শান্তিগঞ্জে ঐতিহ্যের কাবাডি খেলা দেখতে মানুষের ঢল

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা গ্রামে প্রতিবছরের মতো এবছরও অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী প্রীতিকাবাডি খেলা। শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আস্তমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে উৎসবমূখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে চলে এই খেলা। খেলায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ও মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভার পাঠানবাড়ি এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা, ডুংরিয়াসহ অন্যান্য গ্রামের একশটি দল অংশগ্রহণ করে। অর্থাৎ ৫০ টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা দেখার জন্য আস্তমা স্কুল মাঠে ঢল নামে মানুষের। নানা বয়সী মানুষ ভিড় ঠেলে কাবাডি খেলা দেখেছেন। আস্তমা গ্রামবাসীর এই আয়োজনে গ্রামের নির্দিষ্ট সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের গ্রামেও উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়।
শনিবার বেলা আড়াইটায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আস্তমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। স্কুল সীমানার বাইরে শতাশত দোকানপাট। চায়ের দোকান, বরিশালের আমড়া আর নানাধরণের খেলনার দোকান। ছেলে-বুড়ো ও কিশোর-যুবকরা আনন্দ করছেন। এ যেনো আনন্দের এক অন্যরকমের মেলা বসেছে।
আয়োজক কমিটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবছরের মতো এ বছরও ঐতিহ্যবাহী কাবাডি ম্যাচের আয়োজন করেন। এই আয়োজনে এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। গ্রামবাসী চার ভাগে বিভক্ত হয়ে অন্যান্য গ্রাম থেকে আসা কাবাড়ি খেলোয়ার ও মেহমানদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেন। চারটি গরু জবাই করা হয় মেহমানদের আপ্যায়নের জন্য। প্রত্যেক পরিবারের কাছেই আলাদা আলাদা মেহমানদের আপ্যায়ন ও দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সুনামগঞ্জ শহর ও শহরতলি থেকে চার শতাধিক খেলোয়ার যান ওখানে।
আয়োজক কমিটির সদস্য আঙ্গুর মিয়া ও জিল্লুর রহমান বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষার জন্য আমরা প্রতিবছরই এ আয়োজন করছি। এই খেলা আস্তমা গ্রামের দক্ষিণের মাঠে অনুষ্ঠিত হতো। মাঠে পানি থাকায় এই বছর স্কুলের মাঠে খেলা হচ্ছে। এবছর সুনামগঞ্জের কুরবাননগর ও মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন এবং পৌরসভার পাঠানবাড়ি থেকে প্রায় ৫০ টি দলের খেলোয়ার প্রীতি ম্যাচ খেলতে এসেছেন। আমরা গরু জবাই করেছি। যাওয়ার সময় খাসি উপহার দেওয়া হবে। গ্রামজুড়ে কাবাডি উৎসবের আনন্দ বইছে। সকলের সহযোগিতা থাকলে প্রতিবছর খেলার আয়োজন হবে।