(গণমানুষের শিল্পী শাহ আব্দুল করিমের এই গানে চৈত্র মাসে বোরো ফসল হানির একটি ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ মিলে। একই সাথে অকাল বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষার বিষয়ে তাঁর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার একটি পরিচয় পাওয়া যায়। এবারের ব্যাপক ফসল হানির প্রেক্ষাপটে এই গানটি খুবই প্রাসঙ্গিক-সু.খবর)
চৈত্র মাসে বৃষ্টির জলে নিল বোর ধান
ভেবে মরি হায় কি করি বাঁচে কি না প্রাণ।।
হাওর এলাকায় থাকি আমরা কৃষাণ
হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করি ফলাই বোর ধান
এসে বন্যার জল অকালে ডুবাইয়া নিল
হাওরের ফসল, মানুষ হয়েছে পাগল
গরিবের নাই সহায় সম্বল বড়ই নিদান।।
দারুণ সমস্যা এসে দাঁড়ালো হঠাৎ,
ঘাস বিনে মরিবে গরু মানুষের নাই ভাত
বাড়ির ঘাটেতে পানি গরিবের ভাঙ্গা ঘর
চালে নাই ছানি ভাবে দিন রজনী
কার দু:খ কে বা শুনি সবাই পেরেশান।।
স্ত্রী বলে, ওগো আমি কোথায় যাই
লবন মরিচ পিঁয়াজ রসুন কেরোসিন তৈল নাই
জানো তো খবর ,একেবারে ছিঁড়ে গেছে মোর
পরনের কাপড় এবার সমস্যা বিস্তর
স্বামী বলে, নৌকা নাই মোর বড়ই নিদান।।
এই দেশেতে ফসল রক্ষা বড়ই বিভ্রাট
দেশের যত নদী নালা হয়েছে ভরাট
বৃষ্টি হইলে কুল ডুবাইয়া নদীর পানি
হাওরে চলেÑ ফসল নিল সমূলে
নদী খনন না হইলে নাই সমাধান।।
যে পানিতে সোনার ফসল ডুবাইয়া নিল
স্বচক্ষে দেখেছো পানি কোন পথে আইলো
ফিরে আসবে বারে বারে যমে চিনেছে বাড়ি
হও হুশিয়ার নইলে উপায় নাই যে আর
ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার খোঁজ নেও সন্ধান।।
আর কোন ভরসা নাই করি এক ফসল
বারে বারে নষ্ট করে এসে বন্যার জল
দুর্বলতা ছাড়ো বাঁচার জন্য কাজ করে যাও
নিজে যাহা পারো কোদাল শক্ত করে ধরো
করিম বলে চেষ্টা করো হইবে কল্যাণ।


