শান্তিগঞ্জে পুনরায় শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় পুনরায় শুরু হচ্ছে ভোটার রেজিস্ট্রেশন বা ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম। পৃথক পৃথক কেন্দ্রে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ১০টি কেন্দ্রে চলবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম। বন্যার কারণে বন্ধ হওয়া এ কার্যক্রম শুরু হবে আগামী রবিবার (১৭ জুলাই) থেকে। কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারীগণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হতে চাওয়া নতুন ভোটারদের (যাদের জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ২০০৭ সালে বা তারও আগে) সকল তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে ও নির্দিষ্ট কেন্দ্রে সুপারভাইজারগণের মাধ্যমে ছবি তুলবেন। এসময় মৃত ব্যক্তিদেরকে বর্তমান তালিকা থেকে বাদও দিবেন তথ্য সংগ্রহকারীরা। পুরো কার্যক্রমে ৫৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১৩ জন সুপারভাইজার কাজ করবেন।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা সময়সূচি থেকে জানা যায়, শিমুলবাক ইউনিয়নে ১৭ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০ জুলাই পর্যন্ত ৪ দিন একটি কেন্দ্রে সম্পন্ন হবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ছবি তোলার কাজ। সাতগাঁও জীবদাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ ১, ২, ৩, ৪, ৫ ও ৮ নং ওয়ার্ড এবং চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ তালুকদার ৬, ৭ ও ৯ ওয়ার্ডে সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের তত্ত্বাবধানে ১১জন তথ্য সংগ্রহকারী কাজ করবেন। সাতগাঁও জীবদাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সম্পন্ন হবে এ ইউনিয়নের ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ।
জয়কলস ইউনিয়নে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু হবে ২১ জুলাই। নোয়াখালী সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশেন্দু কুমার দেব’র তত্ত্বাবধানে ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তোলার কাজ পরিচালিত হবে ২১ ও ২২ জুলাই নোয়াখালী সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। আস্তমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপুল চক্রবর্তী ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের ও জয়কলস উজানীগাঁও রশিদীয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শচিন্দ্র চন্দ সরকারের তত্ত্বাবধানে ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের হালনাগাদের কাজ সম্পন্ন হবে। ১ থেকে ৬ নং ওয়ার্ডের হালহানাগাদের কেন্দ্র জয়কলস উজানীগাঁও রশিদীয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। ২৩ থেকে ২৫ জুলাই ৩দিনে সম্পন্ন হবে এ ৬ ওয়ার্ডের কাজ। এই ইউনিয়নে তিন জন সুপারভাইজারের অধীনে ১৫জন তথ্য সংগ্রহকারী তথ্য সংগ্রহ করবেন।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের দুই দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজার হচ্ছেন পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজের সহ-প্রধান শিক্ষক মো. আরব আলী ও মনবেগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাইদুল হক। তাঁরা যথাক্রমে ১, ২, ৩, ৪ ও ৫ এবং ৬ থেকে ৯ নং ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করবেন। শত্রুমর্দন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭ আগস্ট থেকে ৯ আগস্ট এই ৩ দিন দায়িত্ব পালন করবেন তাঁরা। এ ইউনিয়নে সুপারভাইজারদ্বয়ের অধীনে ৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী কাজ করবেন।
পূর্ব বীরগাঁওয়ে সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালন করবেন বীরগাঁও ইমদাদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজ মিয়া ও হাসকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সাজবিন আক্তার। তাঁরা যথাক্রমে ৪ থেকে ৯ নং ওয়ার্ড ও ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করবেন। মোছা. সাজবিন আক্তারের কাজ ২৬ তারিখে শুরু ও শেষ করবেন সলফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অপরদিকে আজিজ মিয়া তার নিজ প্রতিষ্ঠানেই কাজ শুরু করবেন ২৭ তারিখ এবং শেষ করবেন পরের দিন ২৮ জুলাই। এ ইউনিয়ে ৮জন তথ্য সংগ্রহকারী কাজ করবেন।
দরগাপাশায় আবদুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ শফিকুল ইসলাম তার নিজ প্রতিষ্ঠানে ১ থেকে ৫ নং ওয়ার্ডের ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু করবেন ৩০ জুলাই। শেষ হবে এর পরের দিন। অপরদিকে আমরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবু নছর মো. ইব্রাহিম দায়িত্ব পালন করবেন ৬ থেকে ৯ ওয়ার্ডের। আমরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ ও ২ আগস্টে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ সম্পন্ন করবেন তিনি। দুই সুপারভাইজারের অধীনে ৯জন তথ্য সংগ্রহকারী কাজ করবেন।
পূর্ব পাগলায় বেতকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিযুষ কান্তি দে ও ডিগারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করবেন। পিযুষ কান্তি দে ১ থেকে ৫ নং ওয়ার্ড ও নজরুল ইসলাম ৬ থেকে ৯ নং ওয়ার্ডের দায়িত্ব ৩ থেকে ৬ আগস্টের মধ্যে পালন করবেন। তাঁদের ভোটার তালিকা হালনাগাদের কেন্দ্র পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়। এ ইউনিয়নে দুই সুপারভাইজারগণ দেখাশোনা করবেন ৭জন তথ্য সংগ্রহকারীকে।
এছাড়াও সমস্ত উপজেলাবাসীর জন্য একটি সুযোগ থাকবে ১০ আগস্ট। যদি কোনো ব্যক্তি তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে না পারেন তাহলে ১০ আগস্টে পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে তার এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজারের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় তার নাম অর্ন্তভুক্ত করতে পারবেন।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভোটার তালিকা হালনাগাদ বা রেজিস্ট্রেশনের জন্য বহুল প্রচারের স্বার্থে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বেশ কয়েকটি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনগণের মাধ্যমে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণকেও অবহিত করা হয়েছে। উপজেলাব্যাপী ইতোমধ্যে প্রচার মাইকও বের করা হয়েছে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, বন্যার কারণে ভোটার তালিকা রেজিস্ট্রেশনের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হয়। একটা সময় বন্ধ করে দিতে হয়। এখন আবার পুনরায় চালু হচ্ছে। সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ করা হবে। ৬টি ইউনিয়নে ১৩ জন সুপারভাইজার, তাঁদের অধিনে ৫৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী ১০টি কেন্দ্রে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে কাজ করবেন। ১৭ জুলাই শুরু করে ১০ আগস্টের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে হবে। এর পরে আর কোনো তারিখ অবশিষ্ট থাকবে না। উপজেলাবাসীর জ্ঞাতার্থে আমরা বিভিন্নভাবে প্রচারণা করে যাচ্ছি। আশা করছি ভালোভাবেই কাজটি সম্পন্ন হবে। এতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
উল্লেখ্য, এ কার্যক্রম শুরু হয়েছিলো চলতি বছরের ১০ জুন। ১৬ জুন থেকে বন্যার কারণে স্থগিত করতে হয় কাজ। এরমধ্যে পাথারিয়া ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের হালনাগাদের কাজ সম্পন্ন হয়েছিলো।