১৪ দিনের মাথায় এসে অনশন ভাঙলেন ওয়ালিদ আশরাফ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের আশ্বাসে শনিবার তিনি অনশন কর্মসূচি ত্যাগ করে বাসায় ফিরেছেন। এই কয়দিন তিনি জাতীয় মনযোগের কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করছিলেন। তাঁর অনশনের কারণ ছিল দ্রুত ডাকসু নির্বাচন দেয়ার জন্য। কর্তৃপক্ষ তাঁকে আশ্বস্থ করেছেন। ১৯৯০ সনের পর দেশ যখন কথিত স্বৈরাচারমুক্ত হয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন করল, দুর্ভাগ্যজনকভাবে তখন থেকেই বন্ধ হয়ে গেল ডাকসুসহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্রসংসদ নির্বাচন। জাতীয় রাজনীতিতে ছাত্র রাজনীতির গুরুত্ব ও ভূমিকা হ্রাস পেতে থাকল। এর মানে এই নয় যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র সংগঠনের দাপট কমে গেছে। যখন যে সরকার ক্ষমতায় ছিল তখন সেই সরকারের ছাত্র সংগঠন দাপট দেখিয়েছে ক্যাম্পাসে, ক্যাম্পাসের বাইরে। নির্বাচনকেন্দ্রীক ছাত্র সংগঠনগুলোর তৎপরতা না থাকায় মূল দলের লেজুরবৃত্তির বাইরে ছাত্র সংগঠনগুলো হয়ে উঠল ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থল। ছাত্র সংগঠনের নেতা উপনেতা পাতি নেতা সকলেই ব্যবসার পিছনে ছুটতে লাগলেন। এরা রাজনীতি ভুলে গেলেন, ছাত্র রাজনীতির ইতিহাস ঐতিহ্য ভুলে গেলেন। এরা হয়ে উঠলেন কতিপয় বড় নেতার গুণগ্রাহী, অন্ধ সমর্থক। এর ফলে ছাত্র সংগঠনগুলোতে জায়গা করে নেয় নানা ধরনের নেতিবাচক প্রপঞ্চ। মাস্তানি, খুনোখুনি, সন্ত্রাস, মাদক; সবকিছুই ছাত্র রাজনীতির কোলে লালিত হতে থাকল। সাধারণ ছাত্ররা অসহায় হয়ে গেলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো থেকে যোজন যোজন দূরে অবস্থান নিলেন প্রভাবশালী ছাত্র নেতৃবৃন্দ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব তৈরির প্রক্রিয়া রুদ্ধ হলো। এর যে জাতীয় প্রভাব সেটি ভুলে রইলেন জাতীয় নেতৃবৃন্দ। এখন মূল দলে নেতাদের প্রবেশ ঘটে বাণিজ্যকেন্দ্র থেকে, আগে এই সরবরাহ আসত ছাত্র রাজনীতি থেকে। সচেতন ব্যক্তি থেকে সাধারণ ছাত্র সমাজ বিভিন্নভাবে ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচন দাবি করে আসলেও কর্তৃপক্ষের নজর কাড়তে ব্যর্থ হয়। কেননা এই নির্বাচন ব্যবস্থা থাকলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনেক জোরা অতন্দ্র চোখ সজাগ পাহারায় থাকত শিক্ষার স্বার্থে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে। এখন এসব নেই। বিনা দ্বিধায় শিক্ষাকে দামি পণ্য বানিয়ে ফেলা সহজ হয়েছে। শিক্ষকের ক্লাস করার দরকার নেই, প্রাইভেট পড়িয়ে অর্থ উপার্জনের ধান্দায় থাকলেই চলে। কারণ প্রতিবাদ করবে কে? একজন ওয়ালিদ আশরাফ সকলের দাবি নিজ কণ্ঠে নিয়ে অবশেষে অনশনে বসে পড়লেন। আশ্বস্থ হয়ে তিনি অনশন ভেঙেছেন বটে কিন্তু তাঁর দাবিটি আদৌ কলকে পাবে কিনা সে নিয়ে সন্দেহের জায়গাটা এখন পর্যন্ত একইরকম ঝাপসা রয়ে গেছে।
আশ্চর্য কথা হলো বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গ সংগঠন বলে পরিচিত ছাত্র সংগঠনের কেউই ছাত্র সংসদ নির্বাচন দাবি করছে না। গুটিকয়েক বাম ছাত্র সংগঠন এই দাবি নিয়ে মাঝে মধ্যে বাতাস গরম করার চেষ্টা করে মাত্র। বিরাজনীতিকরণের এই যে ভয়াল বিশাল আয়োজন এককথায় সেটি হয়ে উঠছে জাতিবিধ্বংসী প্রক্রিয়া। নেতৃত্বকে মেধার হাত থেকে বিত্তের হাতে নিয়ে যাওয়ার এই অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে তাই ওয়ালিদের মত হাজার হাজার কণ্ঠ উচ্চকিত হতে হবে। কারণ এই ছাত্র রাজনীতির পথ ধরেই এ দেশের যাবতীয় আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছে। পাওয়া গেছে স্বাধীন রাষ্ট্র। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুততম সময়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করার জন্য আমরা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাই।
- দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি- সারাদেশে বিএনপির প্রতিবাদ বুধবার
- অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃংখলাবিধির গেজেট প্রকাশ

