শিক্ষককে পুলিশে দিলেন এলাকাবাসী

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রীকে মোবাইল ফোনে ‘অশ্লীল’ ভিডিও দেখানোর অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে পুলিশে দিয়েছেন এলাকাবাসী। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রথমে বিদ্যালয় ঘেরাও দিয়ে ওই শিক্ষককে মারধরের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের মাইজবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান হয়।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান, ওই এলাকা থেকে মঙ্গলবার দুপুরে ফোনে তাকে বিষয়টি জানালে তিনি ওই বিদ্যালয়ে যান। তখন কয়েকজন অভিভাবক জানান, প্রধান শিক্ষক চারজন ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের ছাদে ডেকে নিয়ে মোবাইলে থাকা ‘অশ্লীল’ ভিডিও ক্লিপ দেখান। এ সময় দুুজন ছাত্রী সেখান থেকে দৌঁড়ে নেমে গিয়ে বাড়িতে বিষয়টি জানায়। পরে এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষককে ঘেরাও দিয়ে রাখেন। পরিস্থিতি অবনতির দিকে যেতে থাকলে তিনি পুলিশকে ফোন করেন। এরপর পুলিশ গিয়ে ওই শিক্ষককে তাদের হেফাজতে নিয়ে আসে। আবুল হোসেন বলেন,‘আমরা সত্য-মিথ্যা জানি না। তবে কয়েকজন অভিভাবক এসব অভিযোগ করেছেন। গ্রামের কয়েকশ মানুষ সেখানে ছিলেন। পুলিশ না গেলে পরিস্থিতি খুবই খারাপ হতো।’
একজন ছাত্রীর অভিভাবক অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক ছাত্রীদের অশ্লীল ভিডিও দেখতে বাধ্য করেছেন। কাউকে এ নিয়ে কোনো কিছু বললে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ারও হুমকি দেন তিনি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সহিদুর রহমান মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানান, তারা খবর পেয়ে ওই বিদ্যালয়ের গিয়ে দেখনে কয়েকশ লোক ঘেরাও দিয়ে আছেন। মানুষজন ক্ষুব্ধ। পরে প্রধান শিক্ষককে থানায় নিয়ে আসেন তারা। তিনি বলেন,‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। ওই শিক্ষক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন।’