শাল্লা থানার সামনে অমানবিক এই ঘটনা কারা ঘটালো?

বিশেষ প্রতিনিধি
‘গাছও পানকৌড়ি টাল মারা আছিল, সকালে বাজার কইরা যাওয়ার সময় দেখলাম থানার সামনে ডাল কাটের, পানকৌড়ির বাইচ্চার সাথে মা পাখিও মাটিত পড়ের, আর কয়েকজনে জবাই কইরা তুলের ট্রলিতে। দেইক্কা খারাপ লাগছে, আমরার বাধাতো কেউ হুনতো নায়, ইতারলাগি না মইত্তা আইছি।’
শাল্লা উপজেলা সদরের ডুমরা গ্রামের জুয়েল চৌধুরী থানার সামনের গাছের ডাল কেটে পানকৌড়ি হত্যার কথা এভাবেই জানাচ্ছিলেন।
একই গ্রামের অনুপম দাশ বললেন, মঙ্গলবার ছয়টা থেকে ডাল কাটা শুরু হয়েছিল। ছোট বড় অসংখ্য পাখিই এসময় নীচে পড়েছে। যারা ডাল কাটছে, তারাই জবাই করে ট্রলিতে তুলেছে পাখি। তিনি জানান, কমপক্ষে তিনশ পানকৌড়ি মেরেছে তারা।
ভাতগাঁওয়ের দরখাস্ত মিয়া বললেন, গাছের ডাল কাটছে, পাখিও মারছে, বহু সময় এভাবে দেখেছি, কেউ বাঁধা দিচ্ছে না। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসে বাঁধা দিয়েছেন, তার বাঁধার পরেও ডাল কেটেছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ^জিৎ চৌধুরী নান্টু বললেন, আলম মিয়া নামের একজনের নেতৃত্বে ডাল কাটা হচ্ছিল। আমি বাঁধা দেবার পর বললো, থানার ওসি সাহেব এগুলো উপজেলা পলিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দীপু রঞ্জন দাসের ভাই দিলীপ রঞ্জন দাসের কাছে জলমহালের কাঁটার জন্য বিক্রয় করেছেন। আমি বাঁধা দিয়ে বলেছি, ডালের সঙ্গে পাখিতো বিক্রয় হয় নি। পাখি কেন মারছো, আর পাখির আবাসস্থল ডাল কাটার আগে উপজেলা পরিষদে সিদ্ধান্ত নিয়ে বনবিভাগের অনুমতি নিতে হবে। এসময় ইলিয়াছ মিয়া নামের একজন থানার ওসি সাহেবকে ফোন দিতে দেখেছি। আমি সকলকে পাখি মারতে নিষেধ করে আসি।
দিলীপ রঞ্জন দাস বললেন, আমি জলমহালের কাঁটার জন্য ডাল কিনি নি, আমার কেনা ডাল কেটেছে একথা সত্য নয়।
শাল্লা উদীচী’র সভাপতি তরুণ কান্তি দাস বললেন, ডাল কাটা জরুরি হলে পাখি বিদায় করেও ডাল কাটা যেত। ডালের সঙ্গে এভাবে পাখি মারা কোনভাবেই ঠিক হয় নি।
শাল্লা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বললেন, থানার সামনের সড়কের উপর কিছু ডাল কাটা হচ্ছিল শুনে আমি ঘুম থেকে ওঠে আসি। আমাকে দেখে যারা ডাল কাটছিল তারা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। পাখির ক্ষতি কেউ করতে পারে নি। থানা এলাকায় কেউ পাখি এভাবে মারা দূরে থাক, শিকারও করতে পারে না। এজন্য পাখিতে ভরে গেছে এখানকার গাছ গাছালি।