শাল্লার ছায়ার হাওরের কোনারবন্দ, জুয়ারিয়া, কৈয়ারবন্দ ও পুটিয়ারবন্দের প্রায় ৯০০ একর বোরো জমি অকাল বন্যার ঝঁুকিতে রয়েছে বলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়। ওইসব ছোট ছোট হাওরে উপজেলার রঘুনাথপুর, ঘুঙ্গিয়ারগাঁও, সুখলাইন, কলাকান্দি, কান্দিখলা, ডুমরা, উজান ও ভাটি যাত্রাপুরের প্রায় চার হাজার কৃষক বোরো জমি চাষ করেন। ওই জমিকে অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষায় দাড়াইন নদী তীরের রঘুনাথপুর—সারিগাছা ও কৈয়াবন্দ ভাঙনে ২ বছর আগেও পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ দিত। কিন্তু গত দুই বছর যাবৎ এই ভাঙনের জন্য কোন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। ফলে এই দুইটি ভাঙন দিয়ে আকষ্মিক বন্যার পানি হাওরে ঢুকার শংকায় পড়েছেন এই চার হাজার কৃষক। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত এই ভাঙনে বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রম্নতি প্রদান করেছেন। শাল্লার কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, শাল্লায় অপ্রয়োজনীয় বাঁধের প্রকল্প গ্রহণ করে রীতিমত বাণিজ্য করা হচ্ছে অথচ অপরিহার্য এই ভাঙন দুইটির জন্য কোন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। এদিকে এখন প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। দাড়াইন নদীও পানিতে টইটুম্বুর হয়ে উঠেছে। পানির বেগ হঠাৎ করে বেড়ে গেলে ভাঙন দিয়ে নদীর পানি হাওরে প্রবেশ করে ফলন্ত বোরো ধান নষ্ট করে দিবে। তাই যা করার দ্রুত করতে হবে।
বাঁধ নির্মাণ ও পিআইসি গঠনের ক্ষেত্রে এখন সরকারিভাবে গণশুনানীর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বাস্তবে এসব গণশুনানী কাগজে—পত্রে সীমাবদ্ধ থাকে। কখনও এইসব গণশুনানীতে প্রকৃত কৃষকদের অংশগ্রহণ থাকে না। সঠিকভাবে গণশুনানী করে প্রকল্প নির্ধারণ করা হলে এসব প্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়ার কথা নয়। এক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বিশেষ করে ইউপি চেয়ারম্যান—মেম্বারদের দায় কম কিছু নয়। এই ভাঙন দুইটিতে যখন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি তখনই তাঁদের এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়া উচিৎ ছিল। তারা এক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় থেকে প্রকৃত অর্থে নিজেদের দায়িত্ব—কর্তব্যের প্রতি সুবিচার করেননি। সাধারণ কৃষকরা প্রশাসন, সরকারি কাজের বিধিগত প্রক্রিয়া কিংবা কোথায় কী বলতে হবে ইত্যাদি বিষয়ে অজ্ঞ থাকেন। তাদের সঠিক পথের দিশা দেখানোর দায়িত্ব তাঁদেরই ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণের। কিন্তু তাঁরা সেটি করেননি। ফলে ওই হাওরগুলোর ৯ শ’ একর বোরো জমি আজ ঝঁুকির মধ্যে পড়ে গেল।
আশার কথা হলÑ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিলম্বে হলেও বিষয়টির উপর দৃষ্টি দিয়েছেন, তিনি ভাঙন বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছেন। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করে ওই ভাঙনে শুক্রবার থেকেই কাজ শুরুর আশ^াস দিয়েছেন। আমরা আশা করি তিনি প্রতিশ্রম্নতি মোতাবেক দ্রুত কাজ শুরু করাবেন। কারণ এবারের আবহাওয়ার অবস্থা খুব ভাল ঠেকছে না। প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। পাহাড়ে বৃষ্টি হলে কিংবা সমতলে বেশি বৃষ্টি হলে আকষ্মিক বন্যা হতে পারে। উজানের পাহাড়ি ঢলে হাওর এলাকা প্লাবিত হতে পারে। তাই দাড়াইন নদী তীরের ভাঙন দুইটিতে উপযুক্তভাবে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ দিয়ে কৃষকদের শঙ্কামুক্ত করতে হবে। এসব হাওরে যাদের জমি রয়েছে তাদের এখন সতর্ক থাকতে হবে এবং নির্মিতব্য বাঁধটি দ্রুত শেষ করার জন্য তাদেরকে সহায়ক ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। আমরা চাই না এক একর জমিও ঝঁুকির মধ্যে থাকুক। কারণ হাওরের এই সোনালী ধানই আমাদের জাতীয় রক্ষাকবচ। ধান ফললে দেশ হাসবে। এই হাসিটুকু অম্লান রাখতে আমরা সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করি।

