শাল্লার গোদী নদীতে আড়কাটি, বিপাকে হাওরপাড়ের গ্রামবাসী

বিশেষ প্রতিনিধি
শাল্লার গোদী নদীতে মাছ ধরার জন্য আড়কাটি দেওয়ায় হাওরের পানি নামতে বিলম্ব হচ্ছে। নদীর মাছও ঢুকছে না হাওরে। নৌ চলাচলেও বাধা দেবার অভিযোগ ওঠেছে। উন্নয়ন কাজের মালামাল নিয়ে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। নদীর পাশের শ্রীহাইল ও আশপাশের গ্রামের প্রভাবশালীরা নদীতে এই আড়কাটি স্থাপন করেছেন বলে জানিয়েছেন আশপাশের গ্রামের মানুষ।
দিরাই ও শাল্লার বরাম হাওর, ভান্ডা, উদগল, ছায়ার হাওরসহ ছোট বড় হাওরগুলোর পানি ভেড়ামোহনা ও গোদি নদী দিয়ে সুরমায় নামে। সম্প্রতি স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মানুষ শাল্লার সীমান্তবর্তী শ্রীহাইল গ্রামের পাশে এই নদীতে আড়কাটি দিয়ে চাঁই বসিয়ে মাছ ধরছে। এ কারণে হাওরের পানি নদী দিয়ে নামতে বিলম্ব হচ্ছে। নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সুরমা নদী থেকে মাছও ঢুকতে পারছে না হাওরে। এলাকার উন্নয়ন কাজের জন্য বা অন্য কোন কাজের মালামাল বুঝাই ট্রলারও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
গোদি নদীর পাড়ের গ্রাম স্বদেবপাশার হুমায়ুন মিয়া বললেন, গোদি নদীতে আড়কাটি দেওয়ায় পানি নামতে বিলম্ব হচ্ছে। নৌকায় মালামাল আনতেও সমস্যা হচ্ছে। আমাদের আটপাড়ার কান্দিগাঁও, ইয়ারাবাজ, নোয়াগাঁও, ছব্বিশা, দামপুর, মনুয়া, স্বদেবপাশা ও রহমতপুর গ্রামবাসী সমস্যায় পড়েছেন। মালামাল বহনকারী নৌকা আসলেও দুই ঘণ্টা ওখানে আটকে রাখা হয়।
দামপুরের সবুজ মিয়া বললেন, এই আড়কাটি না ওঠালে সময়মত জমি চাষাবাদ করা যাবে না। পানি নামতে বিলম্ব হবে। পানি না নামলে জমি ভাসবে না, চাষাবাদও করা যাবে না।
শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার বললেন, এই বিষয়ে একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি, দুইবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উদ্যোগ নিয়ে পুলিশ দিয়ে আড়কাটি তুলে দিয়েছেন। এরপর আবার বসানো হয়েছে। এই যন্ত্রণা থেকে মানুষকে রেহাই দিতে হবে। ওখানে মালামালের নৌকাও চলাচল করতে দেওয়া হয় না। মরিপিঠ করা হয় নৌকার মাঝিদের।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাল্লার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুম বললেন, নদীতে আড়কাটি দিয়ে পানি আটকানোর বিষয়টি প্রশাসনের দেখার বিষয়, আমরা বাঁধের বিষয়ে দেখভাল করে থাকি।
শাল্লা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বললেন, এই বিষয়টি আমার জানা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এই বিষয়ে জানালে, তিনি মোবাইল কোর্ট করে ব্যবস্থা নিতে পারেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদীর হোসেন’এঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায় নি।
শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আল আমিন চৌধুরী বললেন, গোদি নদীতে দেওয়া আড়কাটি তুলে দিয়েছিলাম, আবার বসানো হয়ে থাকলে তুলে দেওয়া হবে।