ইকবাল কাগজী
আমাদের দেশে মোরগেরা তাদের শরীরে উপস্থিত বহিরাগত কোনও উপাদান, যা স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর ও অস্বস্থির কারণ, সেটা থেকে রেহাই পেতে চায় এবং সে-জন্য তারা মাটির গর্তের ভেতরে শরীর নিমজ্জিত করে ধুলো মেখে নেয় এবং গর্ত থেকে বেরিয়ে শরীরকে প্রচ- শক্তিতে ঝাঁকিয়ে দিয়ে সেই ধুলো ঝেড়ে ফেলে, এইভাবে তাদের নিস্কৃতি ও স্বস্থি মেলে। জীবন বাঁচানোর এই জৈবিক প্রচেষ্টা এই জন্যেই মহত্বের গৌরবে সুশোভিত যে, এটি জীবনবিরোধিতার বিরুদ্ধে সক্রিয়। সুনামগঞ্জের নতুন শিল্পকলা একাডেমির ‘সৃজনশীল বাংলাদেশ : সুনামগঞ্জ লোকসংস্কৃতি সংগ্রহশালা’র প্রশস্ত ঘরে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী যে-শিল্পপ্রদর্শনীটি হচ্ছে, সে-টার নাম দেওয়া হয়েছে, ‘দলীয় শিল্পকর্ম প্রদর্শনী : অপ্রাকৃতপ্রকৃতি’ এবং লিখতে বসে শুনলাম প্রদর্শনীর সময় আরও দুই দিন বেড়েছে। এই প্রদর্শনীটি মোরগের ধুলো ঝাড়ার মতো একটি ঘটনা। কারণ, এই প্রদর্শনীটির পেছনে আছে দেশের শরীরে সংক্রমিত কভিড-১৯ ভাইরাসকে ঝাড়া দিয়ে ফেলে দেওয়ার মহৎ প্রয়াস, যাকে বলে, মহামারি কর্তৃক আরোপিত অচলায়তন ভেঙে জীবনের সচল-সজীবতায় ফিরে আসার আয়োজন। এইভাবে কল্পনা করে নিলে প্রদর্শনীটিকে ‘অপ্রাকৃতপ্রকৃতি’র শিল্পপ্রতিরূপ বলে স্বীকার করে নিতে মন সায় দেয় না, বরং মনে হয় এই প্রদর্শনীতে ‘অপ্রাকৃতপ্রকৃতি’ই প্রকৃত প্রকৃতি হয়ে উপস্থিত হয়েছে।
এই বিশ্লেষণটিকে বোঝা কারও পক্ষে যদি সহজ না হয় তবে আমি বলবো, আপনি প্রদর্শনীতে প্রবেশ করুন এবং সুনীল শুক্লার ‘অপরাজেয় বাংলা’র সামনে দাঁড়ান। মনে হবে একটি নিতান্ত বাজে, অপটু কাজ এবং তাই অশৈল্পিকতার চূড়ান্ত নামাস্তর। আপনি পিছিয়ে যান, বেশ কীছুটা দূর থেকে দৃষ্টি ফেলুন। তা হলেই আপনার হৃদবোধ হবে যে, শ্রীশুক্লা ‘অপরাজেয় বাংলা’কে আঁকতে নেমে পরাজিত হয়ে যান নি, তুলি হাতে নিশ্চিতভাবে অপরাজেয় থেকেছেন, যেমন ১৯৭১ সালে অস্ত্র হাতে অপরাজেয় ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। সেদিন আমরা সংগ্রাম করেছিলাম দেশের ভেতরে উপস্থিত পশ্চিমা ঔপনিবেশিক শত্রুর বিরুদ্ধে আর আজ সংগ্রাম করতে হচ্ছে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে। অন্যান্য রাজনীতিক-সামাজিক শত্রুর প্রসঙ্গ টানার এখানে কোনও অবকাশ নেই। কেবল বলি, এই প্রদর্শনীতে শিল্পীরা একজোট হয়েছেন, মনে হচ্ছে, সচেতন প্রচেষ্টায় করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে, যে-ভাইরাস আমাদের জাতীয় জীবনকে স্থবিরতার অতলে টেনে নিয়ে যেতে চাইছে তার বিরুদ্ধে এবং প্রকৃতপ্রস্তাবে এই প্রয়াসটি শিল্পীর সামাজিক দায়কে যুগপৎ প্রতিভাত ও প্রতিপন্ন করছে।
সুনামগঞ্জে চিত্রকর্মের প্রদর্শনী একেবারে হয় নি এমনটা কিন্তু নয়। প্রদর্শনীর ইতিহাস অনুসন্ধান করলে আগেও হয়েছে, তবে অঙ্গুলিমেয়। আর এবারের প্রদর্শনীটি হচ্ছে এমন এক সময়, যখন দেশে করোনাবিপর্যয়ের ক্রান্তিকাল চলছে। এদিক থেকে মহামারিসঞ্জাত জীবনের আচলায়তন ভাঙার শিল্পপ্রয়াস হিসেবে এই প্রদর্শনীর আলাদা একটি তাৎপর্য তো আছেই এবং সে তাৎপর্যটি প্রথমে কে উপলব্ধি করেছিলেন সে-টা স্থির নিশ্চত করে বোধ করি বলা যাবে না। তবে এটা স্বীকার করে নিতেই হবে যে, সাথী (ঋতুরূপা তালুকদার) নামের একজন প্রথমে উদযোগটির সূত্রপাত করেন এবং সাথে জুটিয়ে নেন ত্বিষা (তাফান্নুম কাগজী) ও ঈশাকে (ইরতিজা কাগজী)। এই তিনজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার ছাত্র। কদিন পরেই তাদের সঙ্গে যোগ দিলেন শুভ্র তালুকদার। ক্রমে আগ্রহ বাড়লো এবং পরে এক এক করে জুটতে থাকেন অন্যান্যরা। দেশে ও বিদেশে অবস্থান করছেন এমন শিল্পীরা এই উদযোগের সঙ্গে নিজেদেরকে সাগ্রহে সম্পৃক্ত করেন। সুনীল শুক্লা আমেরিকায় থাকেন, তিনি সম্পৃক্ত হয়েছেন, রোমেনা লেইসের সৌজন্যে। রোমেনা শ্রীশুক্লার এই চিত্রকর্মটি (পূর্বোক্ত ‘অপরাজেয় বাংলা’) উপহার পেয়েছিলেন শিল্পীর নিকট থেকে ১৯৭৪ সালে, তখন সুনামগঞ্জে নতুন রেস্ট হাউসে একটি চিত্রপ্রদর্শনী হয়েছিল, রোমেনা সেখানেই প্রথম দেখেন শ্রীশুক্লার চিত্রকর্ম। এই প্রচেষ্টার সঙ্গে আরও যাঁরা সম্পৃক্ত হয়েছেন তাঁরা হলেন হ্যারল্ড রাশিদ, স্বপন চৌধুরী (দীপেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী), রুনা লেইস, শুভ রায়, তারেক আমিন, জয়ন্ত কুমার তালুকদার, রতেœশ্বর সূত্রধর, মৃণাল বণিক, অরুণাদিত্য চক্রবর্তী, অমিত রায়, জয় তালুকদার, মাসুম ইমরান, অয়ন চৌধুরী, কারিশমা দেবী মনি ও প্রান্ত চন্দ। তাছাড়া আছেন কান্তা সরকার ও তন্দ্রা দাস। এই হিসেবে প্রদর্শনীতে শিল্পীর সংখ্যা সাকুল্যে দাঁড়ালো ২২ জন, যাঁদের সকলেই জন্মসূত্রে সুনামগঞ্জের লোক।
এদিকে সাথী, ত্বিষা, ঈশা ও শুভ্র এই চার শিল্পীর দৌড়ঝাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকে। প্রদর্শনীর টাকার জোগাড় চাই, প্রদর্শনীর ঠাঁই পাওয়া আরও জরুরি। সব আগে অভিভাবকসুলভ সর্বাত্মক সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন মেয়র নাদের বখ্ত, তাঁর তুলনা হয় না । তারপর একে একে নুরুল হুদা মুকুট, পীর ফজলুর রহমান মিজবাহ, খায়রুল হুদা চপল, খন্দকার মঞ্জুর আহমেদ, আনসারুল হক বাবু এই উদযোগের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে প্রয়াসটিকে ক্রমে সাফল্যের দোর গোড়ায় নিয়ে গিয়ে সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশে অবদান রেখেছেন। তাছাড়া এই উদযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন এবং প্রদর্শনীর সফলতার নিশ্চয়তা বিধানে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন হক অফসেট প্রেসের সত্ত্বাধিকারী জিয়াউল হক। আরও দু’জন আছেন তাঁরা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আবেদীন ও কালচারাল অফিসার আহমেদ মনজুরুল হক চৌধুরী পাভেল।
প্রদর্শনীকক্ষে ঢুকে শিল্পকর্মের দিকে নয়ন নিবদ্ধ করে মনে হলো, সবিনয়ে স্বীকার করে নেয়া সমীচীন যে, আসলেই যাকে বলে শিল্পবোদ্ধা তেমন প্রাজ্ঞ কেউ আমি নই। সুতরাং শিল্পসমালোচনা দিল্লি দূরস্থ, এই যাকে বলে, শিল্পালোচনা করা বা সে-সম্পর্কে কোনও বিজ্ঞোচিত মতামত প্রকাশের অধিকারও আমার নেই এবং সে-প্রাজ্ঞতা প্রদর্শনের পথে পা রাখা আমার পক্ষে কীছুতেই সম্ভব নয়, বরং যে-টা সম্ভব সে-টা হলো একজন সাধারণ দর্শক হিসেবে যা দেখেছি এবং দেখে মনের মধ্যে যে-বোধ কুসুমিত হয়েছে তার একটা বয়ার্ণনার (বয়ান+বর্ণনা) ভাষাভাবানুবাদ করে আপতত আরোপিত দায় সারতে পারি কেবল। স্থূলার্থে দায়টা হলো, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের পক্ষ থেকে মাহবুবুল হক শাহীন আগেই বলে দিয়েছেন, প্রদর্শনী নিয়ে লিখতে হবে কিন্তু।
প্রদর্শনীটি যতোই সীমিতাকারের হোক না কেন গোনাগোনতিতে কাজের পরিমাণ একবারে কম নয়। ইরতিজা কাগজীর কাজই আছে ৭৯টি। পছন্দের গান শুনতে শুনতে, বিশেষ করে ‘বিটিএস’-এর গান তাঁর প্রচ- প্রিয়, কল্পনায় যে-চিত্র ভেসে উঠেছে তারই চিত্রায়ান করেছেন পোস্টার কালারে সঙ্গে কোলাজের মিশ্রণে এবং ‘অপ্রাকৃতপ্রকৃতি’কে কিংবা বলা যায় বিমূর্তকে মূর্তায়িত করতে করতে সিরিজটির নাম দিয়েছেন, ‘গল্প’। ঘরের তিন দেওয়ালে বিমূর্ত কিংবা আধাবিমূর্ত, নির্বস্তুক কিংবা অবয়বধর্মী শিল্পশৈলিতার শিল্পকর্ম সেঁটে রেখে তারপর ঘরের মাঝখানে চারটি টেবিলেও চিত্রকর্ম শুইয়ে রাখা হয়েছে। সাকুল্যে ২২ জনের কাজ। কাজের মাধ্যমগুলো প্রায়ই ভিন্ন ভিন্ন। জলরঙ কিংবা তেলরঙের সঙ্গে যেমন আছে কর্দম, তেমনি আছে এক্রাইলিক, পোস্টার কালার, এচিং (নকশা কাটা), কাঠখোদাই, কাগজের জমিনে পেনসিলের কিংবা কালিকলমের বিচিত্রধর্মী কাজ। সম্ভবত সাকুল্যে পৌনে দুই শতের উপরে হবে। এর মধ্যে অনেক কাজকেই আমার কাছে ভালো লেগেছে। লেখার সীমিত পরিসর সাপেক্ষে সব ক’টি ভালো লাগা কাজ নিয়ে বলার এখানে অবকাশ নেই। সহজে মনকে আকর্ষণ করে এমন দু’টি কাজের কথা বলি। একটি রতেœশ্বর সূত্রধরের ক্যানভাসের উপর এক্রাইলিকÑ নাম ‘ওয়াটার লিলি’, অন্যটি মৃণাল বণিকের জলরঙÑ নাম ‘বিউটি অব হাওর’। আসলে দু’টিই হাওর নিয়ে। সুনামগঞ্জের হাওরে প্রকৃতির পারদরঙ্গম (পারদর্শী+পারঙ্গম) তুলি যে-অপরিসীম নান্দনিকতাকে মূর্ত করে তোলে তারই সার্থক চিত্ররূপায়ণ, উচ্চাঙ্গের শিল্পবোদ্ধা না হয়েও সাধারণ দর্শকের ধারণায় অতুলনীয় তো বটেই, এমনকি মনে রাখার মতো অপরূপ। তাঁরা দু’জনই যে সুনামগঞ্জের জলজসংস্কৃতির মানুষ এবং তাঁদের আত্মতা গঠিত হয়েছে সুনামগঞ্জের প্রকৃতির অপৌরুষেয় শিল্পীর হাতের করণকৌশলে এই কাজ দু’টি সে-খবরটিও শিল্পসমজদারকে জনান্তিকে জানিয়ে দেয়।
যে-কোনও দর্শক একটি কাজকে আলাদা করতে পারবেন, অন্য কাজগুলো থেকে। কাজটি জয়ন্ত কুমার তালুকদারের, নাম ‘রাজকন্যা’। পিতার সঙ্গে কন্যার অন্তরঙ্গ মুহূর্তর চিত্রের পিভিসি এনগ্লোভিং (কাঠখোদাই) পদ্ধতির শৈল্পিক সৃষ্টি। পিতা শেখ মুজিবুর রহমান আর কন্যা শেখ হাসিনা। ছবিটি বাংলাদেশে ভীষণ বিখ্যাত ও সুপরিচিত। জাতীয় ইতিহাস চাপা দেওয়াটা যে-দেশে শাসন-শোষণের রাজত্ব বিস্তারের রাজনীতিক করণকৌশল হয়ে উঠে, সে-দেশে ইতিহাস সচেতন শিল্পীর ঘাড়ে এইভাবে জাতির পিতা ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে শিল্পকর্ম সৃষ্টির ঐতিহাসিক দায় বর্তায় অনিবার্যভাবে, যাতে দেশের ইতিহাস হরিয়ে না যায়। যদিও এমন জাতীয় দায়িত্ব পালনের আছে হাজারটা প্রকারপ্রকৃতি। দেশের প্রতিটি শিল্পীকে সে-মহৎ দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসতে হবে। এই কাজটির শৈল্পিক নান্দনিকতার পরমপ্রকর্ষকে বিবেচনার মাপকাঠি আমার আধিকারে নেই, স্বীকার করছি, কিন্তু শিল্পীর চিৎপ্রাকর্ষিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে, মনে হয়েছে শিল্পীর সৃষ্ট শিল্প মহৎ ও পূর্ণ হলে শিল্পী মহতেরও অধিক কীছু এবং পরিপূর্ণ।
তারেক আমিন, তাঁর কাজ দেখেই কেন জানি সহজেই মনে হয় তিনি আপাদমস্তক শিল্পী। তাঁর কালিকলমে সাদাকালোয় করা কাজের নাম ‘সুয়ারিঘাট’। একটি জটিল কাজ। একদিকে কাঠের টুমের (কর্তিত কা-) স্তূপ, অন্যদিকে লোকেরা কী জানি কাজ করছে, একদিকে টংঘরের মতো স্থাপনা ইত্যাদি বাদে ইয়াত্তাহীন অনেক কীছুর জটলা। আঁকার বাস্তবতাটা বড় কায়া থেকে ছোট হতে হতে কণা কিংবা অণু কায় পর্যন্ত, সবক’টি অর্থাৎ গোনতিতে হাজারে বিজারে বিশৃঙ্খল কায়াকেই রেখার বয়নশৃঙ্খলে প্রতিরূপ দিতে হবে। চিত্রটি দেখে স্বাভাবিক বুদ্ধিতেই বুঝতে পারি, এই আঁকার কেরদারিশমার (কেরদানি+কারিশমা) কোনও সীমা নেই, অবাক হতে হয় বাইকি।
এর বাইরে সকল কাজকে প্রশংসা করা না গেলেও সেগুলো যে ফেলনা কীছু নয় তা বলতেই হবে। এইসব কাজের মধ্যেও নজর কাড়ার মতো ভালো কোনও কাজ নেই, বলা যাবে না। যেমন তন্দ্রা দাসের অর্ধায়বব তিন নারী, নাম ‘ত্রিনিটি’, ‘ত্রিমূর্তি’ও হতে পারতো। দূর থেকে দেখলে ভারী জীবন্ত মনে হয়।
সব শেষে একজনের কথা বলতেই হয়। তিনি এ শহরেরই এক স্বেচ্ছানির্বাসিত শিল্পী। তাঁর আঁকা এককথায় নান্দনিক দু’টি মুখ দেখতে পেলাম। আঁকায় পরিপক্কতার ছাপ। প্রদর্শিত ছবির পাশে শিল্পীর নাম লেখা নেই। আয়োজকদের তালিকা পুস্তকে ছাপা একটি ছবির পাশে শিল্পীর নাম শুভ রায়, চিত্রটির নাম ‘মুক্তিযোদ্ধা’। দেখে নিশ্চিত হওয়া গেলো দেওয়ালে সাঁটানো দুই খ- চিত্রকর্মের পাশে নাম লেখা নেই যার তিনিই শুভ। তাঁকে স্বেচ্ছানির্বাসন ভাঙার জন্যে অভিনন্দন। অন্তত মাঝেমধ্যে এভাবে শিল্পসুষমা বিতরণের ভেতর দিয়ে তাঁকে আমরা আমাদের সঙ্গে পেতে চাই। এই মওকায় বলি, আর যাকে প্রদর্শনীতে বেশি করে পেত ইচ্ছে করেছিল, তাঁর কোনও চিত্রকর্ম নেই। তিনি বিখ্যাত ধ্রুব এষ। বাক্যে সাজানো চিত্রকল্পকে লোকে কবিতা বলে। আর চিত্ররূপে সাজানো চিত্রকল্পকে অর্থাৎ ছবির কবিতাকে কেউ কেউ বলেন ছবিতা। ছবিতার প্রদর্শনী ‘অপ্রাকৃতপ্রতিকৃতি’ থেকে বেরোবার সময় ধ্রুব এষকে না পাওয়ার হাহাকারটা আঁটালির মতো এঁটে রইলো মনের ভেতরে।


