‘শিশুটি যখন মৃত্যু যন্ত্রণায় ডাক্তার নার্স তখন ঘুমে’

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলায় তিন মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ভর্তিকৃত শিশুর গ্রামের বাড়িও ভুল ঠিকানায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডায়েরীতে লেখা হয়েছে।
অবহেলায় মৃত্যুর শিকার শিশুর স্বজন ও অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, গত ১৩ জানুয়ারি জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাঘময়না গ্রামের জিয়াউর রহমান তাঁর সাড়ে তিন মাসের শিশু আমান রহমান হঠাৎ করে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন তাকে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে বহি: বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা: সাহাদ হোসেন বলেন, চিন্তার কারণ নেই, সামান্য শ্বাসকষ্ট হয়েছে। গ্যাস দেয়ার পর ঠিক হয়ে যাবে।
পরে জরুরী বিভাগে গ্যাস দেয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলে শিশুটিকে ভর্তি করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। এরপর শিশুটিকে শিশু বিভাগে ভর্তি করে বেলা একটার দিকে শিশু বিভাগের নার্স টিংকু আচার্য্য শিশুকে শরীরে ক্যানেলা লাগিয়ে ৬টি ইনজেকশন পুশ করেন। রাত ১২টার দিকে শিশুটির অবস্থার চরম অবনতি হলে সঙ্গে থাকা পরিবারের লোকজন জরুরীবিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা: নামজুল সাদাতসহ কর্মরত কোন নার্সকে অনেক খোঁজাখুজি করেও পাওয়া যায়নি। এক পযার্য়ে শিশুটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। শিশুর বাবা জিয়াউর রহমান বলেন, ডাক্তার নার্সদের গাফিলতির কারণে আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্বহীনতার কারণে আমাদের ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।
শিশুর চাচা সালেহ আহমদ বলেন, শিশুর যখন মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করছিল ডাক্তার আর নার্স তখন নিজ নিজ বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। চিকিৎসক নার্সদের যেন কোন দায়িত্ব নেই।
এব্যাপারে অভিযুক্ত নার্স টিংকুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই শিশুর চিকিৎসার সময় আমি ছিলাম না। ওই সময় কোন নার্স তাঁর সঙ্গে ছিলেন এমন প্রশ্ন তাঁকে করা হলে তিনি বলেন, তিনি কিছু জানেন না।
ওই দিন জরুরী বিভাগে দায়িত্বে থাকা ডা: নাজমুল সাদাত বলেন, রাত আটটায় আমি শিশুটিকে দেখে এসেছি। শিশুর অবস্থার অবনতি হলে আমরা তার পরিবারকে বলেছি সিলেটে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এরপর রাত দুইটার দিকে শিশুটি মারা যায়।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (চা:দা:) ডাক্তার খায়কুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।