শাল্লা-জলসুখা সড়ক, জমি অধিগ্রহণের কাজ তরান্বিত হোক

বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্যন্ত উপজেলার নাম শাল্লা। জেলার বিবেচনায় সবচাইতে দুর্গম উপজেলা এটি। এই উপজেলায় এখনও সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়নি। বহু আগে দিরাই থেকে শাল্লা পর্যন্ত সড়ক স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই কাজটি শেষ না হওয়ায় এখনও লোকজনকে ‘নায়ে অথবা পায়ে’ যেতে হয় শাল্লা। শাল্লাবাসীর দাবিÑ জেলার সাথে সহজ যোগাযোগের জন্য দিরাই-শাল্লা সড়ক এবং রাজধানীর সাথে সড়ক যোগাযোগ সহজিকরণের জন্য শাল্লা-জলসুখা সড়ক স্থাপন। সরকার শাল্লা-জলসুখা ১৬ কিলোমিটার সড়ক স্থাপনের জন্য ৭৬৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। এই প্রকল্পের আওতায় কালনী নদীর উপর ৮৮৮ মিটার দীর্ঘ সেতুসহ ৯টি সেতু ও ৩৬টি কালভার্ট নির্মিত হবে। সড়ক পথের জন্য জায়গার এলাইনমেন্টও হয়ে গেছে। এলাইনম্যান্ট অনুসারে হবিগঞ্জ অংশের জমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুত এগিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জ অংশে জমি অধিগ্রহণের কাজ এখনও শুরু করা যায়নি। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে এ সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদে জমি অধিগ্রহণে বিলম্বের জন্য সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার শঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে। ৬ মাস আগে এলাইনম্যান্টের কাজ শেষ হলেও শাল্লার উপজেলার নির্বাহী অফিসার অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরুর জন্য কোন চিঠিই পাননি বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। চিঠি পাওয়ার পর অধিগ্রহণের আওতাভুক্ত জমি কী অবস্থায় রয়েছে সে প্রতিবেদন তিনি দিবেন। একই সড়কের হবিগঞ্জ অংশের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় গতি থাকলেও সুনামগঞ্জ অংশে এসে কেন স্থবির হয়ে গেলো তার কোন নির্দিষ্ট কারণ নেই। অথচ এ কারণে নির্দিষ্ট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন পিছিয়ে যেতে পারে। শাল্লার মানুষ এই সড়কটি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষমাণ রয়েছেন।
আমাদের দেশে উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়নের প্রধান অন্তরায় হলÑ সময়ের কাজ সময়ে না করা। এজন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ বেড়ে যায়। এতে প্রকল্প ব্যয়ও বাড়তে থাকে। নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্প শেষ না করে মাঝ পথে ব্যয় বাড়ানোর লক্ষ্যে সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব দাখিলের জন্য সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী একনেক সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ক্ষোভ উন্নয়ন কর্মকা-ে গতি আনয়নের আকাক্সক্ষাপ্রসূত। কিন্তু প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মকা- বাস্তবায়নের দায়িত্ব যাদের উপর ন্যস্ত থাকে তাদের অনেকেই এক ধরনের ঢিলেঢালা মনোভাব পোষণ করেন। এই কারণেই সময়ের কাজ সময়ে শেষ হয় না। আলোচ্য সড়কটি হয়ে গেলে রাজধানীর সাথে শাল্লাবাসীর যোগাযোগ অনেক সহজ হয়ে যাবে। মাত্র ৪-৫ ঘণ্টায় সড়কপথে ঢাকা পৌঁছানো যাবে। এই সড়ক এবং দিরাই-শাল্লা সড়ক হয়ে গেলে শাল্লার জীবনযাত্রা ও উন্নয়নের চিত্র একেবারে বদলে যাবে। হাওরের তলানির এই জনপদটি তখন দেশের অপরাপর অংশের সমতলে আসার সুযোগ পাবে। একটি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য প্রকল্প বাস্তবায়নে কোন ধরনের দীর্ঘসূত্রিতা কাম্য নয়।
যাই হোক, সড়কটির জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজটিতে যাতে আর কোন ধরনের সময়ক্ষেপণ করা না হয় সেদিকে নজর দেয়ার জন্য আমরা দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। ২০২৩ সনের জুলাই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে। বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় এই সময়ের মধ্যে এতগুলো সেতু, কালভার্টসহ সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আমাদের মনে হয় না। তবু যাতে কাজ শেষ করার মেয়াদ অনির্দিষ্ট কালের জন্য প্রলম্বিত করা না হয় সেটুকু নিশি^চত করা জরুরি। যেভাবে দিরাই-সুনামগঞ্জ সড়কটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে সে ধরনের অনিশ্চয়তা রাজধানীর সাথে যোগাযোগ তৈরিকারী সড়কটির ক্ষেত্রে না হোক এই আমাদের কামনা।