শাল্লা প্রতিনিধি
শাল্লা উপজেলায় ঝড়, বৃষ্টি আর বজ্রপাত উপেক্ষা করে পাকা ধান কাটতে ব্যস্তদিন কাটাচ্ছে কষেকের। বৃহস্পতিবার উপজেলার বৃহৎ ছায়ার হাওরে এসমন দৃশ্য দেখা যায়। প্রশাসন জানিয়েছেন পাহাড়ি ঢলে আগাম বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে। সেই খবরে কৃষক/কৃষাণীরা মরিয়া হয়ে তাদের এক মাত্র বোরো ফসল ঘরে তুলার কাজে দিন রাত শ্রম দিচ্ছেন।
ছায়ার হাওর পাড়ের উজানগাঁও গ্রামের বেলাল মিয়াসহ অনেকেই বলেন, উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের এক কৃষক বজ্রপাতে মারা গেছে। এছাড়াও প্রতি দিন ঝড় বৃষ্টি লেগেই আছে। এ সবের মাঝে জীবনবাজি রেখে ফসল কাটাছি।
মামুদনগরের বড় কৃষক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ফসল ভাল হয়েছে। মানুষ দিন রাত পরিশ্রম করে ধান কাটাছে।
তিনি বলেন, করোনা প্রভাবে বাইরের জেলার কৃষি শ্রমিক কম এসেছে। তবে এলাকার বাইরে থাকা স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীরা ফসল তোলার কাজে অংশগ্রহণ করায় এবার কৃষকরা বাঁচাবে। আর প্তাহ দশ দিন সময় পেলে ফসল কাটা শেষ হবে বলে তিনি জানান।
আনন্দপুর গ্রামের কৃষক কুমেদ দাস, অলক রায়, অঞ্জন দাস, শুধাংশু দাস, রতীন্দ্র রায়, পান্ডব দাস, অজিত রায় বলেন, ধান কাটা প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। দিন ভাল থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে কাটা শেষ হয়ে যাবে আশা করি । তবে ফসল বাড়ি নেওয়ার জন্য হাওরের রাস্তাগুলোর কাজ না করায় কৃষকের দুর্ভোগের অন্ত নেই।
ভান্ডাবিল হাওরের হবিবপুর গ্রামের কৃষক মন্জু দাস, মনোরঞ্জন দাস, হরিনগর গ্রামের শিমুল দাস হরলাল দাস,জানায় হাওরের জমির ফসল পেকে গেছে। শ্রমিকের কিছুটা সংকট হয়েছে। তবে দিনের অবস্থা ভাল থাকলে আগামী ৮/১০ দিনের মধ্যে ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে।
তারা আরো বলেন, ধান কাটা, মাড়াই, থেকে এখন বড় বিপদ হল ধান শুকানো যাচ্ছে না । তবে দিন ভাল হলে সেই সমস্যা ও থাকবে না বলে তারা জানান।
এনিয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আল আমিন চৌধুরী বলেন, এখন কৃষি শ্রমিকের তেমন কোন সংকট নেই। এলাকার মানুষ যেভাবে হাওরে নেমেছে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন ফসল ভাল হয়েছে আল্লাহর রহমতে ৭/৮ দিন ভাল থাকলে কৃষকের সোনার ফসল গোলায় উঠবে।


