স্টাফ রিপোর্টার
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সুনামগঞ্জের কৃষকরা নিরাপদে ধান কেটে গোলায় তোলেছেন। ‘ধান হলেই ধনী’ এমন বাক্য প্রতিফলিত হচ্ছে এবার সুনামগঞ্জের হাওরে। সোনালী ধান ঘরে তোলতে পেরে কৃষকরা খুশি।
জেলাজুড়ে যখন বৈশাখী ধান কাটার উৎসব তখন হতাশা ও ক্ষোভে ধানের জমিতে আগুন দিয়েছেন এক কৃষক সন্তান। সম্প্রতি জেলার শাল্লার উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের চাকুয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বর্গা নিয়ে চাষ করা পুরো জমির ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চাকুয়া গ্রামের কৃষক নিশিকান্ত দাশের ছেলে রনি দাস মনের দুঃখে আগুন দিয়ে প্রায় দেড় কেদার ধান পুড়িয়ে দিয়েছেন।
ধনের দেবী লক্ষী ও বসুন্ধরা কষ্ট পাবেন এই ভেবে ছেলে রনিকে ধানে আগুন দিতে বারন করেছেন বাবা কৃষক নিশিকান্ত দাস। ধানের জমি আগুনের পুড়ার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জমিতে আগুন দেওয়া রনি দাস হতাশার সূরে বলেন,‘ আমাদের ৬ কেদার জমি ছিল। সেই জমি বন্ধক রেখে বোনের বিয়ের দিয়েছি। এরপর অন্যের জমি বর্গা চাষ করি। এবার গ্রামের অসীম সিংহের ৫ কেদার জমি নগদ ১৭ হাজার টাকায় বর্গা চাষ করেছি। সার-বীজ ও চাষসহ প্রায় ১০ টাকা খরচ হয়েছে। ৪৪ জাতের হাইব্রিড ধান চাষ করেছিলাম। আশা ছিল অন্তত ১০০ মণ ধান পাব। কিন্তু কপাল খারাপ, সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ’
রনি দাস আরও বলেন,‘ ১৫-২০ দিন আগে যখন জমির ধান সাদা হয়ে মরার মত হচ্ছিল তখন গ্রামের মেম্বারকে জানিয়েছি। তবে ভূল করে কৃষি বিভাগকে জানানো হয়নি। কীটনাশক এনে দিয়েছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি। সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কাটার জন্য ধানে ধরলে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে পরে যায়। তাই কয়েকদিন আগে মনের দুঃখে ধানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলাম। তবে বাবার বাধার কারণে সব ধান পুড়ানো সম্ভব হয়নি।’ ধান নষ্ট হওয়ার পর সরকারি কোন ধরনের সহায়তা পাননি তাই গরু বিক্রি করে কিছু ধান ক্রয় করেছেন বলে জানান তিনি।
চাকুয়া গ্রামের বাসিন্দা হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শিথিল চন্দ্র দাস বলেন,‘ নিশিকান্ত দাসের জমির ধান নষ্ট হওয়ার বিষয়টি উপ সহকারি কৃষি অফিসার জয়ন্ত বাবুকে জানিয়েছি। তাদের সহায়তা দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে কথা বলেছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারকেও বিষয়টি অবগত করেছি।’
শাল্লা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুবিন চৌধুরী বলেন,‘ গত ৪ এপ্রিল গরম হওয়ার কারণে বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। যারা আমাদের কাছে এসেছেনও আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি তাদেরকে পরামর্শ দিয়েছি। চাকুয়া গ্রামের কৃষক নিশিকান্ত দাসের জমির বিষয়টি জানা যায়নি। আজই আমরা সরেজমিনে দিয়ে তার জমিটি দেখব।’
প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলায়ই বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো ধানের কাটা মাড়াই শেষে ধান গোলায় তুলতে এবার সুবিধা হয়েছে কৃষকের। তবে হিট শকে শাল্লার কিছু এলাকায় বোরো ধানের সামান্য পরিমাণে ক্ষতি হয়েছে।


