শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি অভিভাবকদের

আকরাম উদ্দিন
প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষায় মনোযোগ হারাচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। করোনা পরিস্থিতির কারণে মাসের পর মাস বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্কুল বন্ধ থাকায় সারাক্ষণই বাসায় থাকছে শিশুরা। আসক্ত হয়ে পড়ছে মোবাইল এবং ইন্টারনেটের প্রতি। মনোযোগ হারাচ্ছে পড়াশুনার ক্ষেত্রে। এ নিয়ে অভিভাবকেরা পড়েছেন মারাত্মক বিপাকে। এই কারণে দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি তাঁদের।
একাধিক অভিভাবক জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টানা মাসের পর মাস বন্ধ থাকায় বাসা-বাড়িতে খেলাধুলাও ভাল লাগছে না শিশুদের। বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তাদের মন মানসিকতা। গৃহ শিক্ষক রেখে দিলেও লেখাপড়া করতে চায় না শিশুরা। তারা বলে স্কুল বন্ধ।
উচ্চবিদ্যালয় ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাড়ির পাশে দোকান ঘরে কেরম খেলা বা দাবা খেলা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এভাবে সময় কাটাতে গিয়ে কোনো কোনো শিক্ষার্থী তার পরিবার থেকে টাকা এনে খেলাধুলা করছে। কোনো কোনো শিক্ষার্থী বই ঘুচিয়ে সাধারণ মানের চাকুরি বা দোকানী ব্যবসার বেচাকেনায় যুক্ত হয়েছে। টাকা রোজগারের কারণে শিক্ষার্থীর অজান্তে শিক্ষা থেকে অনেক দুরে সরে যাচ্ছে। একজন পিতার ঘাম ঝরা অর্থ ব্যয়ে সন্তানের অর্জিত শিক্ষা ক্ষণে ক্ষণে ধুলিস্যাত হচ্ছে। পিতামাতার আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন নিরবে ম্লান হচ্ছে, এমন মন্তব্য একাধিক শিক্ষার্থী অভিভাবকের।
শিক্ষার্থী অভিভাবক সাজাউর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রাথমিক স্কুল বন্ধ থাকায় আমার নাতিরা ঘরে বসে বই খুলেও দেখতে চায় না। সারাদিন ঘরের ভেতরে দুষ্ঠুমীতে মেতে থাকে। আগে ডাক দিলে কথা শুনতো। এখন কথা তো শুনেই না বরং টাকা চায় বিস্কুট-চকোলেটের। ডাক দিলে আরও খরচ বাড়ে। টাকা না দিলে কেমন যেন বেপরোয়া আচরণ করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে এমনটি করতো না।
অভিভাবক আব্দুল হাই বলেন, আমার এক নাতি কলেজে পড়ে। কলেজ বন্ধ থাকায় দোকানে মাল বেচাকেনা করে। আরেক নাতি হাইস্কুলে পড়ে। সে বাড়ির কাজ করে। তাদের শিক্ষা করার যে মন তা ধীরে ধীরে নষ্ট হতে চলেছে। তাদের নিয়ে আমাদের বড় স্বপ্ন ছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমরা মারাত্মক দুশ্চিন্তায় আছি।
শিক্ষার্থী কামরান আহমদ বলেন, আমি একজন শিক্ষার্থী। শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি কাজ করছি। আমার এক ভাই নবম শ্রেণীতে পড়ে। আরেক ভাই অষ্টম শ্রেণীতে। স্কুল বন্ধ থাকায় বিপথগামী হওয়ার আশংকায় কাজে লাগিয়ে দিয়েছি। কিন্তু কাজে যুক্ত হওয়ায় লেখাপড়া করার মন ধরে রাখতে পারবে না। লেখাপড়া থেকে অনেকটা দুরে সরে যাচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি হারুন রশিদ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমরাও প্রায় অবসরে। এভাবে থাকায় আমরাও শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেকটা বিপর্যস্ত। তিনি বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরাও তাদের মা বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে কি না তা নিয়ে অনেক অভিভাবক দুশ্চিন্তায়। কিন্তু একজন শিশু শিক্ষার্থী ঘরে বসে বই খুলে দেখতেও চায় না। সারাদিন দুষ্ঠুমী করে ঘুরে বেড়ায়। প্রতিদিন ঘরে ও বাইরে শিক্ষা অর্জনে আসা-যাওয়ার যে রুটিন ছিল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তা ভুলে গেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের অভ্যাস অনেক পরিবর্তন হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী এখন লেখাপড়ার কথা শুনতেই চায় না। শিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রগতিতে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি আমাদেরও।