ধর্মপাশা প্রতিনিধি
রাতের আঁধারে দুটি ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বই ও বিদ্যালয়ে সরবরাহকৃত পুষ্টি সমৃদ্ধ বিস্কুটের খালি বাক্স (কাগজের তৈরি)। বিষয়টি স্থানীয়দের মনে সন্দেহের দাগ কাটে। স্থানীয়রা ভ্যান চালকদের জিজ্ঞাস করলে বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। খবর পেয়ে ছুটে আসেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা। এ সময় ঘটনাটি ফেসবুকে লাইভ করে কয়েকজন। বিষয়টি মূহুর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্যানসহ বই ও বিস্কুটের বাক্স জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। এরই সাথে বেরিয়ে আসে বই ও বিস্কুটের বাক্স বিক্রির মূল হুতা আলী ইসলাম খানের নাম। যিনি ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বেরিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মঙ্গলবার মধ্যরাতে বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে ওইসব মালামাল জব্দ করা হয়। ভ্যান চালকেরা জানিয়েছে আলী নূর ইসলাম খানই বই ও বিস্কুটের বাক্স তাদের কাছে বিক্রি করেছেন। ভ্যান চালকেরা তাদের কাছে থাকা আলী নূর খান স্বাক্ষরিত ক্রয় সংক্রান্ত একটি রশিদ পুলিশকে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু সাঈদ।
এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী নূর ইসলাম খান দাবি করেছেন উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ মুকুলকে অবহিত করে তিনি বই ও বিস্কুটের বাক্সগুলো উপজেলায় পাঠাচ্ছিলেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছেন আহসান উল্লাহ মুকুল ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস। এ ঘটনার তদন্তে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক প্রায় ৬০০ কেজি বই ও বিস্কুটের কাটন বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির কেউ কিছুই জানি না।’
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আলী নূর ইসলাম খান জানান, বই ইদুরে কাটায় এলোমেলোভাবে পড়ে থাকায় কক্ষ অপরিস্কার হয়েছিল। তাই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ মুকুলকে অবহিত করে বইগুলো উপজেলায় পাঠাচ্ছিলেন।’
উপজেলায় বই পাঠাচ্ছিলেন এমনটি সঠিক নয় জানিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, ‘ওই প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।’
ধর্মপাশা থানার ওসি মো. খালেদ চৌধুরী বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে। জব্দকৃত মালামাল আমাদের জিম্মায় রয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


