সুব্রত দাস খোকন, শাল্লা
শাল্লা উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসক থাকার কথা ১৩ জন। আছেন ১ জন, তাও উনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা। একই ধরণের চিত্র উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, নার্স, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সহ সব ধরনের পদের ক্ষেত্রে। লোকবলের অভাবে স্বাভাবিক স্বাস্থ্য সেবা বিঘিœত হচ্ছে।
বিষয়টি স্বীকার করে শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা: মো: হেলাল উদ্দিন সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন- স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ১৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছি শুধু আমি, অন্য আর একজন প্রেষণে ঢাকা মেডিকেলে কর্মরত। অধিকাংশ পদ শূন্য থাকায় রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে ঠিক। তবে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে যেন বিঘœ না ঘটে, প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে সেদিকেও লক্ষ্য রাখছি। প্রশাসনিক কাজে উপজেলার বাহিরে গেলে একমাত্র উপ: সহ: কমি: মেডিকেল অফিসার হিসাবে কর্মরত ডা: সুমন আহম্মদ হাসপাতালের রোগীদের দেখভাল করেন। আমাদের শত অসুবিধার মাঝেও রোগীদের সেবা প্রদানে যেন বিঘœ না ঘটে, সেদিকে লক্ষ্য রাখছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, বর্তমানে ৩১ শষ্যার হাসপাতালটিতে বহি:র্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী, জরুরী বিভাগে ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এবং হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগী থাকে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জনের মত। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্বাস্থ্য সহকারী বলেন- হাসপাতালটিতে কর্মরত একমাত্র ডাক্তার স্বাস্থ্য ও প: প:
কর্মকর্তা ছুটিতে অথবা প্রশাসনিক কাজে হাসপাতালের বাহিরে অবস্থান করলে রোগীদের চিকিৎসা না নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় নতুবা বাধ্য হয়ে বাজারের হাতুড়ে ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা নিতে হয়।
এই প্রতিবেদক গত সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় হাসপাতালে গেলে শুরুতেই চোখে পড়ে, টিকেট কাউন্টার শূন্য, ঔষধ বিতরণ কক্ষে একজন বহির্বিভাগের রোগীদের টিকেট দেওয়ার পাশাপাশি অন্য রোগীদের ঔষধও দিচ্ছেন। নিজের পরিচয় দিয়ে উনাকে নাম জিজ্ঞাসা করলে বলেন উনার নাম নিরঞ্জন দাস, পদবী জুনিয়র মেকানিক। দুই বছর যাবৎ বহির্বিভাগের রোগীদের টিকেট দেওয়ার পাশাপাশি ফার্মাসিস্টের কাজও করছেন কারণ ফার্মাসিস্টের ৩টি পদের সবকটিই শূন্য। হাসপাতালের জরুরী বিভাগসহ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের প্রত্যেকটি কক্ষই শূন্য পাওয়া যায়। সবখানেই যেন শুনশান নিরবতা। হাসপাতালেরর ভিতরে স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তার রুমের সামনে ২০/৩০ জন মানুষের জটলা দেখে রুমের ভিতরে উঁকি দিয়ে উনাকে রোগী দেখতে ব্যস্ত দেখা যায়।
হাসপাতালের অফিস সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের ১০৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৫ জন, ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিষ্টের সবকটি পদসহ ৬৩টি পদই শুন্য।
৪নং শাল্লা ইউপি’র চেয়ারম্যান জামান চৌধুরী বলেন- ডাক্তার ছাড়া হাসপাতাল চলে কি করে ? শুনেছি স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য আর একজন ডাক্তারের পোষ্টিং শাল্লায় কিন্তু বর্তমানে উনি প্রেষণে ঢাকায় আছেন । আগামীকাল মঙ্গলবার মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করব। হাসপাতাল ডাক্তার শূন্য করে কিভাবে উনাকে প্রেষণে অন্যত্র দায়িত্ব দেওয়া হলো?
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা: গৌতম রায় বলেন- আমি আজ সোমবার সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ডিজি মহোদয়ের প্রতিনিধি সহ সিভিল সার্জনদের একটি ফোরামে সুনামগঞ্জ জেলার ডাক্তার স্বল্পতার বিষয়টি তুলে ধরেছি। সারা জেলায় ২৫০জন ডাক্তারের স্থলে আছেন ৯৮জন। আর শাল্লায় তো আরও ভয়াবহ অবস্থা মাত্র ১জন ডাক্তার দ্বারা হাসপাতাল চলে কি করে ? আজকালের মধ্যে নতুন সিভিল সার্জন যোগদান করবেন উনার মাধ্যমে বিভিন্ন ফোরামে ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে অনুরোধ করব শাল্লায় ডাক্তার দেওয়ার জন্য। হেলাল সাহেব ব্যতীত অন্যজন প্রেষণে কিভাবে অন্যত্র কর্মরত আছেন আমি জানি না। বিষয়টা আমাকেও ভাবায়।


