শিক্ষকদের জন্য পানি থাকলেও পিপাসাকাতর শিক্ষার্থীরা

শহীদনূর আহমেদ
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে খাবার পানির সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। কলেজ ক্যাম্পাসে বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা না  থাকায়  খাবার পানি সংগ্রহে শিক্ষার্থীদের সীমাহীন কষ্ট করতে হচ্ছে। ক্লাস চলাকালীন তৃষ্ণার্ত শিক্ষার্থীদের পিপাসা মেটাতে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। কলেজ ক্যাম্পাসে পানির সরবরাহের জন্যে  কর্র্তৃপক্ষের কাছে বার বার অনুরোধ করেও সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তবে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে দুইটি নতুন টিউবওয়েল স্থাপনের জন্যে পৌর মেয়র আয়ূব বখ্ত জগলুল এর সহযোগিতা চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুস সাত্তার। গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ছাত্র-ছাত্রীদের খাবার পানির সংকটের ভয়াবহতা লক্ষ করা যায়। অনেক শিক্ষার্থীতে দূরের টিউবওয়েল কিংবা দোকানে গিয়ে পানি পান করতে দেখা গেছে। তবে এক্ষেত্রে ছাত্রীদের সমস্যা বেশি। তারা বাইরে যেতে বিব্রত হন তাই তৃষ্ণা সহ্য করেই ক্লাস শেষ করতে হয়।
জানাযায়,  হিসাব বিজ্ঞান ভবনের পিছনে ১০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে একটি গভীর নলকুপ বসানো হলেও তা শুধু শিক্ষকদের প্রয়োজনে ও অফিসিয়াল কাজে ব্যবহার করা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যে রাখা হয়নি কোন ব্যবস্থা। এ নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ শিক্ষার্থী ও কলেজভিত্তিক সংগঠন জল তরঙ্গের সভাপতি আবু ছালেহ বলেন, কলেজে বিশুদ্ধ পানির তেমন সুব্যবস্থা নেই। খাবার পানির ব্যবস্থা না থাকায় ছাত্র ছাত্রীদের সমস্যা হচ্ছে। আমারা এব্যাপারে কলেজ কর্তৃপক্ষকে অনেক বার অনুরোধ করেছি কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। আমরা আশা করব কর্তৃপক্ষ খাবার পানির সঙ্কট নিরসনে তৎপর হবেন।
শিক্ষার্থী নিলুফা আক্তার বলেন,এত বড় কলেজে পানি খাবার কোন ব্যবস্থা নেই তা লজ্জাজনক। ক্লাস চলাকালীন সময়ে পিপাসায় অনেক কষ্ট হয়। বাধ্য হয়ে বাহির থেকে পানি কিনে খাচ্ছি। আমরা না হয় কিনে খাব কিন্তু সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা কি পুকুরের পানি খাবে? শিক্ষকরা তো ঠিকই পানি খাচ্ছেন তবে আমাদের পানি কই?
রুপেশ দাস নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, দুতিন বছর যাবৎ অনেক বার কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি খাবার পানির সুব্যবস্থা করার জন্যে কিন্তু সব সময় আশার বাণী শোনানো হচ্ছে। আশা করব কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সুনজর দিবেন।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুস সত্তার বলেন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে টিউওবেল স্থাপনে  শিক্ষা প্রকৌশলীর কাছে আমারা বার বার ধরনা দিয়েছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি। শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা চিন্তা করে শেষমেষ পৌর মেয়রের কাছে টিউওবের স্থাপনে সহযোগিতা চেয়েছি। তিনিও আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। অচিরেই দুটি টিউবেল কলেজ ক্যাম্পাসে স্থাপন করে দেয়া হবে। দুইটি টিউওবেল এর ফি বাবদ ৪৫০০ টাকা আমরা পৌরসভায় সমা দিয়েছি। আশা করছি সপ্তাহ খানেকের মধ্যে কাজ শুরু হয়ে যাবে।