শিক্ষকদের বেতন বিলে স্বাক্ষর না করায় সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
শিক্ষকদের বেতন বিলে স্বাক্ষর না করায় সভাপতির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকসহ ২০ জন সহকারী শিক্ষক ও কর্মচারী ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ২০ জন সহকারী শিক্ষক ও কর্মচারী তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ইউএনও সুপ্রভাত চাকমা।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আমির শাহ দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই শিক্ষক কর্মচারীদের সরকারি বেতন বিলে স্বাক্ষর দিতে গড়িমসি করে আসছেন। তাদের মে/২০২৩ মাসের বেতন ভাতার সরকারি বিল দাখিল করার সর্বশেষ তারিখ ছিল গত ৮জুন পর্যন্ত। বেতন বিলে প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষর করে একজন শিক্ষককে দিয়ে ৭ জুন তারিখে সভাপতির নিকট বিল পাঠালে ঐ শিক্ষককে কোন বিলে স্বাক্ষর দিবেন না বলে সভাপতি জানান। শিক্ষককে তিনি গালিগালাজ করে বিদায় করে দেন। লিখিত অভিযোগে সভাপতির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের কথাও উল্লেখ করে বলা হয়, সভাপতির অনুমতি নিয়ে ৪র্থ শ্রেণির ৩ জন কর্মচারী নিয়োগের জন্য লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। উক্ত পরীক্ষার ফলাফল সিটে নিয়োগ বোর্ডের ৫ জন সদস্যের মধ্যে ৪ সদস্য স্বাক্ষর করেন। কিন্তু সভাপতির পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত না হওয়ায় তিনি ফলাফল সিটে স্বাক্ষর করেননি। যার কারণে ৩ জন কর্মচারীর নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
লিখিত অভিযোগের অনুলিপি চেয়ারম্যান মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সিলেট,জেলা প্রশাসক সুনামগঞ্জ,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাহিরপুরকে দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আমির শাহ দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। তার অনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে না পারায় এখন পর্যন্ত একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া অসম্পন্ন রয়েছে।
বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. আমির শাহ বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অফিস সময়ের একঘন্টা পরে এসেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে, ১৮ মাস ধরে প্রধান শিক্ষক কোন হিসাব নিকাশ দেখাচ্ছেন না তাছাড়া বিদ্যালয়ে দুই মাস আগে বই চুরি হয়েছে সে বিষয়েও প্রধান শিক্ষক থানায় কোন জিডি করেননি। এ সমস্ত কারণেই বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকদের বেতন বিলে স্বাক্ষর দেইনি।