শান্তিগঞ্জে জমি সংক্রান্ত জেরে উত্তেজনা

শান্তিগঞ্জ অফিস
শান্তিগঞ্জে জমি সংক্রান্ত জের ধরে দু’পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে দরগাপাশা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া মিনাবাজারে। ইতোমধ্যে কয়েক দফা সালিশ বৈঠক ও থানার অভিযোগ দায়েরের পর দরগাপাশা ইউপি চেয়ারম্যান সুফি মিয়ার হস্তক্ষেপে রবিবার (১৫ মে) সালিশে বিরোধ নিস্পত্তির কথা ছিল। কিন্তু সালিশে উপস্থিত হননি চেয়ারম্যানই। এ ব্যাপারে আক্তাপাড়া গ্রামের এক পক্ষের লোকজন চেয়ারম্যানের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায় গ্রামে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে বলে জানান একাধিক ব্যক্তিবর্গ।
জানা যায়, শান্তিগঞ্জ থানাধীন দুর্গাপাশা মৌজার জেএল নং—৬৫, খতিয়ান নং—২৬১, দাগ নং—১১৭৭, পরিমান ১৯ শতক বাজারের ভিট রকম ভূমি বর্তমানে নির্মাণাধীন মার্কেট অভিযোগকারী ক্রয় সূত্রে মালিক এবং ভোগদখলে আসছেন। প্রতিপক্ষ আব্দুল মালিক সহ অন্যান্য বিবাদীরা গত ১০ এপ্রিল নির্মাণাধীন মার্কেটে ভাংচুর ও নির্মাণের জন্য মজুদ করে রাখা প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা রড, সিমেন্ট ও কয়েল জোরপূর্বক গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এতে বাধা দিলে প্রতিপক্ষ অভিযোগকারীকে প্রাণে মারার ভয় দেখায়।
এ ব্যাপারে ভোক্তভোগী এওয়ার মিয়া জানান, আমি আমার সম্পত্তি রক্ষা ও প্রাণ রক্ষার জন্য থানায় অভিযোগ করেছি, পুলিশও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ইউপি চেয়ারম্যান সুফি মিয়া, উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, সাবেক চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালাম, শান্তিগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই আলাউদ্দিনসহ এলকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে গত ১৪ এপ্রিল বাজারের অফিসে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় ১৫ মে দরগাপাশা ইউপি চেয়ারম্যান সুফি মিয়া উভয় পক্ষের বিরোধটি নিষ্পত্তি করে দিবেন। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত আমাদের পক্ষের লোকজন উপস্থিত হলেও উপস্থিত হননি ইউপি চেয়ারম্যান সুফি মিয়া এবং অপর পক্ষের লোকজন। বার বার সুফি মিয়াকে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যান এই কালক্ষেপন করায় আমার অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। যে কোন সময় আমার জায়গা বেদখল হওয়া সংঘর্ষ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষের ছলেহ আহমদ জানান, আমাদের উপর মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এখানে আমাদের কোন জায়গা নাই, আমরা সংঘর্ষে যাওয়ার কোন যুক্তি নাই।
দরগাপাশা ইউপি চেয়ারম্যান সুফি মিয়ার মোবাইলে ফোনে দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
শান্তিগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই আলা উদ্দিন জানান, অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ইউপি চেয়ারম্যান সহ এলাকাবাসী উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য সালিশে নিস্পত্তির জন্য আশ্বাস দিয়েছিলেন। এ জন্য অভিযোগের কার্যক্রম আর অগ্রসর হয়নি।