ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, শাহজালাল বিশ^বিদ্যালয়ে গ-গোলের প্রথম দিনেই শিক্ষামন্ত্রীর আসা উচিত ছিলো। করোনার অজুহাত দিয়ে তারা আসেন নি। এইসব জায়গাতে সহমর্মিতা থাকা জরুরি। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোয় ড. জাফর ইকবালকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এখন সরকারের দায়িত্ব ছাত্রদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া। ছাত্রদের নামে করা সকল মামলা মোকদ্দমা তুলে নেওয়া।
তিনি বলেন, শাবিতে পুলিশ ডেকে ভাইস চ্যান্সেলর খুব ভুল কাজ করেছিলেন। মামলা যা হয়েছে তা প্রত্যাহার করে নেয়া উচিত। এরপর মূল দাবিটা নিয়ে আলাপ করা।
তিনি বলেন, শাবির কোনো অধ্যাপক এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাইস চ্যান্সেলর কখনও হননি। এখানে যারা কাজ করেছেন এতো বছর ধরে তাদের থেকে ভাইস চ্যান্সেলর হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, সরকার অন্ধ হয়ে যায়। তারা জনগণের দাবি দেখতে পারে না। বিচ্ছিন্নতা দেখা দেয়। প্রাক্তন ছাত্ররা শিক্ষার্থীদের অর্থ সাহায্য করেছে, তাদেরকে গ্রেফতার করার কোনো মানেই হয় না। আমার যদি পয়সা থাকে এবং সাহায্য করি এটাতো কোনো অপরাধ হতে পারে না। সরকার সব সময় ভুল পথে হাঁটে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় পাগলা বাজার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শন ও বিশেষজ্ঞ মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এইসব কথা বলেন
ইয়াবা ও গাঁজা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, অনেকেই জানেন না ইয়াবা একটা ওষুধ। মানে আপনি ইয়াবা পেতে চাইলে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন লাগবে। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে ইয়াবা যদি আনা হতো, তাহলে এর দাম হতো ৩ থেকে ৫ টাকা। আমাদের দেশে রাজশাহীতে গাঁজা হতো আগে, হাঁপানীর শেষ চিকিৎসা গাঁজা দিয়ে হয়। তিনি বলেন, মাদকাশক্তির শুরুই হয় সিগারেট দিয়ে, কিন্তু এটা নিয়ে সরকারের কোনো রকমের উদ্যোগ নেই।
র্যাবের উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তিনি বলেন, এখন সারা পৃথিবী জানে র্যাবের কার্যকলাপ। তারা যে বিচারবহির্ভূত হত্যার সাথে জড়িত, এটা কি আমরা লুকাতে পারবো। বিদেশী দেশ সবাই দেখছে। এটা নিয়ে বিএনপির উপরে দোষ চাপিয়ে কোনো লাভ হবে না। সরকারের উচিত হবে আজকেই র্যাবের এইসব কার্যকলাপ বন্ধ করা। এমনকি র্যাবকেই বন্ধ করে দেয়া উচিত। র্যাব থাকাই উচিত নয়। র্যাবের শুরুটা করেছিলো বিএনপি। তারা এটা ভুল কাজ করেছিলো। নারায়নগঞ্জে র্যাব ৭ জন লোক খুন করেছিলো, এসব কি লুকানো যাবে? কাক চোখ বন্ধ করে মরিচ লুকায়, এর মানে তাকে কী কেউ দেখছে না! র্যাবের কার্যকলাপ জনবান্ধব নয়। পুলিশ থাকা সত্ত্বেও র্যাবের কোনো প্রয়োজন পড়ে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, পুলিশের কাজ না থাকায় পুলিশ টাকা পয়সা বাণিজ্য করে বেড়ায়।
গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী বলেন, সারাদেশে ৭০ ভাগ লোক গ্রামে থাকেন। কিন্তু তাদের কোনো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নেই। ইউনিয়ন সেন্টারে কোনো ডাক্তার নেই। অথচ সেখানে চার-পাঁচজন ডাক্তার থাকা উচিত। গড়ে ইউনিয়নে ৫০ হাজার লোক থাকে। তাদের স্বাস্থ্যসেবার নিয়ে আমরা কাজ করছি। কিভাবে গ্রাম বাংলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি করা যায়, আমরা সেই চেষ্টাই করছি।
তিনি বলেন, শান্তিগঞ্জের পাগলা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আমরা সব রকমের অপারেশন করে দিতে পারবো। আমাদের ছোট এই সেন্টারে এক্সরে, আল্টাসনোগ্রাফ, ফার্সেমীসহ সবই আছে। এরকম তো সরকার করতেই পারে।
তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন সেন্টারে ডাক্তার দিতে হবে। ডাক্তার রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার ডাক্তারদের জন্য যদি একটা প্রণোদনা দেয়, তাহলে নিশ্চই ডাক্তার থাকবে। দু’বছর থাকার পরে তাকে যদি উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে ডাক্তাররা উৎসাহিত হবে।
পাগলা বাজার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালের উদ্যোগে ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিমের (মেডেসিন, গাইনী, চক্ষু, শিশু ও সার্জারী) বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা পরিদর্শন ও পরামর্শ প্রদান করেন জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী।
পরিদর্শনের সময় পাগলা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক মো. আবদুল আউয়ালসহ গণস্বাস্থ্যের কেন্দ্রীয় হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ২৭ জন চিকিৎসক, কর্মকর্তাগণও উপস্থিত ছিলেন।


