শাল্লায় ব্যাপকভাবে হাঁসের মড়ক দেখা দিয়েছে বলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ওই সংবাদ থেকে জানা যায়, শাল্লা উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে কোন লোকজন না থাকায় খামারীরা মড়ক প্রতিরোধে কার্যকর কোন পরামর্শ পাচ্ছেন না । ফলে শাল্লায় দেখা দেয়া হাঁসের মড়কটি ক্রমশ বাড়ছে। ভাটি অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদে হাঁস পালন একটি জনপ্রিয় অর্থনৈতিক কর্মকা-ে পরিণত হয়েছে। মূলত বিস্তীর্ণ হাওরে হাঁস চড়ানোর সুবিধা ও প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস থাকায় এই অর্থনৈতিক কর্মকা-টি ভাটি অঞ্চলে ব্যাপকভাবে প্রসারিত হচ্ছে। অনেক দরিদ্র পরিবার হাঁস পালন করে কিছুটা হলেও নিজেদের দারিদ্রতা ঘুচাতে সমর্থ হয়েছেন। ভাটির প্রান্তিক মানুষের এই অর্থনৈতিক কর্মকা-কে সবধরনের সহযোগিতা দেয়া সরকারের বিঘোষিত নীতি। কিন্তু যখন প্রকৃত অর্থে এই সহযোগিতা সবচাইতে বেশি দরকার তখনই দেখা গেল প্রাণী সম্পদ অফিসে কোন লোক নেই। অফিসটি প্রায় সবসময়ই নাকি তালাবদ্ধ থাকবে। লোক না থাকলে ভবন তো তালাবদ্ধ থাকবেই। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হলো শাল্লার মতো একটি প্রত্যন্ত ও দারিদ্রপীড়িত অঞ্চলের প্রাণী সম্পদ অফিসটি লোক শূন্য থাকে কী করে? এতে করে যে ওই অঞ্চলের পশু-পাখি ভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকা- চরম হুমকির মধ্যে পড়ে যায় তা বিবেচনা করার কি কোন কারণ নেই? তাই বিষয়টি আমাদের কাছে খুবই দুঃখজনক মনে হয়েছে। আমরা প্রাণী সম্পদ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনারা দ্রুত শাল্লায় অভিজ্ঞ লোকজনকে পাঠিয়ে হাঁসের মড়ক প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিন। নতুবা দরিদ্র খামারিদের অর্থনৈতিক মেরুদ- ভেঙে যাবে।
শাল্লা বা এরকম প্রত্যন্ত উপজেলার সরকারি দপ্তর সমূহের অধিকাংশ পদই শূন্য পড়ে থাকে বছরের পর বছর ধরে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসাবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক এলাকার যেকোন স্থানে চাকুরি করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও শাল্লাসহ সুনামগঞ্জের উপজেলাগুলোকে যেন বাংলাদেশের বাইরের এলাকা বিবেচনা করা হয়। এখানে কাউকে পোস্টিং দেয়া হয় না, কদাচিৎ দুর্ভাগ্যবশত কারও পোস্টিং হলেও হয় তিনি তদবির করে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে অন্যত্র বদলি হয়ে যান নতুবা কর্মস্থলে না এসেই মাসকাবারি বেতন নেয়ার কৌশল খুঁজতে থাকেন। যেকোন দেশের অনুন্নত অঞ্চলকে উন্নয়নের মূল ¯্রােতে সংযুক্ত করতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরাই কেবল উল্টো পথের যাত্রী। অনুন্নত এলাকার প্রতি এমন বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি সার্বিক উন্নয়নের অন্তরায়। বহুবার দাবি করা হয়েছে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে সরকারি কর্মচারীদের পদায়নের বিশেষ নীতিমালা প্রণয়ন করার। এরকম নীতিমালা আছেও দেশে। বিশেষ করে চাকুরী জীবনে অন্তত একবার সকলের পাহাড়ি, হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলে পোস্টিং দেয়ার একটি বিধান আছে বলে আমাদের জানা আছে। কিন্তু বাস্তবত এটি কাজির গরু কেতাবে আছে গোয়ালে নেই এর মতো অবস্থা। শাল্লায় হাঁসের মড়ক দেখা দেওয়ার পর প্রাণী সম্পদ অফিসের যে গুরুত্ব স্থানীয় মানুষ অনুধাবন করছেন সেটি সকল সেবাদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্যও প্রযোজ্য। শাল্লা এবং এরকম অঞ্চলের মানুষকে তার প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত করা নিশ্চিতভাবেই চরম বৈষম্য। সরকারের বাস্তবায়ন বিভাগকে এরকম বৈষম্য পরিহারের পথ খুঁজতে হবে জাতি গঠনের লক্ষ থেকেই।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তার সাথে যোগাযোগের যে পরামর্শ দিয়েছেন গণমাধ্যমে সেটি অগ্রহণীয়। শাল্লা থেকে সুনামগঞ্জে এসে তার পরামর্শ গ্রহণ করা কতটা যুক্তিসঙ্গত সেটি তার বুঝা উচিত। এটি বুঝে তিনি যদি দ্রুত শাল্লার উপদ্রুত অঞ্চলে বিশেষ টিম প্রেরণের ব্যবস্থা নেন তাহলে আমরা সবিশেষ খুশি হব।

