স্টাফ রিপোর্টার
মহা অষ্টমীতে একশো আটটা পদ্ম দিয়ে পূজিত হন দেবী দুর্গা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন ম-পে চলে অঞ্জলি প্রদান। সন্ধ্যায় সন্ধি পুজোয় একশো আটটা প্রদীপ দিয়ে দেবীকে আরতি করা হয়। আতপ চাল, ভেজানো মুগ ডাল, মটর, ছোলা সহ নানাধরনের ফল, মিষ্টি, নারকেল নাড়ু, তক্তি বরফি দিয়ে সাজানো হবে দেবীর নৈবেদ্য। সন্ধিপুজো মা দুর্গার আরাধনার এক বিশেষ মুহূর্ত। সন্ধি মানে মিলন। এই মুহূর্তটি হল অষ্টমী তিথি ও নবমী তিথির মিলন। মহাসন্ধিক্ষণ। অষ্টমী তিথির শেষ চব্বিশ মিনিট ও নবমী তিথির প্রথম চব্বিশ মিনিট মিলিয়ে মোট আটচল্লিশ মিনিট। এই সন্ধিক্ষণেই দেবী জেগে উঠে উগ্রচ-ী রূপ ধারণ করেছিলেন। তাই এই সময় দেবীর বিশেষ পুজো। অশুভ শক্তির বিনাশ করে শুভ শক্তির জয়ের জন্য আরাধনা।
মহাষ্টমীতে মায়ের পায়ে অঞ্জলি দেওয়ার জন্য ম-পে ম-পে শুরু হয়েছে ভিড়। এবার শুধুই ঠাকুর দেখার পালা। ম-পে ম-পে ভিড় জমেছে। পূজো উদ্যোক্তাদের আশা মহানবমীর ভিড় অষ্টমীর রাতের ভিড় কেও ছাপিয়ে যাবে।
আজ মহানবমী। পুজো পৌঁছে গেল প্রায় শেষলগ্নে। আনন্দ আর বিষাদের ¯্রােত আজ দিনভর বয়ে যাবে একসঙ্গে। হাতে সময় সকাল থেকে রাত পর্যন্তই। নবমীর রাত যতই বাড়বে ততই এগিয়ে আসবে দেবীর বিদায়ের পালা। ফের একটা বছরের অপেক্ষা। মায়ের অপেক্ষায় দিন গোনা। মহিষাসুর নিধনের সময় দেবী দুর্গা প্রচন্ড ক্রোধে কৃষ্ণবর্ণ রূপ ধারণ করেছিলেন। তাই পূজার এই আচারের সময় দেবীকে চামুন্ডা রূপে পূজা করা হবে অর্থাৎ যিনি চন্ড ও মু-ের বিনাশিনী। পূজার এই মুহূর্তটি আরও একটি কারণে স্মরণীয়। দেবী দুর্গার আশির্বাদ নিয়ে শ্রীরামচন্দ্র এই মুহূর্তেই বধ করেছিলেন রাবণকে।
এদিকে বুধবার বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে মহাসপ্তমী। দুপুরের পর থেকে ম-পগুলোতে ঢল নামে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের। শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই নন, সব ধর্মের দর্শনার্থীরাই ম-পে ম-পে প্রতিমা দেখতে ভিড় করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও শহরের বিভিন্ন ম-প পরিদর্শন করেন। রাত ৮টার দিকে উৎসবের মেজাজের মধ্যে বৃষ্টি। বৃষ্টি বেশি ক্ষণ থাকেনি, কিন্তু দর্শনার্থীদের উৎসাহে কিছুটা হলেও জল ঢেলে দিযেছে। মহাসপ্তমীর রাতে শহরের বিভিন্ন পূজা ম-পে আয়োজক কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় আরতী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক এবং ধর্মীয় আলোটনা সভা।
প্রতিটি পূজা ম-পে নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্যে রয়েছেন পূজা কমিটির স্বেচ্ছাসেবক, আনসার, র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। এছাড়াও রয়েছে পূজাকে সামনে রেখে পূজাম-প ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার ও নজরদারি বৃদ্ধির জন্য পুলিশের বিশেষ শাখা ও গোয়েন্দা শাখা চেকপোস্ট, পিকেট, মোবাইল, স্ট্যান্ডবাই ফোর্সের মাধ্যমে পুজাম-পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।


