স্টাফ রিপোর্টার, শাল্লা
শাল্লায় সরকারি বিনামূল্যে বিতরণের ৪৮০ কেজি বই জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তালেব।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সুপারভাইজার কালিপদ দাসের নেতৃত্বে পুলিশ উপজেলার কান্দিগাঁও গ্রামের ফেরিওয়ালা আবু সামাদের কাছ থেকে বইগুলো উদ্ধার করে। জিজ্ঞাসাবাদে আবু সামাদ উপজেলা সদরের হাসিমিয়া মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মন্নান ও অফিস সহকারি কামরুল ইসলাম বইগুলো বিক্রি করেছেন বলে জানায়।
এই ঘটনায় বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তালেব প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির অন্য ২ জন সদস্য হলেন সমবায় কর্মকর্তা আলমগীর কবির খান ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সুপারভাইজার কালিপদ দাস।
২০১৯-২০২০ ও ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিভিন্ন বিষয়ের ৪৮০ কেজি বই ১৩ টাকা কেজি দরে কিনেন ফেরিওয়ালা আবু সামাদ। বইগুলো কান্দিগাঁও গ্রামে একটি টং দোকানের সামনে রাখলে স্থানীয়রা সরকারি বই দেখতে পেয়ে ফেরিওয়ালা আবু সামাদকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। স্থানীয় লোকজন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সুপারভাইজারকে এ ঘটনা জানালে পুলিশসহ এসে তিনি বইগুলো উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মন্নানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বই বিক্রয়ের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো বই বিক্রি করিনি। মাদ্রাসার কয়েকটি পুরাতন টিন তিনি বিক্রি করেছেন বলে জানান।
মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি সোহেল আহমেদ বলেন, মাদ্রাসার বইগুলো বিক্রি করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না। তিনি বলেন, আমি কমিটির সদস্য হলেও আমাদেরকে কোনো বিষয়ে অবগত করা হয় নি। গোপনে তাঁরা বই বিক্রি করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু তালেব বলেন, সরকারি বিক্রয়কৃত বই উদ্ধারের ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্তের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।


