পিসি দাশ পীযুষ, শাল্লা
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড শাল্লার হবিবপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা আগুয়াই-শ্বাসখাই বাজারের মধ্যবর্তী স্থানে ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছে ‘দুর্গম হাওর সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্প’। ৪০০ গ্রাহক এই প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ পাবে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রহিমা আফরোজ এই প্রকেল্পের কাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন শীঘ্রই শাল্লা সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন হবে। অবশ্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেছেন,‘প্রকল্পটিতে বিদ্যুতের লোড আরো বাড়াতে হবে, না হয় উদ্দেশ্য সাধন হবে না’। শুক্রবার বিকালে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি দেখতে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিবের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের আগুয়াই-শ্বাসখাই বাজারের মধ্যবর্তী স্থানে ৪ একর ভূমির উপর নির্মিত হয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দুর্গম হাওর সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্প। এই প্রকল্পে ২৩২২ টি সোলার প্যানেল ও ৫৪০ টি ব্যাটারী ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ পাবে আগুয়াই, শ্বাসখাই বাজার, বিলপুর, সরসপুরসহ ১৬ টি পাড়ার ৪শ’ পরিবার।
হবিবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বলেন,‘শাল্লা সৌর বিদ্যুৎ পিলারগুলোতে এখনই মরিচা ধরেছে, পিলারে অনিয়ম হয়েছে কী-না দেখতে হবে। বিদ্যুৎ প্রকল্পের লোডও বাড়াতে হবে, যাতে পাওয়ার পাম্প চলতে সমস্যা না হয়’।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই প্রকল্প থেকে মিটার সংযোগ হবে পল্লী বিদ্যুতের নিয়মে। প্রত্যেক গ্রাহককে সংযোগের জন্য প্রাক্কলন ব্যয় ৭০৩ টাকা, নিরাপত্তা জমা ৩৭৫ টাকা দিতে হবে।
বিদুৎ বিভাগের দিরাই-শাল্লার আবাসিক প্রকৌশলী মো. আওলাদ হোসেন জানান, আগামী ২৫ নভেম্বরের মধ্যে শাল্লার দুর্গম হাওর সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন হবার কথা। গতকাল (শুক্রবারও) দুপুরে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মুখলেছুর রহমানসহ ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল কাজের অগ্রগতি দেখার জন্য প্রকল্প এলাকায় এসেছিলেন। তিনি জানান, প্রকল্পের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন হলে সংযোগ দেওয়া শুরু হবে। প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় এই এলাকার গ্রাহকদের মিটারের মূল্য না নেওয়ার চিন্তা করছে পিডিবি। পিলারে মরিচা ধরার বিষয়ে এবং লোড বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন,‘এখনো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ বুঝিয়ে দেয়নি। এখনই এ নিয়ে এধরনের মন্তব্য করা ঠিক হবে না’।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রহিমা আফরোজের কর্মচারী বাবুল আহমদ অবশ্য এই বিষয়ে কোন তথ্যই দিতে পারেননি। বাবুল আহমদ এই বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কথা বলতে রাজি হননি।


