শিশুবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে পুলিশের ভূমিকা অনেক

স্টাফ রিপোর্টার
শিশু আইনে শিশুদের সুরক্ষা করতে এবং শিশুবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে আইনে ওসিদের অসীম ক্ষমতা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিন।
সোমবার বিকেলে জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে বিচার বিভাগ সুনামগঞ্জের উদ্যোগে শিশু আইন ২০১৩ বাস্তবায়ন বিষয়ক সমন্বয় সভায় তিনি এই কথা জানান।
তিনি বলেন, আজকের এই সভার উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী শিশুদের সুরক্ষা বাস্তবায়নে শিশু সংশ্লিষ্ট আমাদের বিভিন্ন কর্মকর্তারা যারা আছেন তাদের মধ্যে যে যোগাযোগ ঘাটতি আছে তা কমানো। আমাদের সবার আগে শিশুবান্ধব আদালত এবং পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শিশুবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশের ভূমিকা অনেক। একজন ওসি চাইলে ছোট খাটো অপরাধে অভিযুক্ত শিশুকে আটক করার পর আদালতে উপস্থাপন না করে মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দিতে পারেন। শিশু আইনে সেই ক্ষমতা দেয়া আছে। যা চাইলেও একজন ম্যাজিস্ট্রেট দিতে পারেন না। তবে শর্ত থাকবে পরবর্তী তারিখে আদালতে শিশুকে হাজির হতে হবে। একটি শিশুর শুধুমাত্র ১৬৪ ধারায় রেকর্ডকৃত জবানবন্দির উপর ভিত্তি করে চার্জশিট দেয়া যাবে না। রেকর্ড করার সময় অবশ্যই শিশুর অভিভাবক বা প্রবেশন কর্মকর্তা থাকতে হবে। রেকর্ডকৃত জবানবন্দির সাথে মেডিকেল রিপোর্ট, মেটারিয়াল এভিডেন্স বা যে কোন সাপোর্ট এভিডেন্স বা প্রকৃত প্রমাণ লাগবে।
সমন্বয় সভায় এসসিজেসেসিপিবি সিলেট বিভাগের কো-অর্ডিনেটর নুর উদ্দিন মামুনের সঞ্চালনায় জেলা নারী ও শিশু দমন নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন বলেন, সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের পেলে আদালতে হাজির করতে হবে না। প্রথম কাজ হচ্ছে তাদের প্রবেশন কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যাওয়া। যদি কোনো বিপত্তি ঘটে তাহলে কোর্টের কাছে আনা। কোন সংঘাত বা অপরাধমূলক কাজে শিশুদের গ্রেফতার করলে হাতকড়া বা দড়ি দিয়ে বাঁধা যাবে না। শিশুদের নামে মামলা হলে তার বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে পুলিশকে অধিক সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যেন পূর্ণবয়ষ্ক কেউ শিশু আইনের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারে।
আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত স্ট্রেংদেনিং ক্যাপাসিটি অব জুডিসিয়াল সিস্টেম ফর চাইল্ড প্রটেকশন ইন বাংলাদেশ (এসসিজেএসসিপিবি) প্রকল্প এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুকন উদ্দিন কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুচিত্রা রায়, সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন সহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। এর আগে শিশু আইন নিয়ে দুটি ভিডিও ডকুমেন্টস উপস্থাপন করেন প্রোগ্রাম অফিসার মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।
সমন্বয় সভায় জেলার বিভিন্ন আদালতের জজ ও ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, শিশু বিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা, জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।