শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগ-সম্মেলনের ২৩ মাস পরও হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি

সুব্রত দাশ খোকন, শাল্লা
সম্মেলনের ২৩ মাস পরও শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশিত হয়নি। এ কারণে হতাশ হয়ে অনেক নেতা-কর্মী দলীয় কর্মসূচিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। এতে উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলটির সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হওয়ার শংকা করছেন নেতারা।
অবশ্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন চৌধুরীর মতে শাল্লা উপজেলায় দলের সাংগঠনিক শক্তি অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে এখন আরও সুসংহত ও সংগঠিত। পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশিত না হলেও আমাদের নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্দেশে ওয়ার্ড কমিটি, ইউনিয়ন কমিটি ও দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সাথে প্রতিনিয়তই যোগাযোগ হচ্ছে এবং তাদের সাথে নিয়ে দলের বিভিন্ন কর্মসূচী পালিত হচ্ছে। এতদিন নানা ব্যস্ততার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তবে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ০২ ডিসেম্বর ২০১৪ ইং শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল দীর্ঘ ১৭ বছর পর। তখন সভাপতি পদে পুন:নির্বাচিত হন বর্ষিয়াণ নেতা মহিম দাশ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন চৌধুরী আব্দুল্লা  আল মাহমুদ (আল-আমিন)।
এরপর দীর্ঘ ২৩ মাস পার হয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। এতে করে উপজেলার অন্য সব নেতাকে এখন নিজেদের সাধারণ কর্মী বা সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে হচ্ছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। সাংগঠনিক পরিচয়ের অভাবে অনেকে দলীয় কর্মকান্ডে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের বেশ কয়েক জন নেতাকর্মী জানান, গত জানুয়ারিতেই জেলা কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সুনামগঞ্জ জেলার অন্যান্য উপজেলার ন্যায় শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিও কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী উপজেলা দিরাই আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনেক আগেই ঘোষণা করা হয়ে গেছে। অথচ রহস্যজনক কারণে আমাদের শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হচ্ছে না।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুস সাত্তার মিয়া বলেন,‘ এটা সত্যি যে এতদিনেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী হতাশায় ভোগছেন। তারা দলীয় কর্মসূচি পালনে উৎসাহ পাচ্ছেন না। যত দ্রুত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবেন তবেই দলের জন্য মঙ্গল হবে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সহ-সভাপতি সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘ বর্তমানে শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগে দৃশ্যত কোন কোন্দল নেই। তারপরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় গত ২ বছরে দলের কার্যনির্বাহী পরিষদের কোন সভা হয়নি। এতে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিম চন্দ্র দাশ বলেন,‘বেশ কিছু দিন আমি অসুস্থ ছিলাম। সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন সাহেবও অসুস্থ ছিলেন। তারপর আসে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল । এই সব নানা সমস্যা ও ব্যস্ততার কারণে এতদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। তবে আগামী ৮/১০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন,‘ দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পূর্বেই উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দিতে হয়। আমাদের জেলা সম্মেলন যেহেতু গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে।  সেহেতু আমরা জানুয়ায়ি মাসেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন সাপেক্ষে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। এতদিন যাবৎ শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন প্রকাশ করা হয়নি তা উপজেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করলে বিস্তারিত জানতে পারবেন।’