শহীদনূর আহমদ
ভাটিবাংলার নারী শিক্ষার অগ্রদূত হিসাবে সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৭৫ বছর পূর্ণ করেছে। ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে অবিরাম। দেশ বিদেশে অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আসীন রয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রীরা। বিগত ৭ বছর যাবৎ জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জেলার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি জেলার নারী শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও শিক্ষক, অবকাঠামোসহ অসংখ্য সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত বিদ্যাপীঠের আধুনিকায়ন ও লোকবল, অবকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারলে প্রতিষ্ঠানটি সিলেট বিভাগের নারী শিক্ষার সম্ভাবনায় মাইলফলক হবে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রাক্তন ছাত্রীদের।
জানা যায়, সরকারি এসসি বালিকা বিদ্যালয়ে বর্তমানে অধ্যায়নরত আছেন প্রায় ১২০০ ছাত্রী। ৫২ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও ২০ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় মানসম্মত শিক্ষাকার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে শিক্ষকদের। অবকাঠামোগত সমস্যাও চরম। ক্লাসরুমের সংখ্যা ও আয়তন পর্যাপ্ত না হওয়ায় অনেক সময় গাদাগাদি করে বসতে হয় ছাত্রীদের। ছাত্রী মিলনায়তন না হওয়ায় ক্লাস বিরতিতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে অবসর সময় পাড় করতে হয় শিক্ষার্থীদের। ছাত্রীদের জন্যে নেই হোস্টেল
ব্যবস্থা। আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় সুযোগ পেয়েও শিক্ষাগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য ছাত্রী। শিক্ষকদের জন্যে নেই ডরমেটোরির ব্যবস্থা। ডরমেটোরি ব্যবস্থা না থাকায় মহিলা শিক্ষক ও অন্য জেলার শিক্ষকগণ কিছুদিন অবস্থান করেই অন্যত্র বদলীর চেষ্টা করেন।
বিজ্ঞান গবেষণার জন্যে ২টি বিজ্ঞানাগার থাকলেও ছাত্রীদের চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। বিদ্যালয়ে রয়েছে ১টি কম্পিউটার ল্যাব ও ১ টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম। বিদ্যালয়ে নেই কম্পিউটার শিক্ষক। প্রয়োজনীয় শৌচাগার না থাকায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে অধ্যয়নরত ছাত্রীদের। আসবাবপত্রেরও রয়েছে অপর্যাপ্ততা। ব্রেঞ্চ, ড্যাস্ক, চেয়ার, টেবিল, আলমারিসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের রয়েছে ঘাটতি। শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠটি ছোট হওয়ায় খেলাধুলার অনুষ্ঠান আয়োজন করতে নানা প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়। দুইজন অফিস সহকারি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে একটি পদও দৃশ্যমান নেই। ৫ এমএল এসএসের পদ থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ২ জন, শূন্য রয়েছে লাইব্রেরিয়ান, নাইটগার্ড, মালি, দপ্তরী’র পদগুলো।
মূল ভূমির তুলনায় বিদ্যালয়ের মাঠ নিচু হওয়ায় বর্ষায় ড্রেনের ময়লা পানিতে ভেসে যায় বিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও মূল ভূমির সমান মাটি ভরাট করা গেলে এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া যেতো।
অবকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিদ্যালয়ের পূর্ব দিকের মাঠে ভরাটকৃত ডোবায় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নান কর্র্তৃক ৫ তলা ভবনের জন্যে ডিও লেটার জমা দেয়া হলেও একবছরেও কোন অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।
সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের এমন দীর্ঘ পরিক্রমায় বিদ্যালয়ের সকল সমস্যাা সমাধানে কর্তৃপক্ষের সুনজর কামনা করছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অধ্যায়নরত ও প্রাক্তণ ছাত্রীরা।
বিদ্যালয়ের জেএসসি পরীক্ষার ফলপ্রার্থী ফাইজা আঞ্জুম বলেন, ‘সরকারি এসসি বালিকা বিদ্যালয় জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। ক্লাসরুম, কমনরুম সংকট রয়েছে।’
সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রহীম বলেন, ‘এসসি বালিকা বিদ্যালয় জেলার নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে লোকবল ও অবকাঠামোগত সমস্যা চরম। এতে মান সম্মত শিক্ষাপ্রদানে পড়তে হয় সমস্যায়। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্তরিক থাকায় তাদের পরিশ্রমে বিদ্যালয় তাঁর শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে। বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো স্থায়ী সমাধান হলে মানসম্মত শিক্ষাগ্রহণে সিলেট বিভাগে উজ্জ্বল ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আসা করতে পারি।’


