আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
শিক্ষক না পল্লী চিকিৎসক। এখন প্রশ্ন উঠেছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে। বিদ্যালয়ের সময়সূচি ৯ টা, পাঠদানের সময়সূচি সাড়ে নয়টা। কিন্তু কালীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সকাল ৯ টা থেকে স্থানীয় ভীমখালী বাজারে রোগী দেখা শুরু করেন। সেই সুযোগ আর অজুহাতে অন্যান্য শিক্ষকরাও স্কুল ফাঁকি দিয়ে বিদ্যালয়ে না গিয়ে পাঠদানে অনুপস্থিত থাকেন। কোন উপায়ন্তর না দেখে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিজেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ সকল শিক্ষকের অনুপস্থিতি ও অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সোমবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভীমখালী ইউনিয়নের কালীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনোযার পারভেজ।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষক করুণা মোহন দত্ত নিজের পল্লী চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে শিক্ষকতার পেশায় ঠিক মত সময় দিতে পারেন না। যার দরুন অন্যান্য শিক্ষকরা নিজেদের খেয়াল খুশীমত স্কুলে আসা যাওয়া করেন। অন্য শিক্ষকরা পালাক্রমে আসেন। শিক্ষকরা সময়মতো স্কুলে না থাকলেও হাজিরা খাতায় ঠিকই স্বাক্ষর দিয়ে যান আগের দিন।
অভিযোগে তিনি আরো উল্লেখ করেন, প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়ম ও স্কুল ফাঁকির বিষয়গুলি নিয়ে একাধিকবার জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি।
কালীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক করুণা মোহন দত্ত বলেন,‘আমি শিক্ষকতার পাশাপাশি পল্লী চিকিৎসকও। তবে আমি স্কুল ফাঁকি দেই না। স্কুলের আগে ও পরে বাজারে বসে চিকিৎসা করি। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সঠিক নয়। আপনারা গ্রামে এসে তদন্ত করে যান, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ আমার কথাই সঠিক বলবে।’
জামালগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল আলম ভুইয়া বলেন,‘কালীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যদি স্কুল ফাঁকি দিয়ে অন্য কোন পেশায় সময় দেন তাহলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা বলেন,‘শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। প্রাথমিক শিক্ষাই শিক্ষার মূল স্তম্ভ। শিক্ষকের বিদ্যালয়ের অনুপস্থিতির অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত পূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


