টায় প্রতি বছরে নিজেদের যাকাতের অর্থ দিয়ে নিজের গ্রামের বাড়ির হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন।


