বিন্দু তালুকদার
সুনামগঞ্জের ডলুরা শুল্ক স্টেশন চালুর দাবি আলোর মুখ দেখেছে। অবশেষে খুব শিঘ্রই চালু হতে যাচ্ছে ডলুরা শুল্কস্টেশনটি। সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের পাতেরগাঁও মৌজার ডলুরা ও ভারতের মেঘালয়ের বালাট বাংলাদেশ সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার নং- ১২১২(৯-৫) এলাকায় শুল্ক স্টেশন চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
দ্রুত ডলুরা শুল্ক স্টেশনটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স, ছাতক এলসি স্টেশন ও ডলুরার রাজস্ব কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন সিলেটের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট।
গত ২০ জানুয়ারি সিলেটের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট মো. শফিকুল ইসলাম এক পত্রের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের আবগারী ও ভ্যাট বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা, সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স, ছাতক এলসি স্টেশন ও ডলুরার রাজস্ব কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। পত্রের অনুলিপি সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসককে দেয়া হয়েছে।
ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৯ সালের ঘোষণা অনুযায়ী ডলুরা সীমান্ত দিয়ে পণ্য আমদানী ও রপ্তানির লক্ষ্যে শুল্ক স্টেশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। তাই স্থল শুল্ক স্টেশনটি দ্রুত চালুকরণের উদ্দেশ্যে অবকাঠামোগত ব্যবস্থা, ৫ একর বা আরো বেশী জায়গা ক্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম চালুর জন্য দ্রুত অফিস ভাড়া গ্রহণের চুক্তিপত্রসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।
সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খায়রুল হুদা চপল বলেন,‘ ডলুরায় শুল্ক স্টেশন চালুর জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলাম। বাংলাদেশ ও ভারত সরকার শুল্ক স্টেশনটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন। দ্রুত শুল্ক স্টেশনটি চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আমরা চিঠি পেয়েছি। অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুতই ডলুরা শুল্ক স্টেশনটি চালু হবে এবং ব্যবসা বাণিজ্যের দ্বার উন্মোচিত হবে। ’
জানা যায়, ডলুরায় ১৯৯৯ সালে একবার পরীক্ষামূলকভাবে এক বছরের জন্য শুল্কবন্দর চালু করতে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হলেও সীমান্তের ওই পাড়ের আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মিত না হওয়ায় আমদানী রপ্তানী করা হয়নি। এর মধ্যেই (২০০৮ সালে) সীমান্তের ওপারের সড়ক নির্মাণ এবং এপারে নৌ ও সড়ক পথের সুবিধা হয়েছে। ডলুরায় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন পয়েন্ট স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। কাস্টম এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনার সিলেট অফিস থেকে এই বিষয়ে এক বছর আগেই ইতিবাচক রিপোর্ট দেওয়া হলেও এর কোন অগ্রগতি হচ্ছিল না। সর্বশেষ ১৭ ফেব্রুয়ারি ডলুরা শুল্ক স্টেশন পরিদর্শন করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. নজিবুর রহমান। এর আগে ৩১ জানুয়ারি ডলুরা বর্ডার হাটে সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোগে দুই দেশের কাস্টমস কর্মকর্তা ও শীর্ষ ব্যবসায়ীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ডলুরা শুল্কস্টেশনটি চালু করতে একমত পোষণ করেন।


